সুন্দরবনের উন্নয়নে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ! ৩২০২ প্রকল্পের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা: সুন্দরবনের উন্নয়ন নিয়ে এবার বড়সড় আর্থিক পরিকল্পনার কথা (Sundarbans)ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনকে অবহেলা করেছে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস…
কলকাতা: সুন্দরবনের উন্নয়ন নিয়ে এবার বড়সড় আর্থিক পরিকল্পনার কথা (Sundarbans)ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনকে অবহেলা করেছে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। সেই পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান বিজেপি সরকার বাজেটে সুন্দরবন অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
এই অর্থের মাধ্যমে এলাকার প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষি ও মৎস্যচাষে সহায়তা এবং পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে(Sundarbans)। শনিবার সুন্দরবনে একটি প্রশাসনিক বৈঠকের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই প্রকল্পগুলির বিস্তারিত তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, প্রথম পর্যায়ে ৫৫৩টি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘দিল্লির সাথে পারতাম না, পাকিস্তান রক্ষা করছে!’ ফের বিস্ফোরক ফারুখ
শীঘ্রই এই প্রকল্পগুলির কাজ শুরু হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২,৬৪৯টি প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থান এবং দ্বীপাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতার কারণে সেখানে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। সেই সমস্যার সমাধানে রাস্তা নির্মাণ, নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করা, কালভার্ট তৈরি, জেটি নির্মাণ এবং বিদ্যুৎচালিত নৌকা চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি দাবি করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সুন্দরবনের উন্নয়নের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বরাদ্দ অর্থের প্রায় ৮০ শতাংশ আত্মসাৎ করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়ন নিয়ে উদাসীনতার অভিযোগ তুলে অধিকারী বলেন, সুন্দরবনকে দীর্ঘদিন অবহেলা করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার সেই ঘাটতি পূরণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সুন্দরবনে মোট ১,১৬৯টি রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১,৪০৬.৩৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি এলাকার জলনিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করতে বিভিন্ন কাজ করা হবে এবং ১১০টি কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষাকালে জল জমে থাকা, যাতায়াতে বিঘ্ন এবং দ্বীপাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের সমস্যা মোকাবিলায় এই পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে পাঁচটি কংক্রিটের জেটি তৈরি করা হবে। পাশাপাশি যানবাহন ও পণ্য পরিবহণের জন্য আরও একটি জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটনের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর লক্ষ্যেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎচালিত নৌকা চালুর জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটনকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা অবশ্য নির্ভর করবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উপর। শুধু রাস্তা ও যোগাযোগ নয়, স্থানীয় মানুষের জীবিকা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেছেন অধিকারী। মৎস্যচাষের উন্নয়নের জন্য ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ১,৯৩১ জনকে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ বা ক্র্যাব ফ্যাটেনিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে মাছ ও কাঁকড়া চাষ জড়িত থাকায় এই প্রশিক্ষণ তাঁদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কৃষকদের সহায়তার জন্য ১৩,৮৭৭ জনের হাতে ব্যাটারিচালিত স্প্রেয়ার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় স্প্রে করার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ দিনের অনুষ্ঠানে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার এই সেতু নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৯ সালে নিজেই এর উদ্বোধন করবেন। তবে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ, সময়সীমা এবং বাস্তব অগ্রগতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।