মুসলিম প্রধান দেশে দূর্গা পুজোয় ছুটি কেন! বাংলাদেশে রাস্তায় মৌলবাদীরা
ঢাকা: বাংলাদেশে আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার(Durga Puja) । ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর…
ঢাকা: বাংলাদেশে আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার(Durga Puja) । ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে ২০ অক্টোবর নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর সাধারণ ছুটি এবং ২২ অক্টোবর অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে পাঁচ দিনের বিরতি পাচ্ছেন কর্মচারীরা। ছুটির সমন্বয় হিসেবে ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস খোলা রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।(Durga Puja) হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছুটি বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পূজা মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদানও বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে পালিত হয়।তবে এই ছুটি ঘোষণার পর কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে আপত্তি উঠেছে।
আরও দেখুনঃ ৬ ঘণ্টায় কলকাতা থেকে ঢাকা! পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে কবে থেকে ছুটবে মৈত্রী এক্সপ্রেস?
ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা নামের একটি মঞ্চ রাস্তায় নেমে যুক্তি দিয়েছে যে দুর্গাপূজা হিন্দুদের উৎসব, তাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এটিকে কেন্দ্র করে সবার জন্য ছুটি দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁদের দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উৎসবকে ব্যক্তিগত বা মণ্ডপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত এবং জনসাধারণের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব কমানো দরকার। পরিবেশ দূষণ ও রাস্তা অবরোধের অজুহাতও তোলা হয়েছে।এই ধরনের আপত্তি নতুন নয়।
অতীতেও কিছু গোষ্ঠী দুর্গাপূজার প্রকাশ্য উদযাপন, প্রতিমা বিসর্জন এবং সরকারি ছুটির বিরোধিতা করেছে। এবারও পূজার প্রস্তুতির সময়ে কিছু জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।(Durga Puja) টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি মন্দিরে সাতটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, সংখ্যালঘু হিসেবে তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সংস্কৃতির অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে পালিত হয়ে আসছে। সরকারি ছুটি ও অনুদান তাঁদের আস্থা বাড়ায়। একইসঙ্গে তাঁরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ অতীতেও উৎসবকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।সমাজের অন্য অংশ মনে করে, সব ধর্মের উৎসবকে সম্মান জানানো গণতান্ত্রিক সমাজের লক্ষণ।
সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ অবশ্য যুক্তি দেন যে রাষ্ট্রীয় ছুটি ও সম্পদের বণ্টনে সংখ্যালঘুদের বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। তবে সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয় এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার স্বীকার করে।বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের বিতর্ক সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্পর্কের জটিলতাকে সামনে নিয়ে আসে।
বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমে আসা এবং মাঝে মাঝে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পটভূমিতে এই আলোচনা আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উৎসব পালনের পরিবেশ তৈরি করা হবে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।