Porsche Cayenne Electric ভারতে আত্মপ্রকাশ, দাম ১.৭৭ কোটি টাকা থেকে
ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল পোর্শের নতুন কেয়েন ইলেকট্রিক। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এই বৈদ্যুতিক এসইউভির ভারতীয় দাম প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার দেশে প্রথমবারের মতো গাড়িটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করল পোর্শে। সংস্থার গ্লোবাল পোর্টফোলিওতে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্ল্যাগশিপ ইলেকট্রিক এসইউভি।
ভারতে পোর্শে কেয়েন ইলেকট্রিক পাওয়া যাবে দুটি ভ্যারিয়েন্টে। এগুলি হল কেয়েন ইলেকট্রিক এবং কেয়েন টার্বো ইলেকট্রিক। অপশন যোগ করার আগের এক্স-শোরুম দাম যথাক্রমে ১.৭৭ কোটি টাকা এবং ২.২৮ কোটি টাকা।
৮০০V আর্কিটেকচার ও ১১৩ কিলোওয়াটঘণ্টার ব্যাটারি
পোর্শে কেয়েন ইলেকট্রিক তৈরি হয়েছে ভক্সওয়াগেন গ্রুপের ৮০০V প্রিমিয়াম প্ল্যাটফর্ম ইলেকট্রিক বা পিপিই আর্কিটেকচারের উপর। গাড়ির দুটি ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে ১১৩ কিলোওয়াটঘণ্টার ব্যাটারি প্যাক এবং ডুয়াল মোটর সেটআপ।
অল-হুইল ড্রাইভ বা এডব্লিউডি এখানে স্ট্যান্ডার্ড। বেস কেয়েন ইলেকট্রিকের মোটর সেটআপ থেকে পাওয়া যায় ৪০৮ হর্সপাওয়ার এবং ৭৫০ এনএম টর্ক। লঞ্চ কন্ট্রোল সক্রিয় করলে পাওয়ার বেড়ে হয় ৪৪২ হর্সপাওয়ার, আর টর্ক পৌঁছয় ৮৩৫ এনএম-এ।
অন্যদিকে, কেয়েন টার্বো ইলেকট্রিক আরও বেশি শক্তিশালী। এর সাধারণ আউটপুট ৮৫৭ হর্সপাওয়ার এবং ১,৩৬০ এনএম। লঞ্চ কন্ট্রোল ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ পাওয়ার বেড়ে হয় ১,১৫৬ হর্সপাওয়ার, আর টর্ক পৌঁছয় ১,৫০০ এনএম-এ।
২.৫ সেকেন্ডে ০-১০০ কিলোমিটার
পারফরম্যান্সের দিক থেকেও কেয়েন ইলেকট্রিক যথেষ্ট শক্তিশালী। লঞ্চ কন্ট্রোল ব্যবহার করে বেস মডেলটি ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছতে সময় নেয় ৪.৮ সেকেন্ড। টার্বো ইলেকট্রিক আরও দ্রুত। মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি তুলতে পারে এই মডেল। বেস কেয়েন ইলেকট্রিকের সর্বোচ্চ গতি ২৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। টার্বো ইলেকট্রিকের ক্ষেত্রে তা বেড়ে হয় ২৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
এক চার্জে সর্বোচ্চ ৬৪২ কিলোমিটার রেঞ্জ
ডব্লিউএলটিপি পরীক্ষার হিসাবে বেস কেয়েন ইলেকট্রিকের রেঞ্জ ৬৪২ কিলোমিটার। কেয়েন টার্বো ইলেকট্রিকের ক্ষেত্রে এই রেঞ্জ ৬২৩ কিলোমিটার।
৮০০V আর্কিটেকচারের অন্যতম সুবিধা হল দ্রুত চার্জিং। গাড়িটি সর্বোচ্চ ৩৯০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে। উপযুক্ত চার্জিং পরিস্থিতিতে ১০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাটারি চার্জ হতে সময় লাগে মাত্র ১৬ মিনিট।
পোর্শের দাবি অনুযায়ী, মাত্র ১০ মিনিট চার্জ করলেই সর্বোচ্চ ৩২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সর্বোচ্চ ২২ কিলোওয়াট এসি চার্জিং সাপোর্ট রয়েছে। এসি চার্জারে ০ থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ৫.৭৫ ঘণ্টা সময় লাগে।
ম্যাকান ইলেকট্রিকের অনুপ্রেরণায় নতুন ডিজাইন
ডিজাইনের ক্ষেত্রে কেয়েন ইলেকট্রিক পোর্শের ছোট ম্যাকান ইলেকট্রিকের ডিজাইন ভাষার বিবর্তিত রূপ ব্যবহার করেছে। সামনে রয়েছে অবলং আকৃতির ম্যাট্রিক্স এলইডি হেডল্যাম্প। প্রতিটি হেডল্যাম্পের মধ্যে চারটি করে ডিআরএল রয়েছে। সামনের বাম্পারে রয়েছে চওড়া এয়ার ড্যাম এবং দুপাশে উল্লম্ব এয়ার ইনটেক। নিচের অংশে তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে কালো ক্ল্যাডিং ব্যবহার করা হয়েছে। হুডের নিচে রয়েছে ৯০ লিটারের ফ্রাঙ্ক, ফলে ছোটখাটো লাগেজ রাখার জন্য অতিরিক্ত জায়গাও পাওয়া যায়।
আইসিই কেয়েনের তুলনায় ৫৫ মিমি লম্বা
কেয়েন ইলেকট্রিকের দৈর্ঘ্য ৪,৯৮৫ মিমি, যা আইসিই বা ইন্টারনাল কমবাসশন ইঞ্জিন চালিত কেয়েনের তুলনায় ৫৫ মিমি বেশি। গাড়িটির প্রস্থ ১,৯৮০ মিমি, উচ্চতা ১,৬৭৪ মিমি এবং হুইলবেস ৩,০২৩ মিমি। স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে রয়েছে ২০ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল। ক্রেতারা চাইলে তা সর্বোচ্চ ২২ ইঞ্চি পর্যন্ত আপগ্রেড করতে পারবেন। সফট-ক্লোজ দরজাও স্ট্যান্ডার্ড ফিচারের মধ্যে রয়েছে।
পিছনে রয়েছে স্পোর্টি রেকড রুফলাইন। তবে কেয়েন কুপে ইলেকট্রিকের মতো অতটা ঢালু নয়। পুরো পিছনের অংশ জুড়ে রয়েছে ক্লিয়ার-লেন্স এলইডি লাইট বার এবং আলোকিত পোর্শে ওয়ার্ডমার্ক। বড় রুফ স্পয়লার এবং চওড়া রিয়ার বাম্পার ডিজাইনটিকে আরও স্পোর্টি করে তুলেছে।
১৪.৫ ইঞ্চির বাঁকানো ওএলইডি স্ক্রিন
কেবিনে ঢুকলে নজরে পড়ে কেন্দ্রীয় ১৪.৫ ইঞ্চির কার্ভড ওএলইডি টাচস্ক্রিন। এর সঙ্গে রয়েছে ১৪.২৫ ইঞ্চির ওএলইডি ড্রাইভার ডিসপ্লে। ক্রেতারা চাইলে অতিরিক্ত খরচে ১৪.৯ ইঞ্চির প্যাসেঞ্জার ডিসপ্লে নিতে পারবেন। সেন্টার কনসোলে রয়েছে পাস-থ্রু ডিজাইন, যেখানে অতিরিক্ত স্টোরেজ স্পেসের পাশাপাশি ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাড রাখা হয়েছে। কেবিনে অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিংয়ের জন্য রয়েছে ৩০টি কনফিগারযোগ্য রঙের বিকল্প।
একাধিক প্রিমিয়াম ফিচার স্ট্যান্ডার্ড
পোর্শে কেয়েন ইলেকট্রিকের স্ট্যান্ডার্ড ফিচারের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে রয়েছে ১০-স্পিকার সাউন্ড সিস্টেম, ৮-ওয়ে ইলেকট্রিক ও হিটেড ফ্রন্ট সিট, ড্রাইভার সিট মেমরি ফাংশন, প্যানোরামিক সানরুফ এবং ফোর-জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোল। এছাড়াও রয়েছে কেবিন এয়ার পিউরিফায়ার, পাওয়ারড বুট লিড, পাওয়ারড রিয়ার সানশেড এবং ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা। অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস-ও স্ট্যান্ডার্ড সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে। ব্যবহারিক দিক থেকেও বড় এসইউভি হিসেবে জায়গার অভাব নেই। কেয়েন ইলেকট্রিকের বুট স্পেস ৭৮১ লিটার।
দাম, পারফরম্যান্স, দ্রুত চার্জিং এবং দীর্ঘ রেঞ্জের সমন্বয়ে ভারতের প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক এসইউভি বাজারে কেয়েন ইলেকট্রিক পোর্শের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মডেল হয়ে উঠেছে। তবে বিপুল সংখ্যক অপশন ও কাস্টমাইজেশন বেছে নিলে গাড়ির চূড়ান্ত অন-রোড দাম ঘোষিত ১.৭৭ কোটি এবং ২.২৮ কোটি টাকার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business.