নতুন Toyota Glanza বুকিং শুরু, ১১ হাজার টাকায় কবে মিলবে গাড়ি? - 24 Ghanta Bangla News
Home

নতুন Toyota Glanza বুকিং শুরু, ১১ হাজার টাকায় কবে মিলবে গাড়ি?

Spread the love

ভারতের বাজারে নতুন ২০২৬ টয়োটা গ্লানজা (Toyota Glanza) ফেসলিফ্টের বুকিং শুরু হয়েছে। ৬.৯৯ লক্ষ টাকা প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দামে লঞ্চ হওয়া এই প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা অনলাইনে অথবা নিকটবর্তী টয়োটা ডিলারশিপে গিয়ে বুকিং করতে পারবেন। গাড়িটি বুক করতে দিতে হবে ১১,০০০ টাকা। সংস্থার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন গ্লানজার ডেলিভারি শুরু হওয়ার কথা।

নতুন মডেলে সামনের নকশায় পরিবর্তন, উন্নত ফিচার, ভেন্টিলেটেড সামনের আসন, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার এবং লেভেল ২ এডিএএসের মতো সুবিধা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন ১.২ লিটারের জেড-সিরিজ পেট্রল ইঞ্জিন এবং কারখানায় বসানো সিএনজি কিটের বিকল্পও রয়েছে। তবে উৎসবের মরশুমে চাহিদা বেশি থাকলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে। কোন ভ্যারিয়েন্ট এবং রং বেছে নেওয়া হচ্ছে, তার উপরেও ডেলিভারির সময় নির্ভর করবে।

কীভাবে অনলাইনে নতুন গ্লানজা বুক করবেন?

টয়োটা ইন্ডিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের ই-বুকিং বিভাগ থেকে নতুন গ্লানজা বুক করা যাবে। অনলাইনে বুকিংয়ের আগে গাড়ির বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট, জ্বালানির বিকল্প এবং রং দেখে নিজের পছন্দ অনুযায়ী গাড়িটি বেছে নেওয়া সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হবে।

প্রথমে টয়োটা ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-বুকিং বিভাগ খুলতে হবে। সেখানে নতুন গ্লানজা নির্বাচন করে বুকিং প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এরপর পেট্রল অথবা সিএনজি সংস্করণ বেছে নিতে হবে। গিয়ারবক্সের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল বা এএমটি বিকল্প নির্বাচন করা যাবে, যদি তা সংশ্লিষ্ট ভ্যারিয়েন্টে উপলব্ধ থাকে।

এরপর বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী ই, এস, জি, ভি অথবা ভি(ও) ভ্যারিয়েন্ট নির্বাচন করতে হবে। ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট মডেলের দাম, জ্বালানির ধরন এবং ট্রান্সমিশনের তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। পছন্দের ভ্যারিয়েন্ট চূড়ান্ত করার পর বাইরের রং বেছে নিতে হবে।

পরবর্তী ধাপে নিজের বর্তমান অবস্থান জানিয়ে পছন্দের টয়োটা ডিলারশিপ নির্বাচন করতে হবে। এরপর নাম, ইমেল ঠিকানা, ঠিকানা এবং প্যান কার্ডের মতো ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করার পর নির্বাচিত গাড়ির বিবরণ আবার পরীক্ষা করে নিতে হবে। সব তথ্য ঠিক থাকলে ১১,০০০ টাকা বুকিংয়ের অর্থ জমা দিয়ে বুকিং নিশ্চিত করা যাবে।

বুকিং সম্পন্ন হওয়ার পরে টয়োটার বিক্রয় প্রতিনিধি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। গাড়ির অর্থায়ন, ব্যাঙ্কের কাগজপত্র এবং ডেলিভারির আগে প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সাহায্য করবেন।

শোরুমে গিয়েও বুক করতে পারবেন

যাঁরা সরাসরি গাড়ি দেখে কেনার সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাঁদের জন্য নিকটবর্তী টয়োটা ডিলারশিপে গিয়ে বুকিং করার বিকল্পও রয়েছে। শোরুমে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে বাজেট, ব্যবহারের ধরন এবং পছন্দের ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা যাবে। পাশাপাশি, গাড়ির কেবিন, আসনের জায়গা, ফিচার এবং বিভিন্ন অ্যাকসেসরিজ সরাসরি দেখে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

বুকিংয়ের আগে টেস্ট ড্রাইভ করে নেওয়া ভালো। এতে গাড়ির চালানোর অভিজ্ঞতা, আসনের আরাম, দৃশ্যমানতা এবং গিয়ারবক্সের ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়। শোরুমে টেস্ট ড্রাইভের গাড়ি উপলব্ধ না থাকলে ডিলারশিপের কাছে বাড়ি বা অফিসে গাড়ি নিয়ে আসার অনুরোধও করা যেতে পারে। গাড়ি পছন্দ হলে নির্ধারিত বুকিংয়ের অর্থ জমা দিয়ে অর্ডার নিশ্চিত করা যাবে।

কবে থেকে ডেলিভারি শুরু হবে?

নতুন টয়োটা গ্লানজা ফেসলিফ্টের ডেলিভারি ২০২৬ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়ার কথা। তবে এই সময়সূচি সব ক্রেতার ক্ষেত্রে একই হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উৎসবের মরশুমে গাড়ির চাহিদা বাড়লে কিছু ভ্যারিয়েন্টের জন্য অপেক্ষার সময় তৈরি হতে পারে।

ডেলিভারির সময় নির্ভর করবে নির্বাচিত ভ্যারিয়েন্ট, গাড়ির রং এবং সংশ্লিষ্ট শহরে গাড়ির জোগানের উপর। তাই বুকিং করার আগে নিকটবর্তী টয়োটা ডিলারশিপের কাছে সম্ভাব্য ডেলিভারির তারিখ জেনে নেওয়া উচিত। বুকিংয়ের সময় উল্লেখ করা তারিখ এবং প্রকৃত ডেলিভারির সময়ের মধ্যে পার্থক্য হতে পারে।

নতুন গ্লানজায় কী কী পরিবর্তন হয়েছে?

২০২৬ সালের গ্লানজার সামনের অংশে নতুন বড় মেশ গ্রিল, সংশোধিত বাম্পার এবং পরিবর্তিত টয়োটা লোগোর অবস্থান নজরে পড়বে। হেডল্যাম্পে এলইডি প্রজেক্টর ইউনিট রয়েছে। সামনের অংশে এলইডি ফগ ল্যাম্পও দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

পাশের অংশে নতুন গ্লস ব্ল্যাক সাইড স্কার্ট যুক্ত হয়েছে। তবে বড় জানলা, ১৬ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল, ক্রোম ডোর হ্যান্ডেল এবং জানলার চারপাশের ক্রোম স্ট্রিপের মতো পরিচিত বৈশিষ্ট্যগুলি রয়েছে। পিছনে সি-আকৃতির এলইডি টেলল্যাম্প, ক্রোম স্ট্রিপ এবং স্পয়লারের নকশা বজায় রাখা হয়েছে।

কেবিনে কালো ও বেইজ রঙের মিশ্রণ রয়েছে। ড্যাশবোর্ডের মাঝখানে ৯ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। পিছনের যাত্রীদের জন্য এসি ভেন্ট, বড় জানলা এবং পর্যাপ্ত বসার জায়গা রয়েছে। ফলে শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি দীর্ঘ যাত্রার ক্ষেত্রেও গাড়িটি ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।

ফিচারের তালিকায় রয়েছে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো, অ্যাপল কারপ্লে, চারটি স্পিকার ও দুটি টুইটার-সহ ক্ল্যারিয়ন সাউন্ড সিস্টেম, হেড-আপ ডিসপ্লে, ক্রুজ কন্ট্রোল, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, অটোমেটিক হেডল্যাম্প এবং পুশ-বাটন স্টার্ট। নতুন সংযোজনের মধ্যে রয়েছে ভেন্টিলেটেড সামনের আসন ও ওয়্যারলেস ফোন চার্জার।

নিরাপত্তায় লেভেল ২ এডিএএস

নতুন গ্লানজায় লেভেল ২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস যুক্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, পিছনের পার্কিং সেন্সর, ছয়টি এয়ারব্যাগ, এবিএস-সহ ইবিডি, ব্রেক অ্যাসিস্ট, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম, হিল-হোল্ড কন্ট্রোল এবং শিশুদের আসনের জন্য আইএসওফিক্স মাউন্ট রয়েছে।

তবে কোন ভ্যারিয়েন্টে কোন নিরাপত্তা ফিচার পাওয়া যাবে, তা বুকিংয়ের আগে যাচাই করা উচিত। শুধু এডিএএস থাকার কথা শুনে গাড়ির সব চালক-সহায়ক ব্যবস্থা প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

পেট্রল ও সিএনজি, দুই বিকল্পেই নতুন ইঞ্জিন

নতুন গ্লানজায় ১.২ লিটারের প্রাকৃতিকভাবে বাতাস গ্রহণকারী তিন-সিলিন্ডার জেড-সিরিজ পেট্রল ইঞ্জিন রয়েছে। পেট্রল সংস্করণে সর্বোচ্চ শক্তি ৮৩ পিএস এবং সর্বোচ্চ টর্ক ১১২ এনএম। সিএনজি সংস্করণে শক্তি ৭০ পিএস এবং টর্ক ১০২ এনএম।

দুই সংস্করণেই পাঁচ-স্পিড ম্যানুয়াল এবং পাঁচ-স্পিড এএমটি গিয়ারবক্সের বিকল্প রয়েছে। তবে সিএনজি কেবল নির্বাচিত এস এবং জি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে।

দাম ও প্রতিদ্বন্দ্বী গাড়ি

নতুন টয়োটা গ্লানজার এক্স-শোরুম দাম ৬.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে শুরু। এই বিভাগে গাড়িটির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে মারুতি সুজুকি ব্যালেনো, টাটা আলট্রোজ এবং হুন্ডাই আই২০। একই দামের পরিসরে ক্রেতারা মারুতি সুজুকি ফ্রঙ্কস, টয়োটা আরবান ক্রুজার টাইসর, টাটা পাঞ্চ, হুন্ডাই গ্র্যান্ড আই১০ নিওস এবং মারুতি সুজুকির সুইফটও বিবেচনা করতে পারেন।

নতুন গ্লানজা বুক করার প্রক্রিয়া সহজ হলেও বুকিংয়ের আগে ভ্যারিয়েন্ট, জ্বালানির ধরন, গিয়ারবক্স, অন-রোড দাম এবং ডেলিভারির সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে পছন্দের রং বা ভ্যারিয়েন্টের জোগান সীমিত থাকলে অপেক্ষা বাড়তে পারে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *