মালদাকে দেশের ‘আম রাজধানী’ বানাতে তৎপর রাজ্য! ভিনদেশে রফতানি বাড়াতে বড় পরিকল্পনা
মালদা: শুধু ধান বা পাটই নয়, অর্থকরী ফসল হিসেবে দেশের ফলের মানচিত্রে বাংলাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বাংলার সুস্বাদু আমকে…
মালদা: শুধু ধান বা পাটই নয়, অর্থকরী ফসল হিসেবে দেশের ফলের মানচিত্রে বাংলাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বাংলার সুস্বাদু আমকে বিশ্ববাজারে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং মালদাকে ভারতের আনুষ্ঠানিক ‘আম রাজধানী’ হিসেবে প্রতিপন্ন করতে এবার পাঁচ মাসের এক সুনির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের আগামী আম মরশুমকে সামনে রেখেই মালদা জেলা প্রশাসনের তরফে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো ভিনরাজ্য ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারে মালদার আমের রফতানি বহুগুণ বৃদ্ধি করা। এর জন্য কৃষক সহায়তা প্রদান, উদ্যানপালনের পরিধি বাড়ানো, কোল্ড-চেইন পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং আধুনিক মার্কেট লিঙ্কেজ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, বৃহত্তর পরিসরে প্রক্রিয়াকরণ এবং রফতানির সুবিধার জন্য ইংলিশবাজার ফুড পার্কটিকেও পুরোপুরি কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু মালদা সফরে গিয়ে রফতানি বাড়ানোর এই রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর সেই বার্তার পরেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সার্বিক অ্যাকশন প্ল্যান জমা দেওয়া হয়।
উৎপাদন ও রফতানির খতিয়ান
তথ্য বলছে, মালদায় প্রায় ৯৬ হাজারেরও বেশি চাষি প্রায় ৩২ হাজার একর জমিতে আমের ফলন করেন। চাষ ছাড়াও এর প্রক্রিয়াকরণ ও প্যাকেজিংয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ। জেলায় বার্ষিক মোট আমের উৎপাদন প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিপুল উৎপাদনের সামান্য অংশ, মাত্র ৩০ থেকে ৬০ মেট্রিক টন আম এতদিন বিদেশে রফতানি হতো। এই ফারাক কমাতেই এবার কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে প্রশাসন। সরকারের এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন স্থানীয় চাষিরাও।
নতুন জাতের জন্য জিআই (GI) ট্যাগ প্রাপ্তির চেষ্টা
মালদার ফজলি, হিমসাগর কিংবা লক্ষণভোগের মতো জনপ্রিয় আম ইতিমধ্যেই জিআই (GI) ট্যাগের গৌরব অর্জন করেছে। তবে এখানেই থেমে থাকছে না প্রশাসন। এবার ল্যাংড়া, মল্লিকা এবং আম্রপালির মতো সুস্বাদু জাতগুলিতেও যাতে দ্রুত জিআই ট্যাগ জুটে যায়, সেই বিষয়েও জোরদার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে মালদার আমের স্বকীয়তা ও ভৌগোলিক পরিচিতি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সুদৃঢ় হবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
মার্কিন অর্থায়নে সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত! বিস্ফোরক মোদী সমর্থক মার্কিন গায়িকা