Jetour T2 Facelift আন্তর্জাতিক বাজারে লঞ্চ, ভারতে আসছে পুরনো মডেল
আন্তর্জাতিক বাজারে লঞ্চ হল জেটোর টি২ ফেসলিফট। চিনের চেংদু মোটর শো-তে গত আগস্টে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসার পর এবার একাধিক আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে আপডেটেড…
আন্তর্জাতিক বাজারে লঞ্চ হল জেটোর টি২ ফেসলিফট। চিনের চেংদু মোটর শো-তে গত আগস্টে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসার পর এবার একাধিক আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে আপডেটেড এই এসইউভির। নতুন মডেলে ডিজাইনের পরিবর্তনের পাশাপাশি কেবিনে আরও প্রিমিয়াম ফিচার এবং পাওয়ারট্রেনেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট করা হয়েছে।
তবে ভারতের বাজারে আপাতত এই নতুন ফেসলিফটেড মডেলটি আসার সম্ভাবনা কম। কারণ জেটোর টি২-এর প্রি-ফেসলিফট সংস্করণই ভারতে জেএসডব্লিউ মোটরসের প্রথম মডেল হিসেবে ‘কমব্যাট’ নামে লঞ্চ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ডিজাইনে বড় পরিবর্তন সামনে
ফেসলিফটেড জেটোর টি২-এর বক্সি এবং রাগড বডি ডিজাইন আগের মতোই রাখা হয়েছে। তবে সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। হেডল্যাম্পের মধ্যে এবার রয়েছে গোলাকার ডিআরএল। নতুন গ্রিলের মধ্যে এলইডি স্ট্রিপ যোগ করা হয়েছে। সামনের বাম্পারও আগের তুলনায় অনেক পরিষ্কার ডিজাইনের। আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল জেটোর ব্র্যান্ডিং। আগের মডেলের গ্রিল থেকে Jetour ওয়ার্ডমার্ক সরিয়ে বনেটের সামনের প্রান্তে বসানো হয়েছে। পাশের অংশে নতুন ডিজাইনের অ্যালয় হুইল রয়েছে। পাশাপাশি হুইল আর্চে বডি-কালার ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে। পিছনেও বেশ কিছু পরিবর্তন রয়েছে। নতুন বাম্পার আগের তুলনায় পরিষ্কার দেখাচ্ছে। স্পেয়ার হুইলের কভারেও নতুন ডিজাইন এবং Jetour ওয়ার্ডমার্ক রয়েছে। এর সঙ্গে দেওয়া হয়েছে একটি অপেক্ষাকৃত ছোট রুফ স্পয়লার।
কেবিনে আরও প্রিমিয়াম পরিবেশ
ফেসলিফটের কেবিনে আগের মডেলের তুলনায় বেশি প্রিমিয়াম পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছে জেটোর। বেইজ রঙের কেবিনের সঙ্গে কুইল্টেড লেদারেট সিট ব্যবহার করা হয়েছে। ড্যাশবোর্ডেও লেদারেট ট্রিম রয়েছে। আগের মডেলে কো-ড্রাইভারের সামনে খোলা স্টোরেজ স্পেস ছিল। ফেসলিফটেড মডেলে সেই জায়গাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। নতুন থ্রি-স্পোক ফ্ল্যাট-বটম স্টিয়ারিং হুইল এবং নতুন ডিজাইনের এসি ভেন্টও রয়েছে। ড্রাইভারের জন্য আগের মতোই ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার রয়েছে। ইনফোটেইনমেন্টের জন্য রয়েছে ১৫.৬ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন। স্ক্রিনের আকার বদলায়নি, কিন্তু ভিতরের হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করা হয়েছে।
স্ন্যাপড্রাগন ৮২৫৫ চিপ ও এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট
নতুন জেটোর টি২ ফেসলিফটের ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২৫৫ চিপ। শক্তিশালী এই চিপের ফলে নতুন ভয়েস-কন্ট্রোলড এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে:
- ১০-ওয়ে পাওয়ারড ফ্রন্ট সিট
- ম্যাসাজ ফাংশন
- দুটি ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাড
- ২৩-স্পিকার সাউন্ড সিস্টেম
- অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস
- ২৫৬ রঙের অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং
ফলে ফেসলিফটেড টি২ শুধু বাহ্যিক ডিজাইনেই নয়, প্রযুক্তি এবং আরামের দিক থেকেও আগের মডেলের তুলনায় বেশি উন্নত হয়েছে।
পেট্রোল ইঞ্জিনেও পরিবর্তন
জেটোর টি২-এর পাওয়ারট্রেন বাজারভেদে আলাদা হতে পারে। চিনের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, বেস ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ১.৫ লিটার ফোর-সিলিন্ডার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন। এটি সর্বোচ্চ ১৮৪ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করে। এই ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৭-স্পিড ডুয়াল-ক্লাচ অটোমেটিক গিয়ারবক্স এবং ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ।
অন্য পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টগুলিতে রয়েছে আরও শক্তিশালী ২.০ লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন। এর সর্বোচ্চ পাওয়ার ২৫৪ হর্সপাওয়ার। এই ইঞ্জিনের সঙ্গে ৭-স্পিড ডুয়াল-ক্লাচ অটোমেটিক এবং অল-হুইল ড্রাইভ পাওয়া যায়। টপ-স্পেক পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টে অবশ্য নতুন ৮-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্স যোগ করা হয়েছে।
প্লাগ-ইন হাইব্রিডেও বড় আপডেট
জেটোর টি২ ফেসলিফটের প্লাগ-ইন হাইব্রিড বা পিএইচইভি সংস্করণেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এখানে আগের ১.৫ লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন রাখা হলেও দুটি ইলেকট্রিক মোটরের বদলে এবার একটি ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এই মোটর থেকে পাওয়া যায় ৩০৭ হর্সপাওয়ার এবং ৩৩০ এনএম টর্ক। হাইব্রিড ট্রান্সমিশনেও পরিবর্তন এসেছে। আগের ৩-স্পিড ডেডিকেটেড হাইব্রিড ট্রান্সমিশনের পরিবর্তে এখন ১-স্পিড ইউনিট ব্যবহার করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য দক্ষতা বাড়ানো। তুলনামূলকভাবে ছোট ২৬.৬১ কিলোওয়াটঘণ্টার ব্যাটারি ব্যবহার করেও নতুন টি২ পিএইচইভি ১০৮ কিলোমিটার ডব্লিউএলটিপি ইলেকট্রিক রেঞ্জ দিতে পারে। আগের তুলনায় রেঞ্জ বেড়েছে ৮ কিলোমিটার। এর পাশাপাশি বড় ৪৫.১২ কিলোওয়াটঘণ্টার ব্যাটারি বিকল্পও রয়েছে। এতে বিশুদ্ধ বৈদ্যুতিক রেঞ্জ বেড়ে হয় ১৭৩ কিলোমিটার, যা আগের ৪৩.২৪ কিলোওয়াটঘণ্টার ব্যাটারির তুলনায় ১১ কিলোমিটার বেশি।
ভারতে ফেসলিফট কবে আসবে?
ভারতে আপাতত নতুন ফেসলিফটেড জেটোর টি২ আসার সম্ভাবনা কম। কারণ জেএসডব্লিউ মোটরস ইতিমধ্যেই প্রি-ফেসলিফট জেটোর টি২ পরীক্ষা করছে এবং সেটিই ‘কমব্যাট’ নামে ভারতের বাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। জেএসডব্লিউ মোটরস এখনও কমব্যাটের নির্দিষ্ট লঞ্চ তারিখ ঘোষণা করেনি। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, উৎসবের মরশুমে লঞ্চের পরিকল্পনা পিছিয়ে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংস্থার তরফে এখনও চূড়ান্ত তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ফেসলিফটেড টি২ বিক্রি শুরু হলেও ভারতে প্রথমে পুরনো ডিজাইনের মডেলই আসার সম্ভাবনা বেশি। নতুন ফেসলিফট ভবিষ্যতে ভারতে আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business.