Satyajit Ray and Nana Patekar: সত্যজিৎ রায়ের ডায়েরির পাতায় নানা পাটেকরের নাম! কী লেখা ছিল জানেন? | Satyajit ray diary entry wish to work with nana patekar
অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর তাঁর বর্ণময় কেরিয়ার নিয়ে উঠে আসছে একের পর এক অজানা ও রোমহর্ষক তথ্য। সত্যজিৎ রায়ের মতো কিংবদন্তি পরিচালকের সঙ্গে নানা পাটেকরের কাজ করার কোনও সুযোগ হয়েছিল কি না—এই প্রশ্ন অনেকেরই মনে ঘুরপাক খায়। সত্যি বলতে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি পরিচালকের ছবিতে কাজ করার সৌভাগ্য হয়নি নানা পাটেকরের। কিন্তু ১৯৯২ সালে সত্যজিৎ রায়ের প্রয়াণের পর একটি বিশেষ তথ্য সামনে এসেছিল, যা আজও নাড়া দেয় অনুরাগীদের মন। সত্যজিৎ রায় তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায় নানা পাটেকরের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা লিখে রেখে গিয়েছিলেন! আর সেই কথা জানতে পেরে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে করেছিলেন নানা।
‘দ্য ললান্টপ’ (The Lallantop)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর নিজেই এই মন ভালো করা ঘটনার কথা শেয়ার করেছিলেন। তিনি জানান, সত্যজিৎ রায় নানা পাটেকরের অভিনয়ের তীব্রতা এবং সহজাত প্রতিভার দারুণ ভক্ত ছিলেন। কোনও রকম ঢাকঢোল পেটানো বা প্রচার ছাড়াই কিংবদন্তি পরিচালক তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলেন যে, তিনি নানা পাটেকরকে নিয়ে একটি ছবি পরিচালনা করতে চান।
যখন নানা পাটেকর জানতে পারেন যে সত্যজিৎ রায়ের মতো একজন সৃষ্টিশীল ও বিশ্ববরেণ্য পরিচালক তাঁকে নিয়ে কাজ করার কথা ভেবেছিলেন, তখন তাঁর আবেগের বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। সেই সাক্ষাৎকারে নানা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলেছিলেন, “সত্যজিৎ রায়ের ডায়েরির পাতায় আমার নাম রয়েছে, এটা আমার কাছে অস্কার পাওয়ার থেকেও অনেক বড় ব্যাপার। আমি যে কতটা ভাগ্যবান, তা হয়তো সত্যজিৎ বাবু নিজে বেঁচে থাকতে জেনে যেতে পারেননি। কিন্তু তাঁর ডায়েরির ওই কয়েকটি লাইনই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এতেই আমি ধন্য এবং খুশি।”
হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার সীমানা পেরিয়ে নানা পাটেকরের অভিনয় প্রতিভা যে বাংলার এই মেধা স্তম্ভেরও নজর কেড়েছিল, এই ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৯২ সালে আমাদের ছেড়ে চলে যান, ফলে তাঁদের সেই মেধা ও প্রতিভার মহামিলন বড় পর্দায় আর বাস্তবায়িত হয়ে ওঠেনি। পরিচালক ও অভিনেতার এই অসমাপ্ত অধ্যায় আজ নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর এক অন্য মাত্রায় এসে পৌঁছেছে। পর্দায় একসঙ্গে কাজ না করতে পারলেও, এক শিল্পীর প্রতি আরেক শিল্পীর এই নিঃশব্দ সম্মান ও শ্রদ্ধার গল্প ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।