ওয়ার্ড বাড়ল ১৪৪ থেকে ২০৯! কলকাতা পুরভোটের খসড়া ভোটার তালিকা ২৬ শে
কলকাতা: কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের আগে সোমবার, ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত হতে পারে খসড়া ভোটার তালিকা। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর এই প্রথম ভোটারেরা নিজেদের সংশোধিত ওয়ার্ড ও বুথ নম্বর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির কাছেও নতুন ওয়ার্ডের সীমানা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা সম্পর্কে প্রাথমিক ছবি পরিষ্কার হবে। ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হওয়ায় এবারের পুরভোটে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক, দুই ক্ষেত্রেই নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
রাজ্য প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত ভোটারেরা নাম সংযোজন, সংশোধন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানাতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
২৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরের দিন, ২৭ অক্টোবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে দলগুলিকে খসড়া ভোটার তালিকার কপি এবং প্রস্তাবিত ভোটকেন্দ্রগুলির খসড়া তালিকা দেওয়া হতে পারে।
আলিপুরের মহকুমাশাসককে পুরসভার নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর দফতর থেকেই ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। তালিকাটি অংশ বা বুথভিত্তিকভাবে প্রকাশিত হতে পারে। প্রতিটি বুথ কোন ওয়ার্ডের অন্তর্গত, সেই তথ্যও তাতে উল্লেখ থাকবে।
নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে পুরভোটের সম্ভাবনা
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার নির্বাচন নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে। অক্টোবরের শেষের দিকে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে ভোটারদের নিজেদের নতুন ওয়ার্ড ও বুথের অবস্থান যাচাই করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের নাম, ঠিকানা এবং বুথের বিবরণ মিলিয়ে দেখার সুযোগ থাকবে।
SIR-এ নাম বাদ পড়া ভোটারদের নিয়ে উদ্বেগ
পুরভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে আরও একটি বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, SIR বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে কলকাতার বাসিন্দাদের প্রায় ৮৫ হাজার আবেদন এখনও আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে বিচারাধীন রয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিকের আশঙ্কা, বিধানসভা নির্বাচনের আগে SIR-এর সময় যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল, তাঁদের অনেকেরই কলকাতা পুরভোটের আগে তালিকায় নাম ফেরানো কঠিন হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের ২১ সেপ্টেম্বর চালু করা নতুন পোর্টালে আপিলের নথি জমা দেওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। SIR-এ নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আবেদন শুনছেন এমন ১৩ জন ট্রাইব্যুনাল বিচারক পোর্টালে ১৩টির বেশি নথি গ্রহণ না করার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও লিখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
১ জুলাইয়ের ভোটার তালিকা হবে মূল ভিত্তি
এক প্রশাসনিক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার নির্বাচন ১ জুলাইয়ের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। তবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যেসব নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া হবে, সেগুলিও সংশ্লিষ্ট তালিকায় প্রতিফলিত হবে।
মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন বলে ওই আধিকারিক জানিয়েছেন। নতুন নামগুলি সম্পূরক ভোটার তালিকার মাধ্যমে যুক্ত করা হতে পারে।
এই ব্যবস্থার ফলে আপিলের নিষ্পত্তি এবং ভোটার তালিকায় নাম সংযোজনের সময়সীমা পুরভোটের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রায় এক লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, প্রায় এক লক্ষ নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হতে চলেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর বক্তব্য, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আবেদনগুলি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
কংগ্রেসের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিশেষ ভোটার-নথিভুক্তিকরণ অভিযানে কতগুলি Form 6 জমা পড়েছে, সেই পরিসংখ্যান প্রকাশের দাবি জানিয়েছে দলটি।
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর কী করবেন ভোটারেরা?
২৬ অক্টোবর খসড়া তালিকা প্রকাশিত হলে ভোটারদের নিজেদের নাম, ঠিকানা, ওয়ার্ড নম্বর এবং বুথের বিবরণ যাচাই করা জরুরি। কোনও ভুল বা আপত্তি থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাতে হবে।
বিশেষ করে SIR-এ নাম বাদ পড়েছে বা নাম সংযোজনের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, এমন ভোটারদের নিজেদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তি এবং সম্পূরক তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া পুরভোটের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।