দেবী পক্ষে অঘটন! পুড়ে ছাই হল উত্তরাখণ্ডের প্রাচীন ভগবতী শক্তিপীঠ মন্দির - 24 Ghanta Bangla News
Home

দেবী পক্ষে অঘটন! পুড়ে ছাই হল উত্তরাখণ্ডের প্রাচীন ভগবতী শক্তিপীঠ মন্দির

Spread the love

দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর জেলার দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকা (Bhagwati)বদিয়াকোটের প্রাচীন আদি বদ্রী মাঁ ভগবতী শক্তিপীঠে শুক্রবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কাঠের তৈরি মূল মন্দির ভবন পুড়ে…

দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর জেলার দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকা (Bhagwati)বদিয়াকোটের প্রাচীন আদি বদ্রী মাঁ ভগবতী শক্তিপীঠে শুক্রবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কাঠের তৈরি মূল মন্দির ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই মন্দির প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। এর ঐতিহ্যবাহী কাঠের খোদাই ও স্থাপত্যশৈলী কুমায়ুন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে পরিচিত ছিল।

আরও দেখুনঃ অনুমতি নেই! আরশোলাদের শুক্রবারের জমায়েত ভেস্তে দিল সুপ্রিমকোর্ট

মন্দিরটি কাপকোট তহসিল থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। নবরাত্রির সময় এখানে ভক্তদের ভিড় জমে। স্থানীয় বিশ্বাস অনুসারে, মাঁ ভগবতী এই স্থানে নিশুম্ভ দৈত্যকে বধ করেছিলেন। সেই কারণে এলাকাটিকে বধকোট নামেও চেনা হয়।

দানপুর অঞ্চলের প্রধান শক্তিপীঠ হিসেবে এটি পরিচিত এবং কাঠের উপর সূক্ষ্ম নকশা ও খোদাইয়ের জন্য বিখ্যাত ছিল। প্রতিটি কাঠের অংশে অঙ্কিত শিল্পকর্ম উত্তরাখণ্ডের ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শন বলে বিবেচিত হত।

আগুন লাগার খবর পেয়ে এলাকায় হট্টগোল পড়ে যায়। (Bhagwati)কাঠের কাঠামো হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দূর থেকেও ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। মন্দিরে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পূজার জন্য প্রদীপ জ্বালানো হতো। স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন শর্ট সার্কিট বা প্রদীপ থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।

দুর্গম এলাকা হওয়ায় দমকল বাহিনী দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দারাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিক খবরে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মূল মন্দির ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এতে ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, শুধু একটি মন্দির নয়, এক টুকরো ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারিয়ে গেল।

মন্দিরের কাঠের খোদাই ও স্থাপত্য কুমায়ুন ও কাত্যুর উপত্যকার ঐতিহ্যের অংশ ছিল। বছরের পর বছর ধরে এটি স্থানীয় মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। নবরাত্রির মতো পবিত্র সময়ে এমন দুর্ঘটনায় সবাই মর্মাহত। প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও কারণ অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *