বদলের বাংলায় নতুন জীবন পাচ্ছে দার্জিলিঙের হৃদয় শতাব্দীপ্রাচীন ক্যাপিটল হল
কলকাতা: দার্জিলিংয়ের হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন ক্যাপিটল হল (Darjeeling)এবার নতুন জীবন পেতে চলেছে। পাহাড়ের রানী এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ভবনটিকে মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারিতে রূপান্তরিত…
কলকাতা: দার্জিলিংয়ের হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন ক্যাপিটল হল (Darjeeling)এবার নতুন জীবন পেতে চলেছে। পাহাড়ের রানী এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ভবনটিকে মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারিতে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ১৯২১ সালের মে মাসে উদ্বোধন হওয়া এই ভবনটি শুধু ইট-পাথরের স্থাপত্য নয়, দার্জিলিংয়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্মৃতির জীবন্ত সাক্ষী। এখন সেই স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ক্যাপিটল হলের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো অংশ হল তার ৭৫ ফুট উঁচু ঘড়ির টাওয়ার। একসময় এই ঘড়িই ছিল শহরের সময়ের রক্ষক। চৌরস্তা, নেহরু রোড বা লাডেনলা রোড থেকে যেদিকেই তাকান, চোখে পড়ত এই টাওয়ার। ভবনের ভিতরে ছিল ৬০০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল, যেখানে একসময় দর্শকের ভিড় জমে থাকত।
আরও দেখুনঃ পাহাড়ি পর্যটনে নতুন চমক! দার্জিলিংয়ে পাঁচটি রোপওয়ে তৈরির পরিকল্পনা
কিন্তু ১৯৮০-এর দশকে সেই থিয়েটার বন্ধ হয়ে যায়। (Darjeeling )এরপর থেকে ভবনটির পর্যটন সম্ভাবনা অনেকটাই অব্যবহৃত থেকে যায়। ২০০৬ সালে দার্জিলিং রোটারি ক্লাব ঘড়ির টাওয়ারটি সংস্কার করেছিল, কিন্তু পুরো ভবনকে পর্যটকের আকর্ষণে পরিণত করার কোনো বড় উদ্যোগ তখন হয়নি।
এবার সেই সুযোগ এসেছে। দার্জিলিং পৌরসভা বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন বা ডিপিআর তৈরি করেছে। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শুরু হওয়ার কথা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী মিউজিয়ামে তুলে ধরা হবে দার্জিলিংয়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের বিখ্যাত টয় ট্রেন এবং অঞ্চলের চা বাগানের গল্প। (Darjeeling)ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ ও শতাব্দীপ্রাচীন চা বাগানগুলোর কাছ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীদের জন্যও প্রদর্শনীর জায়গা থাকবে, যাতে তাঁরা নিজেদের সৃষ্টিকে তুলে ধরতে পারেন।
এই উদ্যোগ শুধু একটি পুরনো ভবন সংস্কারের গল্প নয়। এটি পাহাড়ের মানুষের গর্ব ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা। দার্জিলিংয়ের পর্যটকরা এখন মূলত কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য, টয় ট্রেন আর চা বাগান ঘুরেই সময় কাটান। ক্যাপিটল হল যদি মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি হিসেবে খুলে যায়, তাহলে পর্যটকরা শহরের সাংস্কৃতিক গভীরে প্রবেশ করতে পারবেন। ইতিহাসের সঙ্গে শিল্পের মেলবন্ধন ঘটবে। স্থানীয় শিল্পীরা নিজেদের কাজ প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের জীবিকায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবনটির অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (Darjeeling)লাডেনলা রোডে অবস্থিত এই হল চৌরস্তার কাছে। পর্যটকেরা হেঁটেই এখানে পৌঁছাতে পারবেন। সংস্কারের পর এটি শহরের নতুন ল্যান্ডমার্ক হয়ে উঠতে পারে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য আগামী বছরের মধ্যেই এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া।