বুধবার ভারতে রাজপথে নতুন টয়োটা গ্লাঞ্জা, থাকছে বড় পরিবর্তন
ভারতের গাড়ির বাজারে আগামীকাল নতুন গ্লাঞ্জা লঞ্চ করতে চলেছে টয়োটা। ফেসলিফট সংস্করণে এই প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক গাড়িটির ডিজাইন, ফিচার এবং ইঞ্জিনে একাধিক পরিবর্তন আসতে পারে। সম্প্রতি আপডেটেড মারুতি ব্যালেনো বাজারে আসার পর এবার টয়োটার গাড়িটি নিয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংস্থার প্রকাশিত টিজার ভিডিওতে নতুন গ্রিল, সংশোধিত সামনের বাম্পার এবং এলইডি ফগ ল্যাম্পের ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি গাড়িটিতে নতুন ইঞ্জিন, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত আরামদায়ক ফিচার যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে গাড়িটির চূড়ান্ত দাম ও সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই জানা যাবে।
নতুন টয়োটা গ্লাঞ্জার ডিজাইনে কী পরিবর্তন আসছে?
২০২৬ সালের টয়োটা গ্লাঞ্জায় বাইরের নকশায় কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। নতুন মডেলটির সামনের অংশে সংশোধিত গ্রিল, নতুন ডিজাইনের বাম্পার এবং এলইডি ফগ ল্যাম্প থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে টিজার ভিডিও। তবে গাড়িটিতে আগের মতোই এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প এবং তার সঙ্গে যুক্ত এলইডি ডে-টাইম রানিং লাইট থাকতে পারে।
গাড়ির পাশের অংশে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে নতুন ডিজাইনের ১৬ ইঞ্চির ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল যুক্ত হতে পারে। এছাড়া ক্রোম ফিনিশযুক্ত দরজার হাতল, বাইরের রিয়ার-ভিউ মিররে টার্ন ইন্ডিকেটর এবং শার্ক-ফিন অ্যান্টেনার মতো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।
পিছনের অংশেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। আগের মডেলের মতো সি-আকৃতির এলইডি টেলল্যাম্প, টেলগেটে ক্রোম স্ট্রিপ এবং বড় বাম্পার থাকতে পারে। সব মিলিয়ে, নতুন গ্লাঞ্জার নকশায় পরিবর্তনগুলি মূলত গাড়িটির সামনের অংশ এবং অ্যালয় হুইলে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
কেবিনে নতুন ফিচার, বাড়তে পারে আরাম
নতুন গ্লাঞ্জার কেবিনে কালো ও বেইজ রঙের সমন্বয় বজায় থাকতে পারে। তবে আসনের আপহোলস্ট্রিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সব যাত্রীর জন্য অ্যাডজাস্টেবল হেডরেস্ট দেওয়া হতে পারে।
গাড়িটিতে তিন-স্পোকের স্টিয়ারিং হুইল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য আলাদা ফিজিক্যাল সুইচ থাকতে পারে। এগুলি চালকের জন্য গাড়ি চালানোর সময় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা সহজ করতে পারে।
ফিচারের তালিকায় আরও যুক্ত হতে পারে ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার এবং ব্র্যান্ডেড মিউজিক সিস্টেম। পাশাপাশি ৯ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, হেড-আপ ডিসপ্লে এবং কানেক্টেড কার প্রযুক্তি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই ফিচারগুলি এখনও প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্য হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। কোন ভ্যারিয়েন্টে কোন সুবিধা থাকবে, তা টয়োটার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থেকে স্পষ্ট হবে।
নিরাপত্তায় ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ও এডিএএস আসতে পারে
নতুন গ্লাঞ্জায় নিরাপত্তার দিকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। আপডেটেড মারুতি ব্যালেনোর মতো এতে সামনের পার্কিং সেন্সর, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং লেভেল ২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এডিএএস প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ির নির্দিষ্ট সংস্করণ ও ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে চালককে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সতর্ক করা বা সহায়তা দেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা পার্কিংয়ের সময় গাড়ির চারপাশের দৃশ্য বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
এছাড়া ছয়টি এয়ারব্যাগ, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল, আইএসওফিক্স চাইল্ড সিট অ্যাঙ্করেজ এবং হিল-হোল্ড অ্যাসিস্ট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এডিএএসের নির্দিষ্ট ফিচার এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ভ্যারিয়েন্টভিত্তিক বিন্যাস এখনও নিশ্চিত নয়।
নতুন ১.২ লিটার ইঞ্জিন পেতে পারে গ্লাঞ্জা
ফেসলিফট সংস্করণে ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত কে১২বি পেট্রোল ইঞ্জিনের পরিবর্তে নতুন ব্যালেনোর জেড১২ই ১.২ লিটারের তিন-সিলিন্ডার ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারে টয়োটা। তবে এই পরিবর্তন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ইঞ্জিন বিকল্পগুলির ক্ষমতা ও টর্কের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হল।
| বৈশিষ্ট্য | ১.২ লিটার পেট্রোল | ১.২ লিটার পেট্রোল-সিএনজি |
| সর্বোচ্চ ক্ষমতা | ৮৩ পিএস | ৭৭.৫ পিএস |
| সর্বোচ্চ টর্ক | ১১২ এনএম | ৯৮.৫ এনএম |
| গিয়ারবক্স | ৫-স্পিড ম্যানুয়াল, ৫-স্পিড এএমটি | ৫-স্পিড ম্যানুয়াল |
এখানে উল্লেখিত পেট্রোল-সিএনজি সংস্করণের পরিসংখ্যান এবং ব্যালেনোর সিএনজি ব্যবস্থার তথ্য এক নয়। ব্যালেনোর সিএনজি সংস্করণে ইঞ্জিনের ক্ষমতা ৭০ পিএস এবং টর্ক ১০২ এনএম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই নতুন গ্লাঞ্জার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান নিশ্চিত হওয়ার জন্য টয়োটার ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
সিএনজি ও এএমটি বিকল্পেও থাকতে পারে পরিবর্তন
নতুন গ্লাঞ্জায় পেট্রোল ইঞ্জিনের পাশাপাশি সিএনজি বিকল্পও থাকতে পারে। বর্তমানে সিএনজি গাড়ির ক্ষেত্রে জ্বালানি খরচ কমানোর বিষয়টি অনেক ক্রেতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন মডেলে সিএনজি বিকল্প থাকলে তা এই ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারে।
এছাড়া ফেসলিফট সংস্করণে সিএনজি ও এএমটি গিয়ারবক্সের সমন্বয় আনার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। এএমটি বা অটোমেটেড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশনে চালককে প্রতিবার নিজে গিয়ার বদলাতে হয় না। তবে নতুন গ্লাঞ্জায় এই সমন্বয় বাস্তবে থাকবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
নতুন টয়োটা গ্লাঞ্জার সম্ভাব্য দাম ও প্রতিদ্বন্দ্বী
২০২৬ সালের টয়োটা গ্লাঞ্জার সম্ভাব্য প্রারম্ভিক দাম ৬.৮৫ লক্ষ টাকা, এক্স-শোরুম বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এটি এখনও প্রত্যাশিত দাম, সংস্থার ঘোষিত মূল্য নয়। লঞ্চের সময় ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী চূড়ান্ত দাম জানা যাবে।
বাজারে গাড়িটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে থাকবে মারুতি ব্যালেনো, হুন্ডাই আই২০ এবং টাটা অলট্রোজ। একই সঙ্গে সিট্রোয়েন সি৩এক্স, মারুতি ফ্রঙ্কস এবং টয়োটা আরবান ক্রুজার টেইসর-এর মতো গাড়ির সঙ্গেও ক্রেতাদের পছন্দের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা হতে পারে।
নতুন গ্লাঞ্জার ডিজাইন, ফিচার এবং ইঞ্জিনে পরিবর্তন সত্যি হলে প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক বিভাগে গাড়িটি নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দাম, ভ্যারিয়েন্টভিত্তিক ফিচার এবং ইঞ্জিনের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business