গভীর রাতে লেহ থেকে দিল্লি, অসুস্থ যুবককে উদ্ধার করল বায়ুসেনা
নয়াদিল্লি: গভীর রাত, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়া। এমন পরিস্থিতিতেই লাদাখের লেহ থেকে গুরুতর অসুস্থ ৩০ বছর বয়সি এক নাগরিককে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে নিয়ে…
নয়াদিল্লি: গভীর রাত, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়া। এমন পরিস্থিতিতেই লাদাখের লেহ থেকে গুরুতর অসুস্থ ৩০ বছর বয়সি এক নাগরিককে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে নিয়ে এল ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। শনিবার গভীর রাতে সি-১৩০জে সামরিক পরিবহণ বিমানে এই মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন বা জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগীকে স্থানান্তরের অভিযান চালানো হয়। পরে ওই ব্যক্তিকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমসে ভর্তি করা হয়।
রবিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, খুব অল্প সময়ের নোটিসে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গভীর অন্ধকার এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বিমান চালানো ও রোগীকে দ্রুত স্থানান্তরের জন্য উচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি, পেশাদার সমন্বয় এবং সময়মতো পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল।
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধার অভিযান
লেহর মতো উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে রাতের অন্ধকার ও আবহাওয়ার প্রতিকূলতা বিমান চলাচলকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থ নাগরিককে দ্রুত দিল্লিতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বায়ুসেনার এই অভিযান চালানো হয়। রোগীকে দিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে আনার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এইমসে স্থানান্তর করা হয়।
বায়ুসেনার বিবৃতিতে এই অভিযানকে জরুরি মানবিক প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে রোগীর অসুস্থতার ধরন বা তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কী বিশেষত্ব সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস বিমানের?
লকহিড মার্টিন নির্মিত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস বিমান ভারতীয় বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ বিমানগুলির অন্যতম। বিশেষ অভিযান, কৌশলগত বিমান পরিবহণ, মানবিক সহায়তা এবং দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে রসদ পৌঁছে দেওয়ার কাজে এই বিমান ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে এই ধরনের ১২টি বিমান রয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরিবহণের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কার্গিলেও রাতে অবতরণ করেছিল বায়ুসেনার সি-১৩০জে
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কার্গিল বিমানঘাঁটিতে প্রথমবারের মতো রাতে অবতরণ করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০জে বিমান। চারপাশে প্রায় ১৪,০০০ থেকে ১৫,০০০ ফুট উচ্চতার পাহাড় এবং সীমিত অবতরণপথের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যে ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে সুদানে সংঘাতের সময়ও ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারে বায়ুসেনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে সংঘাতপ্রবণ এলাকা থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে আনা হয়েছিল।
লেহ থেকে দিল্লিতে সাম্প্রতিক এই মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন আবারও দেখিয়ে দিল, জরুরি পরিস্থিতিতে দুর্গম অঞ্চল থেকে রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সামরিক পরিবহণ বিমান কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।