Hyundai Bayon-এর ছবিতে ধরা পড়ল নজরকাড়া ডিজাইন
গুরুগাঁও: Hyundai-র নতুন কমপ্যাক্ট SUV Bayon ভারতের বাজারে ১০ লক্ষ টাকা থেকে লঞ্চ হয়েছে। Hyundai Venue ও Creta-র মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা এই SUV-তে যেমন আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রিমিয়াম ফিচার রয়েছে, তেমনই ডিজাইনের ক্ষেত্রে রাখা হয়েছে আলাদা পরিচয়। পেশিবহুল বডি, নজরকাড়া LED লাইটিং এবং অভিনব ড্যাশবোর্ডের কারণে গাড়িটি Hyundai-র পরিচিত SUV-গুলির থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। বাইরের ডিজাইন থেকে শুরু করে কেবিনের বিন্যাস, সব মিলিয়ে ১৮টি বাস্তব ছবিতে দেখে নেওয়া যাক নতুন Hyundai Bayon-কে।
সামনের ডিজাইনে নজরকাড়া LED লাইটিং
Hyundai Bayon-এর সামনের অংশে রয়েছে উঁচু বনেট, ধারালো ডিজাইন এবং পেশিবহুল বাম্পার। উপরের দিকে সরু LED ডে-টাইম রানিং লাইট বা DRL বসানো হয়েছে। মূল LED হেডল্যাম্প রয়েছে তার নীচে। লাইটের চারপাশে কালো ট্রিম এবং বনেটে Hyundai-র লোগো সামনের ডিজাইনে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
সামনের বাম্পারের নীচে সিলভার স্কিড প্লেট SUV-টির রাগেড লুক আরও জোরালো করেছে। সব মিলিয়ে, Bayon-এর সামনের ডিজাইনে আধুনিকতার সঙ্গে শক্তপোক্ত চেহারার সমন্বয় দেখা যায়।
পাশের অংশে ১৭ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল
গাড়ির পাশের অংশে রয়েছে মোটা বডি ক্ল্যাডিং এবং শরীরজুড়ে ভাস্কর্যধর্মী ডিজাইনের প্যানেল। এই নকশা Bayon-কে আরও পেশিবহুল চেহারা দিয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ১৭ ইঞ্চির ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে কালো রঙের রুফ রেল, ORVM-এ সংযুক্ত LED টার্ন ইন্ডিকেটর, শার্ক-ফিন অ্যান্টেনা, বডি-কালারের ডোর হ্যান্ডল এবং কালো B-পিলার। এই উপাদানগুলি SUV-টির বাহ্যিক ডিজাইনে স্পোর্টি ভাব এনে দিয়েছে।
পিছনের ডিজাইনেও আলাদা পরিচয়
Hyundai Bayon-এর পিছনে রয়েছে LED টেলল্যাম্প, যার ডিজাইনে সামনের DRL-এর সঙ্গে মিল রাখা হয়েছে। স্কোয়ারড-অফ টেলগেটে Hyundai ও Bayon-এর ব্যাজিং রয়েছে। পাশাপাশি ইন্টিগ্রেটেড রুফ স্পয়লার গাড়িটির স্পোর্টি চেহারা আরও বাড়িয়েছে।
পিছনের বাম্পারেও পেশিবহুল নকশা এবং সিলভার স্কিড প্লেট রয়েছে। রিভার্স লাইট বাম্পারের ডিজাইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বসানো হয়েছে। সামনের ও পিছনের ডিজাইনে একই ধরনের নকশার ভাষা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে Hyundai।
কেবিনে ডুয়াল ডিসপ্লে ও অভিনব নকশা
Hyundai Bayon-এর কেবিনের বিন্যাস সংস্থার অন্যান্য মডেলের তুলনায় আলাদা। এতে রয়েছে ডুয়াল-টোন রঙের থিম এবং বাঁকানো ডিজাইনের ডুয়াল-ডিসপ্লে সেটআপ। ড্যাশবোর্ডের এই বিন্যাস গাড়ির ভিতরে আধুনিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
কেবিনে সরু, উল্লম্ব AC ভেন্ট দেওয়া হয়েছে। এই ভেন্টগুলির মাঝখানে রয়েছে অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল প্যানেল। বাঁকানো ডিসপ্লে সেটআপে ইনফোটেনমেন্ট টাচস্ক্রিন ও ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে রয়েছে, যাতে গাড়ি চালানোর সময় প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখা যায়।
কেবিনের ভিতরে গোলাকার ডিজাইনেরও ব্যবহার রয়েছে। ভিতরের দরজার হ্যান্ডল ও স্পিকারগুলির নকশা ড্যাশবোর্ড এবং দরজার প্যানেল থেকে আলাদা করে নজর কাড়ে। স্টিয়ারিং হুইলের ডিজাইন Hyundai Venue ও Verna-র সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে এতে Hyundai-র লোগোকে Morse code-ধাঁচের নকশায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কেবিনে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে।

দুই ধরনের কেবিন রঙের বিকল্প
একক রঙের বাইরের বডি-কালার বেছে নিলে Hyundai Bayon-এ ধূসর ও সাদা রঙের ডুয়াল-টোন কেবিন পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রঙের সমন্বয় কেবিনকে উজ্জ্বল ও খোলামেলা অনুভূতি দিতে পারে।
অন্যদিকে, ম্যাট এবং ডুয়াল-টোন এক্সটেরিয়ার রঙের সঙ্গে কালো কেবিন ও লাল কনট্রাস্ট স্টিচিংয়ের বিকল্প রয়েছে। এই বিন্যাস তুলনামূলক স্পোর্টি চেহারা দেয়। কালো কেবিনে হালকা রঙের তুলনায় দাগছোপ কম চোখে পড়তে পারে, যদিও পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন।
ফিচার ও নিরাপত্তায় কী রয়েছে?
Hyundai Bayon-এ রয়েছে ১২.৩ ইঞ্চির ইনফোটেনমেন্ট টাচস্ক্রিন এবং ১২.৩ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে। পাশাপাশি রয়েছে উল্লম্বভাবে সাজানো অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল প্যানেল, সামনের সারির ভেন্টিলেটেড আসন, অটো-ডিমিং IRVM, প্যানোরামিক সানরুফ এবং আটটি স্পিকার-সহ BOSE সাউন্ড সিস্টেম।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রয়েছে সামনে ও পিছনে পার্কিং সেন্সর, অটো হোল্ড-সহ ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক, ছয়টি এয়ারব্যাগ, ISOFIX চাইল্ড-সিট অ্যাঙ্কর এবং টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম বা TPMS।
এ ছাড়াও Bayon-এ Level-2 ADAS রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, অটোমেটিক হাই-বিম অ্যাসিস্ট, অটোমেটিক ইমার্জেন্সি ব্রেকিং এবং লেন-কিপ অ্যাসিস্টের মতো চালক-সহায়ক প্রযুক্তি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িতে অটো হেডল্যাম্প, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং ব্লাইন্ড-ভিউ মনিটরিংও রয়েছে।
একটিই পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্প
Hyundai Bayon-এ ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। একই ইঞ্জিন Hyundai Creta-তেও পাওয়া যায়। ইঞ্জিনটির স্পেসিফিকেশন হল:
- ইঞ্জিন: ১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল
- সর্বোচ্চ শক্তি: ১১৫ PS
- সর্বোচ্চ টর্ক: ১৪৪ Nm
- গিয়ারবক্স: ৬-স্পিড ম্যানুয়াল অথবা CVT অটোমেটিক
অর্থাৎ, ক্রেতারা ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক, দুই ধরনের গিয়ারবক্সের মধ্যে বেছে নিতে পারবেন। তবে এই মডেলে আলাদা টার্বো-পেট্রল বা ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প দেওয়া হয়নি বলে সরবরাহ করা তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
দাম ও প্রতিদ্বন্দ্বী
ভারতে Hyundai Bayon-এর এক্স-শোরুম দাম ১০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। Hyundai-র কমপ্যাক্ট SUV লাইনআপে এটি Venue ও Creta-র মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।
বাজারে গাড়িটির প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে Kia Seltos, Renault Duster, Skoda Kushaq, Volkswagen Taigun, Maruti Suzuki Victoris, Maruti Suzuki Grand Vitara, Toyota Urban Cruiser Hyryder, Nissan Tekton, Tata Sierra, Citroen Aircross X, Honda Elevate এবং MG Astor।
যাঁরা আধুনিক প্রযুক্তি, বড় ডিসপ্লে, উন্নত চালক-সহায়ক ব্যবস্থা এবং আলাদা ডিজাইনের SUV খুঁজছেন, তাঁদের কাছে Hyundai Bayon একটি বিবেচ্য বিকল্প হতে পারে। তবে কেনার আগে ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ফিচার, অন-রোড দাম এবং টেস্ট ড্রাইভের অভিজ্ঞতা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business