চোরবাগান কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া ৭ বহিরাগত? কি বলছেন আইনজীবী - 24 Ghanta Bangla News
Home

চোরবাগান কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া ৭ বহিরাগত? কি বলছেন আইনজীবী

Spread the love

কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে (Chorbagan)পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার সাতজনকে রবিবার ব্যাঙ্কশল কোর্টে হাজির করা হয়েছে। তাঁদের আইনজীবী এমডি ইয়াসিম রহমান আদালতে…

কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে (Chorbagan)পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার সাতজনকে রবিবার ব্যাঙ্কশল কোর্টে হাজির করা হয়েছে। তাঁদের আইনজীবী এমডি ইয়াসিম রহমান আদালতে জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিরা বাইরের লোক।

তাঁরা পুজো দেখতে এসেছিলেন। ভিড়ের চাপে মানুষের কষ্ট দেখে উদ্ধার কাজে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। পুলিশ হেফাজতের বিষয়ে আদালত ২৮ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছে। পুলিশ চেয়েছিল ১ তারিখ পর্যন্ত, কিন্তু বিচারক ২৮ তারিখ পর্যন্তই মঞ্জুর করেছেন।

আরও দেখুনঃ চোরবাগান-কাণ্ডে বড় সিদ্ধান্ত! তদন্তকারী ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম থেকে বাদ পড়ল কলকাতা পুলিশ

ঘটনাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায়। মহাসপ্তমীর আরতির সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামলে মণ্ডপের সরু প্রস্থান পথে ভিড়ের চাপ বেড়ে যায়। পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন প্রাণ হারান। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং পুজো কমিটির সম্পাদক, সহ-সভাপতিসহ সাতজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের মধ্যে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আদালতে আসামিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁরা মণ্ডপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। পুজো দেখতে এসে পরিস্থিতি দেখে সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন। (Chorbagan)কিন্তু পুলিশের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁরা বলছেন, নিরাপত্তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অবহেলা হয়েছে। সেই অবহেলার দায় কমিটি ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর বর্তায়।

ব্যাঙ্কশল কোর্টে শুনানির সময় পরিস্থিতি গম্ভীর ছিল। আসামিদের আইনজীবী জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁরা উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। অনেক মানুষ বিপদে পড়লে সাহায্য করতে গিয়ে নিজেরাও জড়িয়ে পড়েন। পুলিশের দাবি, আরও তদন্তের জন্য হেফাজত প্রয়োজন। আদালত সেই আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

এই ঘটনা শহরজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। (Chorbagan)মৃতদের পরিবার এখন ন্যায়বিচার চায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা করেছেন। বিশেষ তদন্ত দল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। তৃণমূলসহ বিরোধীরা প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে সরকার বলছে, দোষী কেউ রেহাই পাবে না।

আইনজীবীর বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদি সত্যিই তাঁরা বাইরের লোক হন এবং উদ্ধার কাজে সাহায্য করে থাকেন, তাহলে মামলার গতিপথ বদলাতে পারে। পুলিশকে এখন সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখতে হবে। হেফাজতে থাকা অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ চলবে।

চোরবাগানের এই ট্র্যাজেডি পুজোর আনন্দকে কেড়ে নিয়েছে। উনিশটি পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। আদালতের এই শুনানি সেই পরিবারগুলোর জন্য এক ধরনের আশার আলো হতে পারে। তদন্ত যত দ্রুত ও নিরপেক্ষ হবে, ততই সত্য বেরিয়ে আসবে। আসামিদের দাবি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁদের অবস্থান বদলাবে। আর যদি অবহেলার প্রমাণ মেলে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *