ক্রিসমাসের Allen park এ এবার প্রথমবার দুর্গাপুজো! পার্কস্ট্রিটে তৈরী হচ্ছে ইতিহাস - 24 Ghanta Bangla News
Home

ক্রিসমাসের Allen park এ এবার প্রথমবার দুর্গাপুজো! পার্কস্ট্রিটে তৈরী হচ্ছে ইতিহাস

Spread the love

কলকাতা: কলকাতার পার্ক স্ট্রিট মানেই বড়দিনের আলো, ক্রিসমাস কার্নিভাল (Allen Park)আর বছরের শেষের উৎসব। কিন্তু সেই পরিচিত ছবিতে এবার আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। শহরের অন্যতম…

কলকাতা: কলকাতার পার্ক স্ট্রিট মানেই বড়দিনের আলো, ক্রিসমাস কার্নিভাল (Allen Park)আর বছরের শেষের উৎসব। কিন্তু সেই পরিচিত ছবিতে এবার আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। শহরের অন্যতম পরিচিত উৎসবস্থল অ্যালেন পার্কে এই প্রথম বড় আকারে দুর্গাপুজোর আয়োজন হতে চলেছে।

কলকাতা সনাতনী সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। উদ্যোক্তাদের দাবি, পার্ক স্ট্রিটে বহু বছর পর দুর্গাপুজোর আয়োজন হতে চলেছে এবং বাঙালি ঐতিহ্য ও সনাতনী সংস্কৃতিকে সামনে রেখেই সাজানো হবে গোটা অনুষ্ঠান।

আরও দেখুনঃ সোমে আটক-মঙ্গলেই বাগডোগরা থেকে পুশব্যাক ১৫০ অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

কলকাতা সনাতনী সংঘের পুজো কমিটিতে বিজেপির একাধিক পদাধিকারী রয়েছেন। (Allen Park)কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বিজেপি মুখপাত্র শঙ্কুদেব পাণ্ডা এবং সম্পাদক বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নবীন মিশ্র। পার্ক স্ট্রিটের বাসিন্দা নবীন মিশ্র জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হওয়ার সময় থেকেই এই এলাকায় দুর্গাপুজো আয়োজনের ভাবনা তাঁর মাথায় ছিল।

তাঁর দাবি, প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি আগে পার্ক স্ট্রিট এলাকায় একবার বা দু’বার ছোট পরিসরে দুর্গাপুজো হয়েছিল। তারপর আর সেখানে দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়নি। এবার সেই জায়গাতেই নতুন করে পুজোর আয়োজন করে ইতিহাস তৈরি করতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।

তবে শুধু পুজোর আয়োজন নয়, অ্যালেন পার্কের দুর্গাপুজোকে অন্যরকম আকর্ষণীয় করে তুলতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।(Allen Park) উদ্যোক্তারা চাইছেন, এই পুজোয় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি এবং লোকঐতিহ্য তুলে ধরা হোক। সেই কারণে বাউল গান থেকে শুরু করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, উত্তরবঙ্গ এবং বাংলার অন্যান্য এলাকার লোকসংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ পুজোর মণ্ডপে শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা।

এই পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে সন্ধ্যার বিশেষ আরতি। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় বড় আকারে আরতির আয়োজন করা হবে। বারাণসীর গঙ্গা আরতির আদলে এই আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। (Allen Park)উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, যেমন বারাণসীর ঘাটে গঙ্গা আরতি দেখতে দেশ-বিদেশের মানুষ ভিড় করেন, তেমনই পার্ক স্ট্রিটের এই পুজোকেও একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁরা। পাশাপাশি পুজোর মূল দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও থাকবে।

মহালয়া থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করার কথা ভাবছেন আয়োজকরা। যদিও আনুষ্ঠানিক পুজোর আচার শুরু হবে চতুর্থী থেকে। ইতিমধ্যেই মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভূমিপুজোর আয়োজন করার কথাও রয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রচলিত খুঁটিপুজোর পরিবর্তে তাঁদের ঘোষিত সনাতনী রীতি অনুযায়ী ভূমিপুজোর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতির সূচনা করা হবে।

পুজোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও জানিয়েছেন আয়োজকরা। এলাকার বিশিষ্ট নাগরিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত পেশাজীবীদের পুজোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নবীন মিশ্রের বক্তব্য, অন্য কোনও সম্প্রদায়ের উৎসব পালনে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। (Allen Park)বরং পার্ক স্ট্রিটের বড়দিনের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সেখানে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও সনাতনী ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব ঘটাতে চান তাঁরা। একইসঙ্গে পুজোর কারণে এলাকার বাসিন্দা বা অন্যান্য দর্শনার্থীদের যাতে অসুবিধা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

অ্যালেন পার্কের সঙ্গে অবশ্য কলকাতার বড় উৎসবের সম্পর্ক নতুন নয়। ২০০৭ সালে এই জায়গাতেই শুরু হয়েছিল পার্ক স্ট্রিট কার্নিভাল। ২০১১ সালের পর সেই আয়োজন রাজ্য সরকারের হাতে চলে যায় এবং পরে সেটিই ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। ফলে বছরের পর বছর বড়দিনের আলো, গান এবং উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অ্যালেন পার্ক এবার নতুন এক পরিচয় পেতে চলেছে।

তবে নতুন এই দুর্গাপুজোকে ঘিরে প্রশাসনের কাছেও বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। পুজোর পাশাপাশি বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকায় বিপুল মানুষের সমাগম হতে পারে বলে মনে করছে কলকাতা পুলিশ। তাই আগেভাগেই ট্রাফিক ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় ক্যামাক স্ট্রিটের একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পার্ক স্ট্রিট থেকে মিডলটন স্ট্রিট পর্যন্ত অংশে যান নিয়ন্ত্রণ হতে পারে। একইসঙ্গে লিটল রাসেল স্ট্রিট, রাসেল স্ট্রিট এবং হো চি মিন সরণি দিয়ে যান ঘোরানোর কথা ভাবা হচ্ছে। মিডলটন রো-কে সাময়িকভাবে দ্বিমুখী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *