কর্মসংস্থানে জোর আদানি গোষ্ঠীর উদ্যোগে বাংলা জুড়ে স্কিল ট্রেনিং সেন্টার
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজের কর্মসংস্থানের (Skill Training)সুযোগ বাড়াতে রাজ্য সরকার বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে চলেছে। এর মধ্যে আদানি গোষ্ঠীও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজের কর্মসংস্থানের (Skill Training)সুযোগ বাড়াতে রাজ্য সরকার বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে চলেছে। এর মধ্যে আদানি গোষ্ঠীও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী যুবকদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং কোর্স শেষে চাকরির সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হবে।
রবিবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য প্রস্তুত করতে স্কিল ট্রেনিংয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আদানি গোষ্ঠীসহ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে যাতে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেয় এবং পরে চাকরির সুযোগ করে দেয়। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আদানি গোষ্ঠীর মাধ্যমে রাজ্যে কয়েকটি স্কিল সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে।
আরও দেখুনঃ শিল্প থেকে কর্মসংস্থান পশ্চিম বর্ধমানে ময়রা কয়লা খনিতে ৫০০ কোটি বিনিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের
এছাড়া কেন্দ্রের পিএম সেতু প্রকল্পের (Skill Training)আওতায় রাজ্যের ৫১টি সরকারি আইটিআই বেসরকারি কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পগোষ্ঠীগুলো এসব প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো আধুনিক করবে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম তৈরি করবে। নবান্নের এক আধিকারিক জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোই পাঠ্যক্রম তৈরি করবে যাতে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্প উন্নয়নের কাজ ইতিমধ্যে কয়েকটি জায়গায় শুরু হয়েছে। ভূমিপূজনের পর প্রকল্পগুলো এগোচ্ছে। প্রতি মাসে নতুন শিল্প উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকেও স্বাগত জানানো হয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং রাজ্য ও জাতীয় স্তরের বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসছে।
তবে প্রশিক্ষণের পর চাকরি নিশ্চিত নয়, এটি একটি লক্ষ্যমাত্রা। (Skill Training)সরকার চাইছে যুবকরা শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ হয়ে উঠুক যাতে চাকরির সুযোগ বাড়ে। আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে এই সহযোগিতা রাজ্যের স্কিল ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় যুবসমাজের কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত প্রশিক্ষণ থাকলে যুবকরা বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। একইসঙ্গে আইটিআইগুলোর আধুনিকীকরণে বেসরকারি অংশগ্রহণ পরিকাঠামো উন্নয়নে সাহায্য করবে।
রাজ্য সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। নতুন প্রকল্পগুলো চালু হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আনতেও সরকার সক্রিয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রতি মাসেই নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকে।
যুবসমাজের মধ্যে এই ঘোষণা আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করছেন, শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রশিক্ষণ তাদের চাকরির সম্ভাবনা বাড়াবে। তবে সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। চুক্তিগুলো চূড়ান্ত হলে এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো চালু হলে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠবে।