দশভুজা নয়, দেবী এখানে দ্বিভুজা, কোলে বালকরূপী মহাদেব, ২৭৩ বছরের পুরোনো ‘অভয় মা’-এর কাহিনি জানেন?
দেবী দুর্গার দশ হাতের রূপ দেখতেই অভ্যস্ত বাঙালি। দশ হাতে দশ অস্ত্র নিয়ে সিংহের পিঠে চড়া মহিষাসুরমর্দিনী রূপের পুজোই বহুল প্রচলিত বাংলার আনাচে কানাচে। তবে, এই বাংলাতেই রয়েছে এমন এক দুর্গাপুজো যেখানে দেবীকে দশভুজা নয়, দ্বিভুজা রূপে পুজো করা হয়। নদিয়া জেলার নবদ্বীপে নেতাজি সুভাষ রোডের পাঁচমাথা দক্ষিণ এলাকায় এই পুজো ‘অভয় মা’-এর পুজো নামে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আনুমানিক ১৭৫০ সাল নাগাদ এই এলাকায় মাটি খুঁড়তে গিয়ে উদ্ধার হয়েছিল একটি ছোট ধাতব দেবীমূর্তি। মূর্তিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ৩.৫ সেন্টিমিটার। পাদদেশে রয়েছে গোসাপের মতো দেখতে একটি সরীসৃপ গোত্রীয় প্রাণী। এই ধাতব মূর্তি উদ্ধারের বছর থেকেই এখানে স্থানীয়দের উদ্যোগে শুরু হয় দুর্গাপুজো। ওই ধাতব মূর্তির আদলে মাটির প্রতিমা নির্মাণ করে পুজো শুরু হয়। নাম হয় অভয় মায়ের পুজো। জায়গাটির নাম হয়ে যায় ‘অভয় মা তলা’। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ বছর ২৭৩ বছরে পড়ল এই পুজো।
সাধারণ দশভুজা দুর্গার বদলে এখানে দেবী দ্বিভুজা, সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ষোড়শী রূপে। ডান হাতে বরাভয় মুদ্রা, আর বাঁ হাতে ধরা এক বালকের হাত। স্থানীয়দের দাবি, এই বালক আসলে বালকরূপী মহাদেব। অনেকের মতে, পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, ভগবতীর ধ্যান ভঙ্গ করতে না পেরে মহাদেব বালকের রূপ ধারণ করে তাঁর সামনে উপস্থিত হন। দেবী তাঁকে ডান হাতে আশীর্বাদ করেন এবং বাঁ হাত দিয়ে তাঁর হাত ধরে রাখেন। এই বিশেষ রূপের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ‘অভয়া’ নামের ব্যাখ্যাও।
শুধু স্থানীয়রাই নয়। নবদ্বীপের অভয় মায়ের পুজোতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ভক্তরা। পূর্ব বর্ধমান-সহ নানা জায়গা থেকে ভক্তরা আসেন দেবীর দর্শনে। কেউ আসেন মানত নিয়ে, কেউ মনস্কামনা নিয়ে, কেউ আবার দেবীর আশীর্বাদ লাভের প্রত্যাশায়। ভক্তদের বিশ্বাস, অভয় মায়ের চরণে প্রার্থনা জানালে মনের আশা পূর্ণ হয়। দুর্গা অষ্টমীকে ঘিরে এখানে ভক্তসমাগমও চোখে পড়ার মতো। সেবায়েত জানান অষ্টমীর দিন রাত দু’টো থেকেই ভক্তদের লাইন পড়ে এবং নবদ্বীপ-সহ দূরদূরান্ত থেকে প্রায় ২৫ হাজার পুণ্যার্থী পুজো দিতে আসেন।