যোগী রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ‘জাপান সিটি!’ বদলে দেবে রাজ্যের শিল্প-বিনিয়োগের মানচিত্র
লখনউ: রাজ্যের শিল্প এবং বিনিয়োগের মানচিত্র বদলে দেওয়ার (Japan City)মত প্রকল্প হাতে নিয়েছে উত্তর প্রদেশের যোগী সরকার। জেওয়ারের নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র তিন…
লখনউ: রাজ্যের শিল্প এবং বিনিয়োগের মানচিত্র বদলে দেওয়ার (Japan City)মত প্রকল্প হাতে নিয়েছে উত্তর প্রদেশের যোগী সরকার। জেওয়ারের নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘জাপান সিটি’। এই উদ্যোগ জাপানি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং আধুনিক শিল্প বাস্তুতন্ত্র তৈরি করতে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গত আগস্টে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইউপি-জাপান ইনভেস্টমেন্ট মিটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন। তিনি জাপানি কোম্পানিগুলোকে উত্তর প্রদেশকে তাদের দ্বিতীয় শিল্প বাড়ি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। (Japan City)প্রস্তাবিত জাপান সিটি যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সেক্টর ৫এ-তে প্রায় ৫০০ একর জমিতে গড়ে উঠবে। এটি একটি মিশ্র ব্যবহারের টাউনশিপ হবে যেখানে শিল্প কারখানা, আবাসন, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা একসঙ্গে থাকবে।
আরও দেখুনঃ তেজসে উড়েই কর্মজীবন শেষ করবেন বিমানবাহিনী প্রধান! ৩১ অক্টোবরেই শেষ সর্টি এপি সিংয়ের
বিমানবন্দরের এত কাছে অবস্থানের কারণে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ মন্ত্রিসভা জেওয়ার বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (Japan City)এই বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই পরিচালনা শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এটি দেশের অন্যতম বড় বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপান সিটির কাছে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ক্লাস্টার এবং ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানি কোম্পানিগুলোকে শুধু কারখানা স্থাপনের সুযোগই দেওয়া হবে না, বরং তাদের কর্মী ও পরিবারের জন্য উপযুক্ত আবাসন ও জীবনযাত্রার পরিবেশও তৈরি করা হবে। জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বিশেষ করে রোবোটিক্স, প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এসকর্টস কুবোটা ও মিন্ডা করপোরেশনের মতো কোম্পানি যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে অঞ্চলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঘোষণা করেছে। এসব প্রকল্পে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর প্রদেশ সরকার জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে। অটোমোবাইল খাতের বাইরে সেমিকন্ডাক্টর, ক্লিন এনার্জি, ইলেকট্রনিক্স এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই মূল লক্ষ্য। রাজ্যে ইতিমধ্যে ৭৫ হাজার একরের বেশি শিল্প জমির ব্যাংক রয়েছে এবং এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের পাশে একাধিক ম্যানুফ্যাকচারিং ও লজিস্টিকস ক্লাস্টার গড়ে তোলা হচ্ছে।
জাপান সিটি শুধু একটি শিল্প এলাকা নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার কেন্দ্র হিসেবে পরিকল্পিত। এখানে স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থাকবে যাতে জাপানি কর্মীরা সহজেই বসবাস করতে পারেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে করিডোর ইতিমধ্যেই দ্রুত বিকাশের পথে রয়েছে। বিমানবন্দর, শিল্প নগরী এবং পরিকল্পিত টাউনশিপগুলো মিলে এই অঞ্চলকে জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে। জাপান সিটি সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।