বাংলার ১৬ মেডিক্যাল কলেজে জনঔষধি কেন্দ্র! কম দামে ওষুধ পাবেন রোগীরা
কলকাতা: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে (Janaushadhi)গিয়ে অনেক সময় ওষুধের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, জটিল রোগ কিংবা নিয়মিত ওষুধ…
কলকাতা: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে (Janaushadhi)গিয়ে অনেক সময় ওষুধের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, জটিল রোগ কিংবা নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে পরিবারের মাসিক ব্যয়ের বড় অংশ চলে যায় চিকিৎসার পিছনে। এই পরিস্থিতিতে রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা করতে রাজ্যের ১৬টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্র (PMBJK) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্ব বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে এই কেন্দ্রগুলি গড়ে তোলা হবে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল রোগীদের কাছে গুণমানসম্পন্ন ওষুধ কম দামে পৌঁছে দেওয়া এবং কেন্দ্রগুলির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুনিশ্চিত করা।
আরও দেখুনঃ ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অবমাননায় উদ্বেগ! খোলা চিঠি হাভার্ডের ভারতীদের
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ১৬টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে জনঔষধি কেন্দ্র খোলা হবে। এর মধ্যে ১১টি কেন্দ্র থাকবে কলকাতার বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। বাকি পাঁচটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়া জেলার একটি করে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
ফলে কলকাতার পাশাপাশি জেলার সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও সাশ্রয়ী ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দূরবর্তী জেলা থেকে চিকিৎসার (Janaushadhi)জন্য সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে এই পরিষেবা কতটা কার্যকর হয়, তা নজরে থাকবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। কেন্দ্রগুলি স্থাপন ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত বেসরকারি সংস্থা বেছে নেওয়া হবে।
নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারী সংস্থাগুলিকেই এই কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় সংস্থা নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্রগুলি চালু করা যায়। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মতে, শুধু কেন্দ্র তৈরি করলেই হবে না, নিয়মিত পরিচালনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা এবং পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেই কারণেই পিপিপি মডেল বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের কাছে তুলনামূলক কম দামে গুণমানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। ব্র্যান্ডেড ওষুধের পরিবর্তে উপযুক্ত জেনেরিক ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে চিকিৎসার খরচ কমানোর সম্ভাবনা থাকে। তবে কোন রোগীর ক্ষেত্রে কোন ওষুধ প্রয়োজন, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই নির্ধারিত হওয়া জরুরি।
সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মতো জায়গায় এই কেন্দ্রগুলি চালু হলে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী এবং তাঁদের পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহের একটি অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষত যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী দামে ওষুধ পাওয়া আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।