ভারতের রাস্তায় হাঁটছে ফ্রান্স! এক রাতেই গ্রেফতার ১০০০ চলছে লাঠিচার্জ
প্যারিস: ফ্রান্স ও স্পেনের রাস্তায় গতকাল রাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।(France Protests) প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ বেঁধেছে, আর বার্সেলোনায় আলাদা এক ঘটনায়…
প্যারিস: ফ্রান্স ও স্পেনের রাস্তায় গতকাল রাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।(France Protests) প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ বেঁধেছে, আর বার্সেলোনায় আলাদা এক ঘটনায় দোকান লুট ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ হস্তক্ষেপ করে শত শত মানুষকে গ্রেফতার করেছে।
ফ্রান্সে শনিবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও স্কুল ব্যবস্থার অবনতির প্রতিবাদে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। সরকারি হিসাবে প্রায় চার লাখ দশ হাজার মানুষ অংশ নেন, যদিও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর দাবি সংখ্যা তার দ্বিগুণ। প্যারিসে এক লাখ দশ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণ মিছিল করেন। তবে মিছিল শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মুখোশ পরা কিছু যুবক পুলিশের দিকে পাথর ও বোতল ছুড়তে শুরু করে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস, ওয়াটার ক্যানন ও ব্যাটন চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
আরও দেখুনঃ জুটবে না পেটের ভাত! মার্কিন চাপে নতি স্বীকার করে দেশের মানুষকেই বলি দিল পাকিস্তান
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, প্রায় এক হাজার মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বলেন, মিছিলের পেছনে কয়েক হাজার উগ্রপন্থী জড়ো হয়েছিল, যাদের মধ্যে প্রায় পাঁচশ জনকে দাঙ্গাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মার্সেই, লিয়ন, বোর্দোসহ অন্যান্য শহরেও ব্যারিকেড জ্বালানো ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, আগের সপ্তাহের তুলনায় হিংসা কম ছিল, কারণ এবার সত্তর হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
কিছু বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেছেন যে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।(France Protests) এক বিক্ষোভকারী এএফপিকে বলেন, পুলিশ সবাইকে আক্রমণ করেছে এবং ব্যাটন দিয়ে মারধর করেছে। আগের সপ্তাহগুলোতেও নাবালকদের ওপর পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, যারা সহিংসতা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে স্পেনের বার্সেলোনায় পরিস্থিতি আলাদা। সামাজিক মাধ্যমে ‘অ্যান্টি-সিস্টেম’ স্লোগান দিয়ে ডাকা এক সমাবেশ সহিংসতায় রূপ নেয়। হুড পরা বিক্ষোভকারীরা শহরের কেন্দ্রীয় প্লাজা দে কাতালুনিয়া ও আশপাশের এলাকায় দোকান লুট করে, জানালা ভেঙে ফেলে এবং ত্রিশটিরও বেশি আগুন লাগায়। প্রায় একশ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের প্রায় পঁচিশ শতাংশ নাবালক।
কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুরিয়া পার্লন জানান, চৌদ্দটি দোকান ভাঙচুর বা লুটের শিকার হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু দোকানের শাটার নামিয়ে দেওয়া হয় লুট ঠেকাতে, আর হুড পরা যুবকরা মাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এগুলো সংগঠিত কোনো দাবিদাওয়া নিয়ে হয়নি, বরং ভাঙচুর ও লুটপাট ছিল মূল উদ্দেশ্য। বার্সেলোনার মেয়র জোমে কলবোনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, হিংসা ও ভাঙচুরের কোনো জায়গা নেই। প্রাপ্তবয়স্ক ও নাবালক উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফ্রান্সের বিক্ষোভের প্রভাব বার্সেলোনায়ও পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। (France Protests)সামাজিক মাধ্যমে ফরাসি ছাত্র আন্দোলনের স্লোগান ব্যবহার করে সমাবেশ ডাকা হয়েছিল। তবে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও আক্রমণ, ভয় দেখানো ও সম্পত্তি ধ্বংস করা অধিকার নয়।
দুই দেশেই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কীভাবে হিংসায় রূপ নিতে পারে। পুলিশ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে, তখন বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। আবার যারা দোকান লুট করে বা আগুন লাগায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও জনসমর্থন পায়। নাবালকদের জড়িত থাকা বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। আইন সবার জন্য সমান বয়স কম হলেও অপরাধের দায় এড়ানো যায় না।