বেতন কমিশনের মুম্বই সফর, রেলকর্মীদের কোন সমস্যায় নজর? - 24 Ghanta Bangla News
Home

বেতন কমিশনের মুম্বই সফর, রেলকর্মীদের কোন সমস্যায় নজর?

Spread the love

নয়াদিল্লি: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) সুপারিশ তৈরির প্রক্রিয়ায় এবার বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে রেলকর্মীদের কাজের পরিবেশ, শারীরিক পরিশ্রম এবং পেশাগত ঝুঁকি। আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর মুম্বই সফরে গিয়ে ভারতীয় রেলের বিভিন্ন বিভাগের কাজ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করার কথা কমিশনের প্রতিনিধিদের। ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ থেকে সিগন্যাল পরিচালনা, ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ থেকে রেলওয়ে ওয়ার্কশপের কঠিন কাজ, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র খতিয়ে দেখা হতে পারে এই সফরে।

অষ্টম বেতন কমিশন বর্তমানে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন, কর্মচারী প্রতিনিধি, পেনশনভোগী সংগঠন, ফেডারেশন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এই পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন ও বাস্তবসম্মত, তা মূল্যায়ন করছে কমিশন। তবে চূড়ান্ত সুপারিশে কী থাকবে, তা এখনও স্থির হয়নি।

২২ ও ২৩ অক্টোবর মুম্বইয়ে কমিশনের বৈঠক

প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত অষ্টম বেতন কমিশনের মুম্বই সফর নির্ধারিত হয়েছে ২২ ও ২৩ অক্টোবর ২০২৬, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। কমিশনের সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন একজন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক। কমিশনের আর এক সদস্য অধ্যাপক পুলক ঘোষ, যিনি ফিন্যান্সের অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

মুম্বইয়ে কর্মী সংগঠন, কর্মচারী প্রতিনিধি, পেনশনভোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা কমিশনের পরবর্তী কাজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, এই সংগঠনগুলি বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দাবি এবং অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। রেল ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলির বক্তব্যও কমিশনের বিবেচনায় আসতে পারে।

রেলকর্মীদের কাজের পরিবেশ সরেজমিনে দেখবে কমিশন

রেল মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমিশনের প্রতিনিধিরা মুম্বইয়ে সেন্ট্রাল রেলওয়ের অধীন বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করতে পারেন। রেল মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারতীয় রেলের দৈনন্দিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত কাজের প্রকৃতি, জটিলতা এবং কর্মীদের দায়িত্ব সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করাই এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসকে কেন্দ্র করে ট্রেন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে মন্ত্রকের বক্তব্য। অল ইন্ডিয়া রেলওয়েমেনস ফেডারেশন এবং ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান রেলওয়েমেন, এই দুই স্বীকৃত রেলকর্মী সংগঠনকেও সফর সম্পর্কে জানানো হয়েছে। কোন কোন বিভাগ পরিদর্শন করা উচিত, সে বিষয়ে তাদের পরামর্শও চাওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ থেকে সিগন্যাল, নজরে একাধিক বিভাগ

এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত কর্মীদের দৈনন্দিন দায়িত্ব। বিশেষ করে কী-ম্যান ও পেট্রোলম্যানদের কাজ পর্যবেক্ষণ করার কথা রয়েছে। রেললাইনে কাজ করার সময় তাঁদের শারীরিক পরিশ্রম, প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি কমিশনের নজরে আনা হবে।

এ ছাড়াও প্রযুক্তিবিদ, পয়েন্টসম্যান, সিগন্যাল রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী এবং সেতু পরিদর্শনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। রেল পরিষেবা সচল রাখতে এই কর্মীদের দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁদের কাজের সঙ্গে কী ধরনের ঝুঁকি জড়িয়ে রয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করবে কমিশন।

লোকোমোটিভে সফর, কন্ট্রোল রুম ও স্টেশন পরিদর্শন

ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কাজের চাপ বুঝতে কমিশনের প্রতিনিধিদের একটি উচ্চগতির রেলপথে লোকোমোটিভে সফর করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রেন চালানোর সময় রানিং স্টাফদের দায়িত্ব, মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা এবং চাপপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনের সময় ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্মীদের কাজও পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। পাশাপাশি স্টেশনে ট্রেনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ, শান্টিং, যাত্রীদের ভিড় সামলানো, পরিচ্ছন্নতা এবং বাণিজ্যিক কার্যকলাপের মতো বিষয়গুলিও এই সফরের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

রেলওয়ে ওয়ার্কশপ পরিদর্শনের মাধ্যমে ট্রেনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের কঠিন কাজ এবং রেল ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ সম্পর্কে জানার পরিকল্পনা রয়েছে। রেল পরিষেবার পিছনে থাকা কর্মীদের বাস্তব কাজের পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশনের ধারণা স্পষ্ট করাই এই পর্যবেক্ষণের লক্ষ্য।

বেতন, ভাতা ও পেনশন নিয়ে কী প্রভাব পড়তে পারে?

অষ্টম বেতন কমিশনের কাজ শুধু বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় সীমাবদ্ধ নয়। কর্মচারীদের বেতন ও পে-ম্যাট্রিক্স, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ, বাড়িভাড়া ভাতা বা এইচআরএ, পেনশনভোগীদের জন্য প্রযোজ্য মহার্ঘ ত্রাণ বা ডিআর এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও কী পরিবর্তন প্রয়োজন, তা কমিশন বিবেচনা করছে।

রেলকর্মীদের কাজের ঝুঁকি, শারীরিক পরিশ্রম, দায়িত্বের প্রকৃতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা কমিশনের আলোচনায় সহায়ক হতে পারে। তবে মুম্বই সফরের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনও বেতন বৃদ্ধি, বিশেষ ভাতা বা অতিরিক্ত সুবিধা অনুমোদিত হবে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

কমিশন বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও তথ্য পর্যালোচনা করার পর সুপারিশ তৈরি করবে। তাই রেলকর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে কমিশনের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ এবং পরবর্তী সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *