Period Pain: পিরিয়ডের ব্যথায় কাবু? ম্যাজিকের মতো কাজ করবে এই পানীয়, চটপট বানিয়ে ফেলুন | Goodbye Period Cramps: Try This Easy Homemade Walnut Ginger Drink for Instant Relief
পিরিয়ডের ব্যথা (Period Pain) শুরু হলেই মাসের ওই কয়েকটা দিন যেন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তলপেটে মোচড় দেওয়া যন্ত্রণা, কোমরে টান, পেট ফাঁপা আর বমি বমি ভাব, কমবেশি প্রত্যেকটি মেয়েকেই এই কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। জরায়ুর পেশি সংকুচিত হওয়ার ফলেই এই ব্যথা শুরু হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে যন্ত্রণা এতই বেড়ে যায় যে, স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। বারবার মুঠো মুঠো ওষুধ খাওয়ার বদলে রান্নাঘরের কয়েকটি সাধারণ উপাদানেই কিন্তু আপনার মুশকিল আসান হতে পারে। সবচেয়ে উপকারী হল একটি বিশেষ পানীয়, যা খুব সহজেই বাড়িতে বানিয়ে নেওয়া যায়।
কী কী লাগবে এই পানীয় বানাতে?
এই পানীয় তৈরি করতে আপনার খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। হাতের কাছে থাকা মাত্র কয়েকটি জিনিস লাগবে:
- ২ কাপ জল
- ১ টেবিল চামচ হালকা থেঁতো করা আখরোট
- আধা চা চামচ আদার গুঁড়ো
- ১ টেবিল চামচ গুড়
বানানোর নিয়ম: প্রথমে জল ভালো করে ফুটিয়ে নিন। তার মধ্যে থেঁতো করা আখরোট ও আদার গুঁড়ো দিয়ে দিন। কম আঁচে ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটতে দিন। এরপর গ্যাস বন্ধ করে তাতে গুড় মিশিয়ে নিন। গুড় পুরোপুরি গলে গেলে পানীয়টি ছেঁকে নিন। হালকা গরম থাকতেই চায়ের মতো চুমুক দিয়ে খেয়ে ফেলুন।
কেন এত উপকারী এই মিশ্রণ?
ভাবছেন তো, সামান্য আদা আর আখরোট কীভাবে এত বড় ম্যাজিক করবে? এর পেছনে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। আখরোটে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে, যা পেশিকে আরাম দেয়। অন্যদিকে, আদা হজমের সমস্যা ও বমি বমি ভাব কাটাতে যুগ যুগ ধরে ওষুধের মতো কাজ করে। ঋতুস্রাবের সময় এই মিশ্রণ খেলে শরীরের অস্বস্তি নিমেষে দূর হয়ে যায়।
সঙ্গে আর কী কী করবেন?
শুধু এই পানীয় নয়, আরও কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ব্যথার জায়গায় হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করলে বেশ আরাম পাওয়া যায়। এই সময় শরীরকে আর্দ্র রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। সারাদিন শুয়ে না থেকে হালকা হাঁটাচলাও করতে পারেন, এতে পেশি রিল্যাক্স হয় এবং ব্যথা অনেকটা কমে যায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ কখন নেবেন?
ঘরোয়া টোটকা সাময়িক আরাম দিলেও, তা কিন্তু কখনও চিকিৎসার বিকল্প নয়। ব্যথা যদি খুব তীব্র হয়, মাসের পর মাস স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা তৈরি করে, অথবা অস্বাভাবিক রক্তপাত বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে আর দেরি করবেন না। অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। এর পেছনে অন্য কোনও বড় কারণ লুকিয়ে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা অত্যন্ত জরুরি।