তেজসে উড়েই কর্মজীবন শেষ করবেন বিমানবাহিনী প্রধান! ৩১ অক্টোবরেই শেষ সর্টি এপি সিংয়ের
নয়াদিল্লি: ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং (AP Singh)আজ তাঁর কর্মজীবনের শেষ সর্টি উড়বেন। যোধপুর বিমানঘাঁটি থেকে দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজস-এ চড়ে তিনি আকাশে…
নয়াদিল্লি: ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং (AP Singh)আজ তাঁর কর্মজীবনের শেষ সর্টি উড়বেন। যোধপুর বিমানঘাঁটি থেকে দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজস-এ চড়ে তিনি আকাশে উঠবেন। এটি তাঁর বিদায়ী উড্ডয়ন। আগামী ৩১ অক্টোবর তিনি অবসর নেবেন।
এই উড্ডয়নটি বহুজাতিক যুদ্ধাভ্যাস তরঙ্গ শক্তির অংশ হিসেবে সম্পন্ন হচ্ছে। এই অ্যায়ার এক্সারসাইজে ভারতসহ আটটি দেশের বিমানবাহিনী অংশ নিচ্ছে। (AP Singh )প্রায় ১৫০টি যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান এতে যুক্ত রয়েছে। তেজস এমকে-১ ভ্যারিয়েন্টটিই আজ প্রধানের পাইলটিংয়ে আকাশে উঠবে। বর্তমানে বিমানবাহিনীর কাছে ৩০টি তেজস এমকে-১ ও আটটি প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে।
আরও দেখুনঃ মায়ের মৃত্যু নিয়েও রাজনীতি করেছেন মোদী! ফের বেলাগাম আরশোলা নেতা আশুতোষ
এয়ার চিফ মার্শাল সিংয়ের এই শেষ উড্ডয়ন দেশীয় বিমান শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তেজস ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রচেষ্টার প্রতীক। যদিও এমকে-১এ ভ্যারিয়েন্টের সরবরাহে কিছু বিলম্ব হয়েছে, তবুও এটি ভবিষ্যতের যুদ্ধবিমান বহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিংয়ের নেতৃত্বে বিমানবাহিনী বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। স্কোয়াড্রন সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশীয় প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, প্রতি বছর ৩৬ থেকে ৪০টি নতুন যুদ্ধবিমান প্রয়োজন যাতে বহরের শক্তি বজায় থাকে। তেজস এমকে-২ ও এএমসিএ প্রকল্পগুলোকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
জodhpur-এর এই উড্ডয়ন শুধু একজন প্রধানের বিদায় নয়, বরং দেশীয় প্রযুক্তির প্রতি আস্থার বার্তাও বহন করে। এর আগে জাপানের বিমানবাহিনী প্রধানও তেজসে উড্ডয়ন করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নিদর্শন। (AP Singh )তরঙ্গ শক্তি অ্যায়ার এক্সারসাইজে এফ-৩৫, রাফাল, সুখোইসহ বিভিন্ন আধুনিক বিমান অংশ নিয়েছে। এতে ভারতের বিমানবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা স্পষ্ট হয়েছে।
এয়ার চিফ মার্শাল সিং প্রায় চার দশক ধরে বিমানবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। (AP Singh )যোদ্ধা পাইলট হিসেবে শুরু করে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাহিনী প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও অপারেশনাল প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। অবসরের আগে এই শেষ উড্ডয়ন তাঁর জন্য আবেগঘন মুহূর্ত। আকাশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও পেশাদারিত্বের প্রতিফলন ঘটবে এই সর্টিতে।
বিমানবাহিনীর সদস্যরা এই মুহূর্তকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখছেন। একজন প্রধান যখন নিজে দেশীয় বিমানে শেষ উড্ডয়ন করেন, তখন তা বাহিনীর মনোবল বাড়ায়। তেজসের সাফল্য ভবিষ্যতে আরও উন্নত সংস্করণের পথ প্রশস্ত করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।