অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্য! ‘অভিযোগ খারিজ, সুলতানপুর আদালতে বড় স্বস্তি রাহুলের
নয়াদিল্লি/সুলতানপুর: দীর্ঘ আট বছর আইনি লড়াইয়ের পর মানহানি মামলা থেকে বড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের একটি…
নয়াদিল্লি/সুলতানপুর: দীর্ঘ আট বছর আইনি লড়াইয়ের পর মানহানি মামলা থেকে বড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের একটি বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে নিয়ে করা তাঁর মন্তব্য সংক্রান্ত মানহানি মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। এদিনের এই রায়ের ফলে কংগ্রেস শিবিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে।
আদালতের রায় শুনতে লখনউ থেকে সড়কপথে সুলতানপুর যাওয়ার পথেই ঘটে যায় বড় বিপত্তি। সোমবার সকালে পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের ৯১ কিলোমিটার মাইলফলকের কাছে রাহুল গান্ধীর কনভয়ের কয়েকটি গাড়ির সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী এবং নিরাপত্তারক্ষী আহত হন। তবে সৌভাগ্যবশত, রাহুল গান্ধী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন এবং যে গাড়িতে তিনি ছিলেন সেটি এই সংঘর্ষের কবলে পড়েনি। লখনউ বিমানবন্দরে সংবর্ধনা নেওয়ার পর সুলতানপুর আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথেই এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে।
কী ছিল সুলতানপুরের মানহানি মামলাটি?
২০১৮ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ৮ মে বেঙ্গালুরুর একটি র্যালিতে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে, এমন একজন সভাপতি দ্বারা বিজেপি পরিচালিত হচ্ছে যিনি একটি হত্যা মামলার অভিযুক্ত। ২০০৫ সালের সোহরাবুদ্দিন শেখ ভুয়ো সংঘর্ষ মামলার প্রসঙ্গের টানে এই মন্তব্য করা হয়েছিল, যে মামলা থেকে ২০১৪ সালেই বিশেষ সিবিআই আদালত অমিত শাহকে অব্যাহতি দিয়েছিল।
এই মন্তব্যের জেরে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট সুলতানপুরের ডিস্ট্রিক্ট কোঅপারেটিভ ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই ধরনের মন্তব্য মানহানিকর এবং তা অমিত শাহের সুনামে আঘাত হেনেছে।
মামলার গতিপ্রকৃতি ও রায়দান
নভেম্বর ২০২৩-এ সুলতানপুর আদালত রাহুল গান্ধীকে হাজিরা দেওয়ার সমন জারি করে। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪-এ তিনি আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে বন্ড জমা দিয়ে জামিন নেন। তাঁর আইনজীবী জানান, রাহুল গান্ধী প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন। মামলার শুনানিপর্বে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয় এবং পরবর্তীতে সাক্ষী গ্রহণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলে। এদিকে মামলার বাদী পক্ষ রাহুলের কণ্ঠস্বরের নমুনা মেলানোর আবেদন করলেও, ২০২৬ সালের মে মাসে বিচার আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও যুক্তিতর্ক শেষে ২৬ অক্টোবর রায়দানের দিন ধার্য করে আদালত এবং শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ করে দেওয়ায় আইনি ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি পেলেন কংগ্রেস নেতা।
রাহুল গান্ধীর কনভয়ে ধাক্কা! কেমন আছেন কংগ্রেস সাংসদ?
মোদী রাজ্যে বিএসএফের অভিযানে ধৃত ৪ পাকিস্তানি মৎস্যজীবী! বাজেয়াপ্ত মাছ ধরার নৌকা