Driving Licence: বদলে যাবে রং, আরও কঠিন হবে পরীক্ষা! ড্রাইভিং লাইসেন্সের নিয়মে আসছে বড় পরিবর্তন? | Driving Licence Rules: Centre Proposes Major Changes, Pass Mark May Rise to 75 percent
নয়া দিল্লি: ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence Rules) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আনতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government)। আলাদা রঙের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পরীক্ষায় পাশের নম্বর বাড়ানো-সহ একাধিক বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক (Ministry of Road Transport and Highways) এই সংক্রান্ত একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকলস রুলস (Central Motor Vehicles Rules) সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভুয়ো নথির ব্যবহার কমানো, পথে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত পরিষেবা আরও সুবিধাজনক করে তোলাই লক্ষ্য। তবে এখনও তা চূড়ান্ত নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত ও পরামর্শ চেয়েছে সরকার। কোন কোন ক্ষেত্রে কী কী বদল আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, জেনে নিন
লাইসেন্সে আলাদা রং?
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্সে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ন্যাশনালিটির উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিক এবং বিদেশি নাগরিকদের জন্য আলাদা রঙের ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। এর ফলে লাইসেন্স দেখেই সহজে দুই শ্রেণির নাগরিককে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরীক্ষায় পাশের নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল অনলাইনে নিরাপদ গাড়ি চালানোর টিউটোরিয়াল মূল্যায়ন পরীক্ষায় পাশের নম্বর বাড়ানো। বর্তমানে এই পরীক্ষায় পাশ করতে ৬০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই নম্বর বেড়ে ৭৫ শতাংশ হতে পারে। এছাড়া আবেদনকারীদের অন্তত ৩০ মিনিটের নিরাপদ গাড়ি চালানোর টিউটোরিয়াল সম্পূর্ণ করতে হবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে আবেদনকারীদের পথ নিরাপত্তা, ট্রাফিকের নিয়ম এবং দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়ে জ্ঞান যাচাই করা হবে।
নথি নিয়ে বদল
ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সময় বয়স ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে হলফনামা জমা দেওয়ার সুযোগ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি জীবনবিমার পলিসিকেও প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ না করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মোটরযান ও লাইসেন্স সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ অনিল চিকারা জানিয়েছেন, হলফনামা ব্যবহার করে ভুয়ো ঠিকানা বা জন্মতারিখ দেওয়ার প্রবণতা আটকাতেই এই পদক্ষেপের ভাবনা।
ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, ই-রেশন কার্ড এবং গত তিন মাসের বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল জমা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভারতে বৈধভাবে থাকার প্রমাণও দিতে হবে।
বয়সের প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট, স্কুল বোর্ডের মার্কশিট, জন্ম শংসাপত্র এবং সরকারি দফতরের দেওয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে, পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ই-রেশন কার্ড এবং প্যান কার্ড গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আর কী কী পরিবর্তনের সম্ভাবনা?
ড্রাইভিং লাইসেন্সে আরও কিছু ব্যক্তিগত তথ্য যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্যে লাইসেন্স প্রাপকের রক্তের গ্রুপ, মোবাইল নম্বর এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের বিবরণ দিতে হবে। বিশেষ করে দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব বলে মনে করা হচ্ছে।
বিনামূল্যে পরিষেবা
ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত কয়েকটি পরিষেবার ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন করলে ফি মকুব করার প্রস্তাবও দিয়েছে মন্ত্রক। আধার যাচাইকরণের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করলে নাম, ঠিকানা এবং যোগাযোগের তথ্য পরিবর্তনের মতো পরিষেবায় ফি দিতে নাও হতে পারে। এছাড়া লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ, ডুপ্লিকেট লাইসেন্স তৈরি, লাইসেন্সে নতুন গাড়ির শ্রেণি যুক্ত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের মতো একাধিক পরিষেবার আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব রয়েছে।
আবেদনকারীর তথ্য আগে থেকেই সরকারি সারথি (Sarathi) পোর্টালে থাকলে সেখান থেকে তা সংগ্রহ করা হবে। এর ফলে বারবার একই তথ্য পূরণ করার প্রয়োজন কমবে এবং আবেদন প্রক্রিয়াও সহজ হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনে নির্দিষ্ট সময়সীমা
লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের আবেদন পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা অনুমোদন করতে হবে অথবা বাতিল করতে হবে। আবেদন বাতিল করা হলে তার কারণও জানাতে হবে। অন্যদিকে, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে সেটিকে অনুমোদিত বলে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।