রেনো বিগস্টার SUV ২০২৭-এ ভারতে আসতে পারে, মিলবে ৭ আসন ও হাইব্রিড ইঞ্জিন
ভারতের গাড়ির বাজারে বড় এসইউভি আনার পরিকল্পনা করছে রেনো। সেই সম্ভাবনার মধ্যেই ২০২৬ সালের প্যারিস মোটর শো-তে প্রদর্শিত হল ডেসিয়া বিগস্টার হাইব্রিড। তিন সারির আসনযুক্ত এই এসইউভি ২০২৭ সালে ভারতে রেনো ব্র্যান্ডের অধীনে লঞ্চ হতে পারে। গাড়িটি ভারতে বিক্রি হওয়া রেনো ডাস্টারের উপরে স্থান পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ইঞ্জিন বিকল্পের মধ্যে রয়েছে ১.৩ লিটারের টার্বো-পেট্রল এবং ১.৮ লিটারের স্ট্রং-হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন। বড় আকার, সাত আসনের বিন্যাস এবং হাইব্রিড প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন এসইউভিটি ভারতের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। তবে সংস্থা এখনও ভারতীয় সংস্করণের চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য, দাম বা লঞ্চের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি।
রেনো ডাস্টারের উপরে থাকবে নতুন এসইউভি
ডেসিয়া বিগস্টার ইউরোপের বাজারে ডেসিয়া ব্র্যান্ডের অধীনে পরিচিত হলেও, ভারতে গাড়িটি রেনো ব্র্যান্ডের অধীনে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে রেনোর এসইউভি তালিকায় ডাস্টারের উপরে একটি বড় মডেল যুক্ত হবে। তিন সারির আসন থাকায় বড় পরিবারের জন্য গাড়িটি বিশেষভাবে উপযোগী হতে পারে।
আকারের দিক থেকে বিগস্টারের হুইলবেস ভারতীয় সংস্করণের রেনো ডাস্টারের তুলনায় ৪৫ মিলিমিটার বেশি। গাড়িটির মোট দৈর্ঘ্যও ডাস্টারের চেয়ে ২৩০ মিলিমিটার বেশি। অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যের বড় অংশ পিছনের ওভারহ্যাংয়ে রয়েছে। এই বাড়তি মাপ কেবিনের বিন্যাস এবং পিছনের অংশের নকশায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তৃতীয় সারিতে কতটা জায়গা থাকবে এবং লাগেজ রাখার জন্য কতটা স্থান পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইউরোপে প্রদর্শিত ডেসিয়া বিগস্টারে রয়েছে বড়সড় সামনের স্কিড প্লেট, মজবুত চেহারার বাম্পার এবং এলইডি ডে-টাইম রানিং লাইট। এই নকশা গাড়িটিকে রুক্ষ রাস্তার উপযোগী এসইউভির মতো চেহারা দিয়েছে। তবে ভারতে আসার সময় এর বাহ্যিক নকশায় কিছু পরিবর্তন হতে পারে।
১.৩ লিটারের টার্বো-পেট্রল ও ১.৮ লিটারের হাইব্রিড ইঞ্জিন
ভারতীয় বাজারের জন্য বিগস্টারে দুটি পাওয়ারট্রেন বিকল্প থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি ১.৩ লিটারের টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন এবং অন্যটি ১.৮ লিটারের স্ট্রং-হাইব্রিড ব্যবস্থা। দ্বিতীয় প্রযুক্তিটি ভারতে প্রথম ব্যবহার করতে চলেছে রেনো ডাস্টার, যার লঞ্চের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৭ অক্টোবর, ২০২৬।
রেনো ডাস্টারের হাইব্রিড সংস্করণে ১.৮ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিনের সঙ্গে দুটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং ১.৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি থাকবে। এই ব্যবস্থার সম্মিলিত ক্ষমতা ১৬০ হর্সপাওয়ার এবং সর্বোচ্চ টর্ক ১৭২ নিউটন-মিটার। পাওয়ারট্রেনটির সঙ্গে মাল্টি-মোড স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট গিয়ার অনুপাত রয়েছে।
স্ট্রং-হাইব্রিড প্রযুক্তির বিশেষত্ব হল, ব্যাটারি চার্জ করার জন্য আলাদা করে চার্জিং পয়েন্টে গাড়ি লাগানোর প্রয়োজন হয় না। গাড়ি চালানোর সময় এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতে সিস্টেম নিজেই ব্যাটারি চার্জ করে। ফলে প্রচলিত পেট্রল গাড়ির মতো জ্বালানি ভরেই গাড়িটি ব্যবহার করা যায়, আবার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যেও চলতে পারে।
রেনোর দাবি, ডাস্টার হাইব্রিড শহরের মধ্যে মোট যাত্রার সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বৈদ্যুতিক মোডে সম্পন্ন করতে পারে। তবে এই পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট চালানোর পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। ট্রাফিক, রাস্তার অবস্থা, গতি এবং চালানোর ধরন অনুযায়ী বাস্তব অভিজ্ঞতা বদলাতে পারে।
বিগস্টারের হাইব্রিড ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন হতে পারে?
ভারতে আসতে চলা বিগস্টারে ডাস্টারের একই ১.৮ লিটারের হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে বিগস্টারের আকার বড় হওয়ায় এর সম্মিলিত ক্ষমতা, টর্ক এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিসংখ্যান ডাস্টারের থেকে আলাদা হতে পারে। সংস্থা এখনও ভারতীয় সংস্করণের চূড়ান্ত পাওয়ার ও টর্কের তথ্য প্রকাশ করেনি।
বড় এসইউভিতে হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহার করলে শহরের ট্রাফিকে জ্বালানি খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিগস্টারের প্রকৃত জ্বালানি সাশ্রয় কত হবে, তা জানতে সংস্থার আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা করতে হবে। একইভাবে, ১.৩ লিটারের টার্বো-পেট্রল সংস্করণের ক্ষমতা, গিয়ারবক্স এবং ড্রাইভ বিন্যাস সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
ভারতীয় সংস্করণে বদলাতে পারে নকশা ও কেবিন
ইউরোপের ডেসিয়া বিগস্টারের সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য রেনো সংস্করণের বাহ্যিক নকশায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। ভারতীয় বাজারের জন্য তৈরি রেনো ডাস্টারের নকশায় ইউরোপীয় ডেসিয়া ডাস্টারের তুলনায় পরিবর্তন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় ডাস্টারে সংযুক্ত টেলল্যাম্প ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে ইউরোপীয় ডেসিয়া ডাস্টারে পিছনের বাতিগুলি আলাদা আলাদা ইউনিট হিসেবে রয়েছে।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভারতীয় বিগস্টারের গ্রিল, বাম্পার এবং অন্যান্য নকশার অংশেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কী বদল হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
কেবিনের ক্ষেত্রেও নতুন রেনো ডাস্টারের সঙ্গে কিছু মিল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ডাস্টারে রয়েছে ১০.১ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থা, ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, দুই অঞ্চলে আলাদা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং তারবিহীন ফোন চার্জার। বিগস্টার যেহেতু আকারে বড় এবং উচ্চতর অবস্থানের এসইউভি হবে, তাই এতে অতিরিক্ত আরামদায়ক ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য যোগ হতে পারে। তবে এগুলির কোনওটিই এখনও ভারতীয় বিগস্টারের জন্য নিশ্চিত করা হয়নি।
হুন্ডাই, মাহিন্দ্রা ও এমজি-র এসইউভির সঙ্গে প্রতিযোগিতা
২০২৭ সালে ভারতে লঞ্চ হলে রেনো বিগস্টার তিন সারির আসনযুক্ত এসইউভির বাজারে প্রতিযোগিতা করবে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে হুন্ডাই আলকাজার, মাহিন্দ্রা এক্সইউভি ৭এক্সও এবং এমজি হেক্টর টমাহক রেঞ্জের গাড়ি।
এই বিভাগে ক্রেতারা সাধারণত আসনের সংখ্যা, কেবিনের জায়গা, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করেন। বিগস্টারের বড় হুইলবেস এবং সম্ভাব্য হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন তাকে এই প্রতিযোগিতায় আলাদা পরিচয় দিতে পারে। তবে দাম ও চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী গাড়িগুলির সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা কঠিন।
এদিকে, তিন সারির এই এসইউভির একটি নিসান সংস্করণকেও ভারতে পরীক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে একই গাড়ির ভিত্তিতে তৈরি একাধিক ব্র্যান্ডের মডেল ভারতীয় বাজারে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে নিসান সংস্করণের লঞ্চের সময় বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য নেই।
কবে ভারতে লঞ্চ হবে রেনো বিগস্টার?
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেনো ব্র্যান্ডের অধীনে বিগস্টার ২০২৭ সালে ভারতে আসতে পারে। প্যারিস মোটর শো-তে প্রদর্শিত গাড়িটি সংস্থার ভবিষ্যৎ এসইউভি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেও ভারতীয় সংস্করণের দাম, বুকিং শুরুর সময় এবং নির্দিষ্ট লঞ্চের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
বড় আকার, তিন সারির আসন এবং ১.৮ লিটারের স্ট্রং-হাইব্রিড প্রযুক্তির সম্ভাবনা রেনো বিগস্টারকে ভারতের এসইউভি বাজারে উল্লেখযোগ্য মডেল করে তুলতে পারে। তবে ভারতীয় সংস্করণের নকশা, ইঞ্জিনের চূড়ান্ত ক্ষমতা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং দাম সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেতে সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business