Jio Platforms IPO-তে কি টাটাকে টপকে শীর্ষে উঠবে রিলায়্যান্স? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Jio Platforms IPO-তে কি টাটাকে টপকে শীর্ষে উঠবে রিলায়্যান্স?

Spread the love

নয়াদিল্লি: জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্ভাব্য আইপিও (Jio Platforms IPO) ঘিরে ভারতের বৃহত্তম ব্যবসায়িক গোষ্ঠী হওয়ার দৌড়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়্যান্স গোষ্ঠী কি সম্মিলিত বাজারমূলধনের নিরিখে টাটা গোষ্ঠীকে পিছনে ফেলে দেশের এক নম্বর কংগ্লোমারেট হয়ে উঠবে? প্রস্তাবিত মূল্যায়ন অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে সেই সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে আইপিওর মূল্যায়ন এবং তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের বাজারদরের উপর।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর বর্তমানে তালিকাভুক্ত ১২টি সংস্থার সম্মিলিত বাজারমূলধন প্রায় ১৮.০৫ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অবদান রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের, যার বাজারমূলধন প্রায় ১৬.২ লক্ষ কোটি টাকা। অন্যদিকে, জিও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের বাজারমূলধন প্রায় ১.৪১ লক্ষ কোটি টাকা।

জিও প্ল্যাটফর্মস তালিকাভুক্ত হলে রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত সংস্থার সংখ্যা বেড়ে ১৩ হতে পারে। প্রস্তাবিত আইপিওর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ধরে সংস্থাটির সম্ভাব্য মূল্যায়ন প্রায় ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই মূল্যায়ন কার্যকর হলে রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর সম্মিলিত বাজারমূলধন বেড়ে আনুমানিক ২৮.৩৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। সে ক্ষেত্রে টাটা গোষ্ঠীর বর্তমান সম্মিলিত বাজারমূলধন ২৫.৯২ লক্ষ কোটি টাকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর বাজারমূলধনে সবচেয়ে বড় অবদান ইন্ডাস্ট্রিজের

রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর বাজারমূলধনের মূল ভিত্তি রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ। সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূলধন প্রায় ১৬.২ লক্ষ কোটি টাকা। একসময় তা বেড়ে প্রায় ২১.২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।

জিও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের পাশাপাশি গোষ্ঠীর অন্য তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির বাজারমূলধন তুলনামূলকভাবে অনেক কম। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, জাস্ট ডায়ালের বাজারমূলধন প্রায় ৬,২২৩ কোটি টাকা। হ্যাথওয়ে কেবল অ্যান্ড ডেটাকমের বাজারমূলধন ১,৭২৫.৮৫ কোটি টাকা এবং ডেন নেটওয়ার্কসের ১,২৩২ কোটি টাকা।

এ ছাড়া রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের বাজারমূলধন প্রায় ১,১২৯.৪০ কোটি টাকা এবং জিটিপিএল হ্যাথওয়ের প্রায় ৬১৫ কোটি টাকা। ফলে জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্ভাব্য তালিকাভুক্তি রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর মোট বাজারমূলধনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

টাটা গোষ্ঠীর বাজারমূলধন কমেছে শীর্ষ অবস্থান থেকে

সম্মিলিত বাজারমূলধনের নিরিখে টাটা গোষ্ঠী বর্তমানে রিলায়্যান্সের পিছনে রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টাটা গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূলধন প্রায় ২৫.৯২ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এই অঙ্ক প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। সেই শীর্ষ অবস্থান থেকে বাজারমূলধন কমেছে আনুমানিক ১৬.৪ শতাংশ।

টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস, টাইটান কোম্পানি এবং টাটা স্টিলের মতো বড় সংস্থার শেয়ারে দুর্বলতা এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে টাটা গোষ্ঠীর ব্যবসা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। তথ্যপ্রযুক্তি, গাড়ি, ভোগ্যপণ্য, বিদ্যুৎ, ইস্পাত এবং আতিথেয়তা শিল্পে তাদের একাধিক তালিকাভুক্ত সংস্থা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে ট্রেন্ট, নেলকো, টাটা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন, টাইটান কোম্পানি, টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস, ইন্ডিয়ান হোটেলস কোম্পানি, টাটা এলক্সি, টাটা পাওয়ার, টাটা স্টিল, ভোল্টাস, টাটা কেমিক্যালস, টাটা কমিউনিকেশনস এবং তেজাস নেটওয়ার্কস।

বাজারমূলধন কমলেও বহুমুখী ব্যবসায়িক উপস্থিতির কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে টাটার অবস্থান এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় স্থানে আদানি গোষ্ঠী

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের বৃহত্তম ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আদানি গোষ্ঠী। তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত বাজারমূলধন প্রায় ১৭.২৩ লক্ষ কোটি টাকা।

গোষ্ঠীর বড় সংস্থাগুলির মধ্যে আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোনের বাজারমূলধন প্রায় ৪.০১ লক্ষ কোটি টাকা। আদানি এন্টারপ্রাইজেসের বাজারমূলধন প্রায় ৩.৬৩ লক্ষ কোটি টাকা এবং আদানি পাওয়ারের প্রায় ৩.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা। আদানি গ্রিন এনার্জির বাজারমূলধন প্রায় ২.১৪ লক্ষ কোটি টাকা। অন্যদিকে, আম্বুজা সিমেন্টসের বাজারমূলধন প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা।

পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং সিমেন্ট ব্যবসা আদানি গোষ্ঠীর বাজারমূল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ক্ষেত্রগুলিতে গোষ্ঠীর উপস্থিতিই সম্মিলিত বাজারমূলধনের বড় অংশ তৈরি করেছে।

চতুর্থ স্থানে এইচডিএফসি গোষ্ঠী

প্রায় ১৩.৯ লক্ষ কোটি টাকার সম্মিলিত বাজারমূলধন নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে এইচডিএফসি গোষ্ঠী। মাত্র চারটি তালিকাভুক্ত সংস্থা নিয়েই এই অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই গোষ্ঠীর বাজারমূলধনে সবচেয়ে বড় অবদান এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের। সংস্থাটির বাজারমূলধন প্রায় ১১.২২ লক্ষ কোটি টাকা। এইচডিএফসি লাইফ ইনস্যুরেন্স এবং এইচডিএফসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির বাজারমূলধনও এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, এইচডিবি ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের বাজারমূলধন প্রায় ৪৩,৬০০ কোটি টাকা।

জিওর আইপিও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্ভাব্য আইপিও শুধু একটি বড় সংস্থার শেয়ারবাজারে প্রবেশ নয়, ভারতের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠীগুলির বাজারমূলধনের ক্রমেও পরিবর্তন আনতে পারে। প্রস্তাবিত ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকার মূল্যায়ন ধরে রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর সম্মিলিত বাজারমূলধন প্রায় ২৮.৩৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে, যা টাটা গোষ্ঠীর বর্তমান ২৫.৯২ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় বেশি।

তবে এই হিসাব সম্ভাব্য মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা। আইপিওর চূড়ান্ত মূল্য, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের দর এবং অন্যান্য গোষ্ঠীভুক্ত সংস্থার বাজারমূলধনের ওঠানামা শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার ফল নির্ধারণ করবে। তাই জিও প্ল্যাটফর্মসের তালিকাভুক্তি রিলায়্যান্সকে শীর্ষে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সেই অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে বলে এখনই বলা যায় না।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *