Suzuki-র বড় নির্দেশ! গুণমান বজায় রাখতে সপ্তাহে একদিন উৎপাদন বন্ধ - 24 Ghanta Bangla News
Home

Suzuki-র বড় নির্দেশ! গুণমান বজায় রাখতে সপ্তাহে একদিন উৎপাদন বন্ধ

Spread the love

ভারতে উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতির মধ্যেই গাড়ির যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে সপ্তাহে একদিন উৎপাদন বন্ধ রেখে মেশিন রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে সুজুকি মোটর (Suzuki India)। এর লক্ষ্য উৎপাদন চলাকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত মেশিন বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারখানায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং গুণমান সংক্রান্ত সমস্যা কমানো। রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছেন বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুই ব্যক্তি।

তাঁদের দাবি, ভারতে সরবরাহকারীদের জন্য এই ধরনের নির্দেশ প্রথমবার দিয়েছে জাপানের গাড়ি নির্মাতা সংস্থাটি। এই পদক্ষেপটি এমন সময়ে এল, যখন সুজুকির ভারতীয় সংস্থা মারুতি সুজুকি ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৪ লাখ গাড়ি থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও মারুতি সুজুকি কোনও মন্তব্য করেনি।

৬ দিনের উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে যেতে বলেছে সুজুকি

ভারত এখন সুজুকি মোটরের সবচেয়ে বড় বাজার। একই সঙ্গে জাপান, ইউরোপ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়ি রফতানির জন্য ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে সংস্থাটি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে সুজুকি মোটরের প্রেসিডেন্ট তোশিহিরো সুজুকি ভারতে সংস্থার সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তাঁদের উৎপাদন ক্ষমতা ছয় দিনের কাজের সময়সূচি অনুযায়ী পরিকল্পনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর মারুতি সুজুকি তাদের সরবরাহকারীদের চলতি বছরের শেষের মধ্যে একটি ঘোষণা বা ডিক্লারেশন দিতে বলেছে। সেখানে নিশ্চিত করতে হবে যে মারুতি সুজুকির জন্য যেসব যন্ত্রাংশ তৈরি হয়, সেগুলির উৎপাদন লাইন সপ্তাহের সাত দিনই একটানা চালানো হবে না।

দিনে ২০ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৬ দিন উৎপাদনের পরিকল্পনা

সুজুকির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহকারীদের এমন একটি অপারেশনাল মডেলে যেতে হবে যেখানে উৎপাদন মেশিন দিনে ২০ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ছয় দিন চলবে। অর্থাৎ, প্রতি রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা করে মেশিন বন্ধ রেখে রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি সপ্তাহে একটি পূর্ণ দিন উৎপাদন বন্ধ রেখে মেশিনের মেইনটেন্যান্স করা হবে।

সুজুকির এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেশিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকি কমানো। সপ্তাহের সাত দিন মেশিন চালু রাখলে দুর্ঘটনা, হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যন্ত্রাংশের গুণমানের সমস্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ৪০ লাখ করার লক্ষ্য

ভারতে মারুতি সুজুকির উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গে এই নতুন নির্দেশ সরাসরি যুক্ত। সংস্থাটি ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৪০ লাখ গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। একই সময়ে বাজারে নতুন প্রযুক্তি আনার প্রস্তুতিও চলছে। সুজুকি ভারতে নতুন পাওয়ারট্রেন এবং সেফটি টেকনোলজি আনার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে গাড়ি ডেভেলপমেন্টের সময় অর্ধেক করার এবং ম্যানুফ্যাকচারিং এফিসিয়েন্সি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার।

ভারতীয় বাজারে মারুতি সুজুকি এখনও অন্যতম বড় গাড়ি নির্মাতা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার মতো দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের একের পর এক নতুন ফিচারসমৃদ্ধ গাড়ি বাজারে আসায় সংস্থাটির মার্কেট শেয়ারে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে একাধিক নতুন মডেল বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে মারুতি সুজুকি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেই উৎপাদন ব্যবস্থায় গুণমান ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখাও সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরবরাহকারীদের খরচ বাড়ার আশঙ্কা

সুজুকির নির্দেশ ভারতীয় অটো কম্পোনেন্ট নির্মাতাদের জন্য অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। ভারতের অনেক কম্পোনেন্ট নির্মাতা সংস্থা সাধারণত উৎপাদন মেশিন টানা সাত দিন চালিয়ে মেশিনের ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখে। এর ফলে উৎপাদন ক্ষমতা এবং লাভের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হয়।

কিন্তু সপ্তাহে একদিন উৎপাদন বন্ধ রাখলে সেই সময়ের উৎপাদন ঘাটতি পূরণ করতে অতিরিক্ত মেশিন বা উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করতে হতে পারে। এর জন্য কারখানা ও যন্ত্রপাতিতে নতুন করে বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন। বিশেষ করে কমোডিটি ও কাঁচামালের দাম যখন বাড়ছে, তখন এই অতিরিক্ত খরচ সরবরাহকারী সংস্থাগুলির উপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।

বাড়ছে ভারতের গাড়ির বাজার ও রফতানি

ভারতের গাড়ির বাজারও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালে দেশের মোট গাড়ি বিক্রি প্রায় ৫০ লাখে পৌঁছতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ লাখ।

অন্যদিকে, মারুতি সুজুকির রফতানিও বাড়ছে। জাপান, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন বাজারে সংস্থাটির রফতানি ২০২৬ সালে প্রায় ৫ লাখ ইউনিটের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।

ফলে ভারতীয় কারখানাগুলিতে উৎপাদনের চাপ আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সুজুকি উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং যন্ত্রাংশের গুণমানের উপরও জোর দিচ্ছে।

সপ্তাহে একদিন উৎপাদন বন্ধ রাখার এই পরিকল্পনা তাই শুধু মেশিন মেইনটেন্যান্সের বিষয় নয়, বরং ২০৩০ সালের বড় উৎপাদন লক্ষ্যে পৌঁছনোর আগে পুরো সাপ্লাই চেনকে আরও নির্ভরযোগ্য করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *