জল ছাড়াই সার্ভার ঠান্ডা! বিশাখাপত্তনমে আদানির পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি
বিশাখাপত্তনমে আদানি কানেক্সের পরিকল্পিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসগুলো এখন জল সংরক্ষণের (Adani)এক নতুন উদাহরণ হয়ে উঠতে চলেছে। গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্বে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে বায়ু শীতলীকরণ…
বিশাখাপত্তনমে আদানি কানেক্সের পরিকল্পিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসগুলো এখন জল সংরক্ষণের (Adani)এক নতুন উদাহরণ হয়ে উঠতে চলেছে। গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্বে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে বায়ু শীতলীকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রচলিত জলভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়বে না এবং তিনটি ক্যাম্পাসে মিঠা জলের ব্যবহার থাকবে অলিম্পিক সাইজের একটি সুইমিং পুলের জলের পরিমাণের চেয়েও কম।
মুদাসরলোভা ও তারলুভাদা এলাকায় অবস্থিত এই (Adani)ক্যাম্পাসগুলোর মোট ক্ষমতা প্রায় এক গিগাওয়াটের কাছাকাছি। ভারত যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিশাখাপত্তনমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এই প্রকল্প সেই লক্ষ্যকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যের দূর্গা মণ্ডপে আরতির সময় ভাঙচুর-পাথর! গ্রেফতার আসগর আলি সহ ৪
সাধারণত ডেটা সেন্টারগুলোতে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর জল লাগে। বাষ্পীভবন ভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থায় জলের অপচয় হয় অনেক। কিন্তু আদানি কানেক্স এখানে সম্পূর্ণ বায়ুভিত্তিক প্রযুক্তি বেছে নিয়েছে। ফলে শীতলীকরণের জন্য মিঠা জলের চাহিদা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। যে সামান্য মিঠা জল লাগবে, তার প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহার হবে বাগান রক্ষা, রান্নাঘর ও কর্মীদের সুবিধার জন্য। বাকি অংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থার মধ্যেই থাকবে।
প্রকল্পে শূন্য নিঃসরণ নীতি মেনে চলা হবে। (Adani)গার্হস্থ্য বর্জ্য জল অন-সাইট সিওয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে শোধন করে আবার ব্যবহার করা হবে। বাগান সেচ ও ফ্লাশিংয়ের কাজে এই শোধিত জল লাগবে। মুদাসরলোভা জলাধারে কোনো বর্জ্য জল ছাড়া হবে না। এছাড়া সুবিধাগুলো পৌরসভার জল সরবরাহ লাইনের ওপর নির্ভর না করে আলাদা শিল্প জল সংযোগ ব্যবহার করবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের পানীয় জলের ওপর কোনো চাপ পড়বে না।
এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে ভারতের এআই স্বপ্ন ও জল সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে। ডেটা সেন্টার শিল্প যত বাড়ছে, ততই জলের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জল সংকটপ্রবণ অঞ্চলে এমন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আদানি কানেক্সের এই পরিকল্পনা সেই উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বিশাখাপত্তনম ইতিমধ্যেই বন্দর ও শিল্প নগরী হিসেবে পরিচিত। এখন ডিজিটাল পরিকাঠামোর কেন্দ্র হিসেবেও এটি গড়ে উঠছে। গুগলের মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থার অংশীদারিত্বে এমন পরিবেশবান্ধব ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কর্মসংস্থান বাড়বে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়বে এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের ডেটা সেন্টারগুলোকে জল ও বিদ্যুৎ দুই ক্ষেত্রেই দক্ষ হতে হবে। বায়ু শীতলীকরণ প্রযুক্তি সেই দিকেই এক ধাপ এগিয়ে। যদিও প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জল সাশ্রয় ও পরিবেশগত সুবিধা অনেক। আদানি কানেক্সের এই উদ্যোগ অন্যান্য ডেটা সেন্টার নির্মাতাদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে।