‘এই সরকার ওই সরকার নয়’, চোরবাগান কাণ্ডে কড়া বার্তা শুভেন্দুর - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘এই সরকার ওই সরকার নয়’, চোরবাগান কাণ্ডে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

Spread the love

কলকাতা: উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় (Chorbagan Stampede) দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “এই…

কলকাতা: উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় (Chorbagan Stampede) দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “এই সরকার ওই সরকার নয়, আমাদের তফাত আছে। ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু আমরা যা করার করব।” দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক বলে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য অনুসন্ধান করা হবে। দায় নির্ধারণের আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রাথমিকভাবে পুজো কমিটির তরফে মাইকে ঘোষণা এবং বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের বাঁশির আওয়াজের পর ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছিল।

১৭ জনের মৃত্যু, আহতদের চিকিৎসায় নজর

চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। আগের প্রাথমিক তথ্যে আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছিল। তাই চূড়ান্ত সরকারি হিসাবের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা জরুরি।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি সকাল ৯টা থেকে মেডিক্যাল কলেজে রয়েছেন এবং আহতদের চিকিৎসার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। তাঁর সঙ্গে পুরো প্রশাসনিক দলও কাজ করছে বলে দাবি করেছেন তিনি। “কেউ বাড়িতে বসে নেই, আমরা কাজ করছি”, এই বার্তা দিয়ে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে সরকার রয়েছে।

মাইকে ঘোষণা, বাঁশির আওয়াজ থেকেই কি হুড়োহুড়ি?

ঘটনার কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, পুজো কমিটির তরফে মাইকে একটি ঘোষণা করার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মৃতদের দুই পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। সেই পরিবারগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী ছিল এবং তাদের বাঁশির আওয়াজ শুনে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন।

তবে এই বক্তব্যগুলিকে এখনও প্রাথমিক তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ঠিক কী ঘোষণা করা হয়েছিল, কেন দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বা হুড়োহুড়ি তৈরি হল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন, তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না।

পুজো বন্ধ, ফরেন্সিক ও দমকলের হাতে মণ্ডপ

দুর্ঘটনার পর চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি ফরেন্সিক দল এবং দমকল বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে দায়ের প্রশ্নে পুজো কমিটির কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী এবং ডিউটিতে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে থানায় নিয়ে রাখা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা কী হবে, তা তদন্তের ফল এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়ার কথা।

‘শোক জানানোর ভাষা নেই’, পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস

মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ঘটনাটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং এই শোক জানানোর ভাষা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

এর পাশাপাশি, আগের একটি দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই সরকার ওই সরকার নয়, আমাদের তফাত আছে।” তাঁর বক্তব্য, দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, কিন্তু তার পরে দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের দায়িত্ব। চোরবাগানের ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *