আয়ারল্যান্ডে ৫১ মিলিয়ন ইউরোয় ঐতিহাসিক দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান - 24 Ghanta Bangla News
Home

আয়ারল্যান্ডে ৫১ মিলিয়ন ইউরোয় ঐতিহাসিক দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান

Spread the love

ফেসবুকের মূল সংস্থা মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান আয়ারল্যান্ডে একটি ঐতিহাসিক দুর্গ কিনেছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসেল কেনার জন্য নথিভুক্ত হয়েছে ৫১.১৭ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। তবে এই অর্থে গোটা ৪৪০ একরের সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রায় ১৮৩০ সালে নির্মিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদটি তিনতলা। এর আয়তন প্রায় ১৬ হাজার বর্গফুট। প্রাসাদকে ঘিরে রয়েছে প্রায় ৪৪০ একর জমি। বিলাসবহুল সম্পত্তির বাজারে এই কেনাকাটা ইতিমধ্যেই বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

কোথায় অবস্থিত স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসেল?

স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসেল আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের নকানর এলাকার কাছে অবস্থিত। এর কাছ দিয়েই বয়ে গিয়েছে ব্ল্যাকওয়াটার নদী। নামের সঙ্গে ক্যাসেল বা দুর্গ শব্দটি থাকলেও এটি মধ্যযুগীয় সামরিক দুর্গ নয়। বরং উনিশ শতকে নির্মিত একটি অভিজাত গ্রামীণ প্রাসাদ।

প্রাসাদটির স্থাপত্যে রয়েছে গথিক রিভাইভাল শৈলীর ছাপ। সেই সময় ইউরোপের বিভিন্ন অভিজাত আবাসনে এই ধরনের স্থাপত্য জনপ্রিয় ছিল। বিশাল জমি, নদীর নৈসর্গিক পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য মিলিয়ে সম্পত্তিটি সাধারণ বিলাসবহুল বাড়ির তুলনায় অনেকটাই আলাদা।

প্রায় ২০০ বছরের পুরনো প্রাসাদের ইতিহাস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক্তন সাংসদ জন কিলি প্রায় ১৮৩০ সালে এই বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। স্থপতি জেমস পেইন এবং জর্জ রিচার্ড পেইন এর নকশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সম্পত্তিটি একাধিক ব্যক্তিগত মালিকের হাতে যায় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কারের কাজ হয়।

সাম্প্রতিক বিক্রির আগে প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রাসাদটির মালিক ছিলেন বিনিয়োগকারী মাইকেল অ্যালেন-বাকলি এবং তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লা। মাইকেল অ্যালেন-বাকলি বিনিয়োগ সংস্থা আরএবি ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তাঁদের মালিকানার সময় ঐতিহাসিক সম্পত্তিটির সংস্কার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

সম্পত্তির দাম ৫১.১৭ মিলিয়ন ইউরো, কিন্তু রয়েছে একটি প্রশ্ন

আয়ারল্যান্ডের সম্পত্তি নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসেলের বিক্রির মূল্য ৫১.১৭ মিলিয়ন ইউরো হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় এর মূল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ের ইউরো-টাকার বিনিময় হারের উপর।

বিক্রির মূল্য সরকারি নথিতে প্রকাশিত হওয়ার আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্পত্তিটির দাম ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ইউরোর মধ্যে হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। নথিভুক্ত মূল্য প্রকাশ্যে আসার পর সেই অঙ্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তি নিবন্ধনের সংশ্লিষ্ট নথিতে প্রাসাদ এবং সর্বোচ্চ এক একর জমির উল্লেখ থাকতে পারে। অথচ পুরো এস্টেটটি প্রায় ৪৪০ একর জুড়ে বিস্তৃত। ফলে নথিতে থাকা ৫১.১৭ মিলিয়ন ইউরোর মূল্য গোটা সম্পত্তির জন্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

কেন আয়ারল্যান্ডে বাড়ি কিনলেন জাকারবার্গ?

জাকারবার্গের সংস্থা মেটা ২০০৯ সাল থেকে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে তাদের আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর পরিচালনা করছে। সেই কারণে সংস্থার ব্যবসায়িক কাজের সূত্রে জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবারের আয়ারল্যান্ডে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে সফরের সময় থাকার জন্যই এই সম্পত্তি কেনা হয়েছে। তবে এই কেনাকাটাকে জাকারবার্গের পরিবার আমেরিকা ছেড়ে আয়ারল্যান্ডে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত নয়। আপাতত সম্পত্তিটি তাঁদের আয়ারল্যান্ড সফরের সময় ব্যবহারের জন্যই কেনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

ব্ল্যাকওয়াটার নদীর কাছাকাছি অবস্থান, বিস্তীর্ণ জমি এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য এই প্রাসাদের অন্যতম আকর্ষণ। আধুনিক বিলাসবহুল বাড়ির পরিবর্তে ইতিহাস ও প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি সম্পত্তি বেছে নেওয়ার দিক থেকেও এই কেনাকাটা আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

স্থানীয় তিনটি ক্রীড়া ক্লাবকে ১.৫ লক্ষ ইউরো অনুদান

প্রাসাদ কেনার খবরের পাশাপাশি কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের তিনটি স্থানীয় ক্রীড়া ক্লাবকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান মোট ১.৫ লক্ষ ইউরো অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অনুদান পাওয়ার কথা যে তিনটি ক্লাবের, সেগুলি হল:

  • শ্যামরকস জিএএ: নকানর এলাকার ক্লাব।
  • ট্যালো জিএএ: ট্যালো এলাকার ক্লাব।
  • লিসমোর জিএএ: লিসমোর এলাকার ক্লাব।

প্রতিটি ক্লাব ৫০ হাজার ইউরো করে পাবে। দুই বছরে কিস্তির মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই হিসাবে প্রতিটি ক্লাব বছরে ২৫ হাজার ইউরো করে পেতে পারে।

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনগুলির কার্যক্রম এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে এই অর্থ কাজে লাগতে পারে। কমিউনিটির আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল এই ধরনের ক্লাবগুলির কাছে অনুদানটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কেন আলোচনায় এই কেনাকাটা?

স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসেলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাস, গথিক স্থাপত্য এবং বিশাল গ্রামীণ সম্পত্তি। জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যানের মতো আন্তর্জাতিক পরিচিত ব্যক্তিত্বের মালিকানায় আসার ফলে প্রাসাদটি নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় তিনটি ক্রীড়া ক্লাবকে অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় এই কেনাকাটার সঙ্গে কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের স্থানীয় জনজীবনের যোগও তৈরি হয়েছে।

তবে সম্পত্তি নিবন্ধনে উল্লেখিত ৫১.১৭ মিলিয়ন ইউরোকে পুরো ৪৪০ একরের এস্টেটের চূড়ান্ত মূল্য হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে নথিতে ঠিক কোন কোন সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এই বিষয়টি পরিষ্কার হলেই জাকারবার্গের এই ঐতিহাসিক সম্পত্তি কেনার প্রকৃত আর্থিক পরিসর আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *