ওমলেট, পোচ নাকি সেদ্ধ, কোনটা খেলে ডিমের পুষ্টি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় জানেন? | Boiled vs poached vs fried egg nutrition comparison which is best
সকালের জলখাবার হোক কিংবা বিকেলের ঝটপট স্ন্যাক্স—বাঙালির হেঁশেলে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। পুষ্টিবিদদের কাছে ডিম হল সুপারফুড বা পুষ্টির পাওয়ারহাউস। প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, কোলিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং খনিজের খনি এই ডিম। কিন্তু প্রতিদিনের রান্নার ফেরে ওমলেট, পোচ, না কি সেদ্ধ—কোন উপায়ে ডিম খেলে তার আসল পুষ্টিগুণ পুরোমাত্রায় শরীরে প্রবেশ করে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকেরই। চলুন জেনে নেওয়া যাক রান্নার পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে ডিমের পুষ্টিমানের আসল ফারাক ঠিক কোথায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের পুষ্টি পাওয়ার সবচেয়ে সেরা এবং স্বাস্থ্যকর উপায় হল এটি সেদ্ধ করে খাওয়া। ডিম সেদ্ধ করার সময় অতিরিক্ত তেল, মাখন বা মশলার প্রয়োজন হয় না। ফলে ডিমের নিজস্ব ফ্যাট ও ক্যালোরির মাত্রা ঠিক থাকে। সেদ্ধ ডিমে প্রোটিনের অবিকৃত রূপ বজায় থাকে এবং এর সমস্ত ফ্যাট-সলুবল ভিটামিন সরাসরি শরীর শোষণ করতে পারে। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান কিংবা ডায়েটে আছেন, তাঁদের জন্য জলখাবারে সেদ্ধ ডিমের জুড়ি মেলা ভার।
কম তেলে বা জলের ভাপেই মূলত পোচ তৈরি করা হয়। যেহেতু ওমলেটের মতো এতে অতিরিক্ত তেল বা মাখনের ভাজার ব্যাপার থাকে না, তাই সেদ্ধ ডিমের পরেই স্বাস্থ্যের দিক থেকে পোচের স্থান। তবে পোচ বানানোর সময় ডিমের কুসুম অনেকটাই নরম বা কাঁচা থেকে যায়। অনেক সময় কুসুম পুরোপুরি না জমলে তা থেকে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের সামান্য ঝুঁকি থাকে, তবে পুষ্টির বিচারে এটিও যথেষ্ট ভালো বিকল্প।
ওমলেট খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। পেঁয়াজ, লঙ্কা, ধনেপাতা ও নানা মশলা দিয়ে তৈরি ওমলেট মুখের স্বাদ বদলালেও পুষ্টির অঙ্কে এটি একটু পিছিয়ে পড়ে। ওমলেট বানাতে প্রচুর পরিমাণে তেল, বাটার বা ঘি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে খাবারে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ক্যালোরি যুক্ত হয়, যা কোলেস্টেরল বা ওজন বাড়ার কারণ হতে পারে। তাছাড়া বেশি আঁচে দীর্ঘক্ষণ ভাজার ফলে ডিমের কিছু সংবেদনশীল প্রোটিন ও পুষ্টি উপাদান কিছুটা নষ্ট হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কী?
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, আপনি যদি সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে চান এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি এড়াতে চান, তবে চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখতে পারেন সেদ্ধ ডিমের ওপর। তবে মাঝেসাঝে স্বাদের বৈচিত্র্য আনতে পোচ বা পরিমিত তেলে ভাজা ওমলেট খাওয়া যেতেই পারে। তবে শরীরের অবস্থা ও ফিটনেস লক্ষ্য মাথায় রেখে তেল-মশলার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।