যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাকে উদ্ধার ভারী ড্রোনে, ইউক্রেনের দাবি - 24 Ghanta Bangla News
Home

যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাকে উদ্ধার ভারী ড্রোনে, ইউক্রেনের দাবি

Spread the love

কিয়েভ: স্থলপথে উদ্ধার অসম্ভব (Battlefield Rescue) হয়ে উঠেছিল। চারদিকে মাইন পাতা এলাকা, তার উপর রুশ ড্রোনের হামলার আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে আহত এক সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে…

কিয়েভ: স্থলপথে উদ্ধার অসম্ভব (Battlefield Rescue) হয়ে উঠেছিল। চারদিকে মাইন পাতা এলাকা, তার উপর রুশ ড্রোনের হামলার আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে আহত এক সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করতে ভারী মালবাহী ড্রোনকে ব্যবহার করল ইউক্রেনীয় বাহিনী। হেক্সাকপ্টার ধরনের ওই ড্রোনের নিচে বিশেষ হারনেসে বেঁধে আহত সেনাকে আকাশপথে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইউক্রেনের দাবি, এই ধরনের উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের প্রথম ঘটনা। আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার যে শুধু নজরদারি বা অস্ত্র বহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, এই ঘটনা তারই নতুন উদাহরণ।

ইউক্রেনের সরকারি সামরিক সংবাদ সংস্থা ArmyInform-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ ড্রোনের সক্রিয়তা এবং মাইন পাতা বিপজ্জনক ভূখণ্ডের কারণে স্থলপথে আহত সেনাকে উদ্ধার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। তখন ইউক্রেনীয় বাহিনী ভারী মাল বহনে সক্ষম একটি হেক্সাকপ্টার ব্যবহার করে তাঁকে উদ্ধার করে। ড্রোনটি সরবরাহ করেছিল ইউক্রেনের সংস্থা Gurzuf Defence। সামরিক বাহিনীর দাবি, উদ্ধার হওয়া সেনার জীবন এখন আর বিপদের মুখে নেই। তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন চলছে।

কীভাবে ড্রোনে করে উদ্ধার করা হল আহত সেনাকে?

The War Zone (TWZ)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে ইউক্রেনের ৯২তম, ৩০তম এবং ১৪তম মেকানাইজড ব্রিগেডের সদস্যদের পাশাপাশি ১০ম আর্মি কর্পস ও Gurzuf Defence যুক্ত ছিল। আহত পদাতিক সেনা ছিলেন ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের সদস্য। ওই ব্রিগেডেরই এক ড্রোন অপারেটর হেক্সাকপ্টারটি চালান। উদ্ধার প্রক্রিয়া চলাকালীন আহত সেনার সঙ্গে অপারেটরের যোগাযোগ বজায় ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, Gurzuf Defence বিনামূল্যে ড্রোনটি সরবরাহ করেছিল। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে সংস্থাটি ড্রোনটিকে এই বিশেষ অভিযানের উপযোগী করে তোলে। উড়ানের সময় ড্রোনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত দুলুনি বা একদিকে কাত হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো ছিল প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, আহত সেনা একটি বিশেষ হারনেসের সাহায্যে ড্রোনের নিচে নিজেকে সুরক্ষিত করেন। এরপর ড্রোনটি তাঁকে মাটি থেকে তুলে আকাশপথে নিয়ে যায়। প্রচলিত মেডিক্যাল হেলিকপ্টারের মতো এখানে কোনও আবদ্ধ কেবিন বা সুরক্ষিত চিকিৎসা কক্ষ ছিল না। আহত সেনাকে ড্রোনের কাঠামোর নিচে ঝুলন্ত অবস্থায় বহন করা হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্ধার অভিযান?

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের উদ্ধার করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। মাইন, কাদামাটি, গোলার আঘাতে তৈরি গর্ত এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে অনেক সময় স্থলযান বা রোবটের পক্ষে নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছনো সম্ভব হয় না। তার উপর শত্রুর ড্রোন ও কামানের হামলার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারী দলকেও বিপদের মুখে পড়তে হয়।

এই পরিস্থিতিতে আকাশপথে পরিচালিত ভারী ড্রোন একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সামনে আসছে। স্থলপথের বাধা এড়িয়ে দুর্গম বা বিপজ্জনক অবস্থানে পৌঁছনোর সুবিধা রয়েছে এর। ইউক্রেন ইতিমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে সরবরাহ পৌঁছে দেওয়া এবং আহতদের সরিয়ে আনার কাজে চালকবিহীন স্থলযান ব্যবহার করছে। কিন্তু যেখানে মাইন বা ভূখণ্ডের কারণে স্থলযান পৌঁছতে পারে না, সেখানে আকাশপথে ভারী ড্রোনের ব্যবহার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

এই প্রযুক্তি সফলভাবে আরও উন্নত করা গেলে, সরবরাহ ও সামরিক সরঞ্জাম বহনের পাশাপাশি আহত সেনাদের উদ্ধারেও ভারী ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে এমন এলাকায়, যেখানে প্রচলিত হেলিকপ্টার নামানো ঝুঁকিপূর্ণ অথবা স্থলপথে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছনো কঠিন।

ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতাও কম নয়

তবে এই পদ্ধতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, ড্রোনের নিচে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা আহত সেনা উড়ানের সময় শত্রুর হামলা ও অন্যান্য বিপদের মুখে অরক্ষিত থাকতে পারেন। দ্বিতীয়ত, হারনেস পরা এবং নিজেকে সুরক্ষিত করার জন্য আহত ব্যক্তির কিছুটা শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন। অচেতন সেনা অথবা গুরুতর আহত হয়ে নড়াচড়া করতে অক্ষম ব্যক্তিকে একই পদ্ধতিতে উদ্ধার করা কঠিন হতে পারে।

এ ছাড়া ড্রোনটির কার্যকর পাল্লা, একটানা কতক্ষণ উড়তে পারে, কত ওজন বহন করতে সক্ষম এবং শত্রুর গুলিবর্ষণ বা ইলেকট্রনিক হামলার মধ্যে কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই একটি সফল উদ্ধার অভিযান ভবিষ্যতে নিয়মিত সামরিক ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয় না।

ইউক্রেনের এই অভিযানের গুরুত্ব মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্ধারকাজের নতুন সম্ভাবনা দেখানোর মধ্যে। ড্রোন প্রযুক্তি যদি নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও বহনক্ষমতার দিক থেকে আরও উন্নত হয়, তা হলে ভবিষ্যতে বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আহত সেনাদের সরিয়ে আনার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ইউক্রেনের ‘বিশ্বের প্রথম’ দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট।  ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *