রোজ ৮ ঘণ্টার ঘুম কি ডিমেনশিয়া, অ্যালঝাইমার্স রুখে দিতে পারে? কী মত চিকিৎসকদের?
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখা মানে শুধুমাত্র স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা বা বার্ধক্য প্রতিরোধ নয়। প্রতিদিনের ঘুম, মানসিক চাপ সামলানো, শারীরিক কসরত এবং মদ্যপানের মতো অভ্যাসগুলোর উপরেও তা সরাসরি নির্ভরশীল। চিকিৎসকরা ব্রেন হেলথ সম্পর্কিত প্রচলিত এমন একাধিক ভুল ধারণা ভেঙে সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সময়ে। তাদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কাজ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব।
ক্রনিক স্ট্রেস ও ডিমেনশিয়ার লক্ষণ
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তন ঘটায়।
-
কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: স্বাভাবিক নিয়মে কর্টিসল হরমোন সকালে বেশি ও রাতে কম থাকা উচিত। কিন্তু ক্রনিক স্ট্রেস-এর মধ্যে থাকলে সারাদিনই এই হরমোনের মাত্রা একই রকম থাকে।
-
স্মৃতিশক্তির ক্ষতি: অতিরিক্ত স্ট্রেস হিপোক্যাম্পাস ও প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সকে প্রভাবিত করে। এর ফলে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি এতখানি কমে যায় যে, অনেকে ভুলবশত একে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ মনে করে চিকিৎসা করাতে আসেন।
৮ ঘণ্টার ঘুম কি সবার জন্য বাধ্যতামূলক?
-
ব্যক্তিভেদে তারতম্য: কারও ক্ষেত্রে ৬-৭ ঘণ্টার ঘুমই যথেষ্ট, আবার কারও ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০-১১ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হতে পারে।
-
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা: শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা অত্যন্ত জরুরি।
-
সূর্যালোক: সকালে ঘুম থেকে উঠে ১০-১৫ মিনিট বাইরের প্রাকৃতিক আলো পাওয়া গেলে তা ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
অ্যালকোহল ও ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ তৈরি
-
দৈনিক মদ্যপানের ঝুঁকি: অনেকে ভাবেন দিনে ১-২ পেগ মদ খাওয়া নিরাপদ। কিন্তু ২০-৩০ বছর ধরে প্রতিদিন নিয়ম করে মদ্যপান করলে তা মস্তিষ্কের ভারসাম্য ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নষ্ট করে। তাই অ্যালকোহলকে দৈনিক রুটিন না বানিয়ে কেবল বিশেষ উপলক্ষেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
-
কগনিটিভ রিজার্ভ বৃদ্ধি: বয়সকালে ডিমেনশিয়া বা ব্রেন অ্যালঝাইমার্স এড়াতে নতুন ভাষা শেখা, ছবি আঁকা, সামাজিক মেলামেশা বা যে কোনও নতুন স্কিল শেখার মাধ্যমে ব্রেনকে সচল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘুমোনোর সময় মস্তিষ্ক ক্ষতিকারক প্রোটিন পরিষ্কার করে, তাই ভালো ঘুম ও ব্রেন এক্সারসাইজ়ই সুস্থতার আসল চাবিকাঠি।