চার্জিং ছাড়াই ২৯ কিমি মাইলেজ! Renault Duster হাইব্রিডের দাবি কতটা বড়? - 24 Ghanta Bangla News
Home

চার্জিং ছাড়াই ২৯ কিমি মাইলেজ! Renault Duster হাইব্রিডের দাবি কতটা বড়?

Spread the love

নয়াদিল্লি: প্লাগ-ইন হাইব্রিডের মতো জ্বালানি সাশ্রয়ের দাবি, অথচ ব্যাটারি চার্জ করতে লাগবে না বাইরের চার্জিং পয়েন্ট। এই বিশেষত্ব নিয়েই আলোচনায় রেনল্ট ডাস্টার ই-টেক হাইব্রিড। গাড়িটির এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ১৬.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে। সংস্থার দাবি, প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ২৯ কিলোমিটার মাইলেজ এবং একবার ট্যাঙ্ক ভর্তি করলে ১,৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ চলতে পারে এই এসইউভি। তবে এই দাবির পিছনে রয়েছে বিশেষ ধরনের স্ট্রং-হাইব্রিড প্রযুক্তি।

২৯ কিমি মাইলেজ, ১,৪০০ কিমির বেশি রেঞ্জ

রেনল্ট ডাস্টার ই-টেক একটি স্ট্রং-হাইব্রিড গাড়ি। এতে রয়েছে ১.৮ লিটারের পেট্রোল ইঞ্জিন, যা সর্বোচ্চ ১০৮.৫ বিএইচপি শক্তি এবং ১৭২ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১.৪ কিলোওয়াট-আওয়ারের এনএমসি ব্যাটারি।

ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটরের সম্মিলিত আউটপুট ১৫৮ বিএইচপি শক্তি এবং ২০৮ এনএম টর্ক বলে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় গাড়িটি প্রয়োজন অনুযায়ী পেট্রোল ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটরের শক্তি ব্যবহার করতে পারে।

সাধারণ হাইব্রিড গাড়ির মতোই ডাস্টারের ব্যাটারি গাড়ি চলার সময় এবং ইঞ্জিনের সাহায্যে চার্জ হতে পারে। ফলে ব্যাটারি চার্জ করার জন্য আলাদা করে কোনও বাহ্যিক চার্জারের প্রয়োজন নেই। এই কারণেই গাড়িটি প্লাগ-ইন হাইব্রিডের মতো বাইরের চার্জিং সুবিধার উপর নির্ভরশীল নয়।

তবে ২৯ কিমি প্রতি লিটার মাইলেজ এবং ১,৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জ নির্মাতার দাবি। বাস্তবে এই পরিসংখ্যান গাড়ি চালানোর ধরন, রাস্তার পরিস্থিতি, গতি এবং জ্বালানি ব্যবহারের উপর নির্ভর করবে।

কীভাবে কাজ করে ডুয়াল-মোটর প্রযুক্তি?

ডাস্টার ই-টেকের হাইব্রিড ব্যবস্থায় রয়েছে দুটি বৈদ্যুতিক মোটর। একটি চাকা ঘোরাতে সাহায্য করে, অন্যটি জেনারেটর হিসেবে কাজ করে ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। এই ব্যবস্থা গাড়িটিকে বিভিন্ন ড্রাইভিং মোডে চালানোর সুযোগ দেয়।

ইভি-অনলি মোড: এই মোডে ব্যাটারির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক মোটর গাড়ি চালায়। পরিস্থিতি ও ব্যাটারির চার্জের উপর নির্ভর করে পেট্রোল ইঞ্জিন ছাড়াও গাড়ি চলতে পারে।

সিরিজ মোড: এখানে পেট্রোল ইঞ্জিন জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি করে, যা বৈদ্যুতিক মোটর চালাতে সাহায্য করে। ব্যাটারিও এই শক্তি ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।

প্যারালাল মোড: এই ব্যবস্থায় পেট্রোল ইঞ্জিন ও ব্যাটারি, দুটিই গাড়ি চালানোর জন্য শক্তি সরবরাহ করতে পারে।

ইঞ্জিন-অনলি মোড: নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানোর জন্য পেট্রোল ইঞ্জিনের শক্তি ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া রয়েছে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে গাড়ির গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তির একটি অংশ ব্যাটারিতে ফিরিয়ে নেওয়া যায়। ইঞ্জিনের সাহায্যে ব্যাটারি চার্জ করার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে নির্মাতার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাটারির ডিসচার্জ রেট ৫০সি, সুবিধা কী?

রেনল্টের দাবি অনুযায়ী, ডাস্টার হাইব্রিডে ব্যবহৃত এনএমসি ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৫০সি হারে ডিসচার্জ করতে পারে। সহজভাবে বললে, সি-রেট ব্যাটারির ধারণক্ষমতার তুলনায় কত দ্রুত শক্তি সরবরাহ বা গ্রহণ করতে পারে, তার একটি পরিমাপ। ৫০সি একটি অত্যন্ত উচ্চ ডিসচার্জ রেটের দাবি, যদিও বাস্তবে কতটা শক্তি সরবরাহ করা যাবে তা ব্যাটারির তাপমাত্রা, ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতার উপর নির্ভর করে।

ব্যাটারি দ্রুত শক্তি সরবরাহ করতে পারলে হঠাৎ গতি বাড়ানোর সময় বৈদ্যুতিক মোটরকে বেশি শক্তি দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফলে অ্যাক্সিলারেটর পুরোপুরি চাপলে গাড়িতে ইভি-র মতো দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই হাইব্রিড ব্যবস্থায় ব্যাটারিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শক্তি ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু উচ্চ ডিসচার্জ রেটের দাবি থেকেই গাড়ির প্রকৃত অ্যাক্সিলারেশন বা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা যায় না।

আট-স্পিড ট্রান্সমিশন, দক্ষতা ৯৮ শতাংশ?

রেনল্টের দাবি অনুযায়ী, এই হাইব্রিড গাড়ির ট্রান্সমিশনে পেট্রোল ইঞ্জিনের জন্য চারটি গিয়ার অনুপাত এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার জন্য দুটি অনুপাত রয়েছে। এই ব্যবস্থাকে সংস্থাটি আট-স্পিড ট্রান্সমিশন হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাশাপাশি ট্রান্সমিশনের দক্ষতা ৯৮ শতাংশ বলেও দাবি করা হয়েছে।

হাইব্রিড গাড়িতে ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটরের শক্তি কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে ৯৮ শতাংশ দক্ষতার দাবি কোন পরীক্ষার পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ভিত্তিতে করা হয়েছে, তা জানা জরুরি।

শহরে ৮০ শতাংশ সময় ইভি মোডে চলবে?

রেনল্টের দাবি, শহরের রাস্তায় ডাস্টার হাইব্রিড প্রায় ৮০ শতাংশ সময় ইভি-অনলি মোডে চলতে পারে। যানজটের মধ্যে বারবার গতি কমানো ও বাড়ানোর পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা জ্বালানি সাশ্রয়ে সাহায্য করতে পারে। তবে এই হার নির্দিষ্ট পরীক্ষার পরিস্থিতি বা ড্রাইভিং সাইকেলের উপর নির্ভরশীল হতে পারে। তাই সব শহর, রাস্তা ও চালকের ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কাদের জন্য উপযুক্ত রেনল্ট ডাস্টার হাইব্রিড?

যাঁরা জ্বালানি সাশ্রয়ী এসইউভি চান, কিন্তু বাড়িতে বা কর্মস্থলে আলাদা চার্জিং পয়েন্ট বসাতে চান না, তাঁদের জন্য স্ট্রং-হাইব্রিড প্রযুক্তি আকর্ষণীয় হতে পারে। ব্যাটারি ও পেট্রোল ইঞ্জিনের সম্মিলিত ব্যবস্থায় শহরের যাতায়াতে বৈদ্যুতিক মোটরের সুবিধা পাওয়া সম্ভব, আবার দীর্ঘ পথ চলার ক্ষেত্রেও বাইরের চার্জিং পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করতে হয় না।

অন্যদিকে, প্লাগ-ইন হাইব্রিডে সাধারণত বড় ব্যাটারি থাকে এবং বাহ্যিক চার্জিংয়ের সুবিধা থাকলে দীর্ঘ দূরত্ব বেশি সময় ইভি মোডে চলা সম্ভব হতে পারে। ফলে যাঁদের নিয়মিত চার্জ করার সুযোগ রয়েছে এবং যাঁরা দীর্ঘ দূরত্বে বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করতে চান, তাঁদের কাছে প্লাগ-ইন হাইব্রিডেরও আলাদা সুবিধা রয়েছে।

রেনল্ট ডাস্টার ই-টেকের মূল আকর্ষণ হল বাহ্যিক চার্জিং ছাড়াই বৈদ্যুতিক মোটর ও পেট্রোল ইঞ্জিনের সম্মিলিত সুবিধা পাওয়া। তবে গাড়িটির প্রকৃত মাইলেজ, রেঞ্জ এবং ট্রান্সমিশনের দক্ষতা সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা পেতে স্বাধীন পরীক্ষার ফলাফল ও বাস্তব ব্যবহারের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *