লঞ্চের দিনই কম পড়তে পারে Apple iPhone Duo, ৬০% ইয়িল্ডে উৎপাদন
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন আইফোন ডুও নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি দুনিয়ায় যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাজারে আসার আগেই নতুন ডিভাইসটির উৎপাদন নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের খবর সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ফক্সকনে আইফোন ডুও-র ফাইনাল অ্যাসেম্বলি ইয়িল্ড সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ৬০ শতাংশের সামান্য বেশি ছিল।
এর ফলে ২৩ অক্টোবর বিক্রি শুরুর দিন আইফোন ডুও-র সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি অ্যাপলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা তথ্য নয়। ফক্সকন সাপ্লাই চেনের সূত্র উদ্ধৃত করে চিনা সংবাদমাধ্যম জিমিয়ান এই তথ্য জানিয়েছে।
কেন উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে?
ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের উৎপাদন সাধারণ আইফোনের তুলনায় বেশি জটিল। আইফোন ডুও-র ক্ষেত্রে শুধু ফাইনাল অ্যাসেম্বলিতেই সমস্যা হচ্ছে না, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কম্পোনেন্টের উৎপাদনেও ইয়িল্ড সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ফক্সকন বর্তমানে আইফোন ডুও-র উৎপাদন লাইনে যন্ত্রপাতি, অ্যাসেম্বলি প্রক্রিয়া এবং উৎপাদন সেটিংস বারবার সামঞ্জস্য করছে। অ্যাপলের বর্তমান কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে উৎপাদন লাইনকে পরিণত বা ম্যাচিওর ইয়িল্ডে পৌঁছতে আরও ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে সূত্রটির দাবি। অর্থাৎ, উৎপাদনের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ ইউনিটের হার কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
৬০ শতাংশ ইয়িল্ড বলতে কী বোঝায়?
উৎপাদন ক্ষেত্রে ইয়িল্ড বলতে একটি ব্যাচে তৈরি হওয়া মোট ইউনিটের মধ্যে কতগুলি প্রয়োজনীয় মান পূরণ করে বিক্রির উপযোগী হয়েছে, তা বোঝানো হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আইফোন ডুও-র ফাইনাল অ্যাসেম্বলি ইয়িল্ড ৬০ শতাংশের সামান্য বেশি। অর্থাৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া প্রতিটি ইউনিট এখনও বিক্রির জন্য অ্যাপলের নির্ধারিত মান পূরণ করছে না। ফলে একই পরিমাণ বিক্রিযোগ্য ফোন তৈরি করতে অ্যাপলকে বেশি ইউনিট উৎপাদন করতে হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ এবং সময়, দুটিই বাড়তে পারে।
স্যামসাং ডিসপ্লের প্যানেল নিয়েও সমস্যা
আইফোন ডুও-র উৎপাদন সমস্যার সঙ্গে ডিসপ্লে সরবরাহের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। স্যামসাং ডিসপ্লে আইফোন ডুও-র ফোল্ডেবল ওএলইডি প্যানেল সরবরাহ করছে। জিমিয়ান সূত্রের দাবি, এই প্যানেলের উৎপাদনেও ইয়িল্ড সমস্যা দেখা গিয়েছিল এবং তার ফলে সরবরাহে দেরি হয়েছে। ফোল্ডেবল ডিসপ্লের মতো জটিল কম্পোনেন্ট সময়মতো না পৌঁছলে ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইনের উৎপাদন পরিকল্পনাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
হিঞ্জেও পরিবর্তন এসেছে
আইফোন ডুও-র উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হিঞ্জ। অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনের হিঞ্জ তৈরিতে একাধিক প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জিমিয়ানের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অ্যাপল হিঞ্জের কিছু অংশে লিকুইড মেটাল ব্যবহারের বিষয়টি পরীক্ষা করেছিল। পরে ব্যাপক উৎপাদনের আগে সেই পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়। অ্যাপলের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ডুও-র হিঞ্জ একটি জটিল ইঞ্জিনিয়ারিং কাঠামো। হিঞ্জে ১০০টিরও বেশি কম্পোনেন্ট রয়েছে এবং এতে ৩ডি-প্রিন্টেড টাইটানিয়াম কভার ব্যবহার করা হয়েছে।
লঞ্চের সময় ৬-৮ মিলিয়ন ইউনিটের লক্ষ্য
সাপ্লাই চেনের একটি সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালে আইফোন ডুও-র জন্য অ্যাপলের বিশ্বব্যাপী ইনভেন্টরি টার্গেট প্রায় ৬-৮ মিলিয়ন ইউনিট। তুলনায়, একটি নির্দিষ্ট আইফোন প্রো বা প্রো ম্যাক্স মডেলের পূর্ণ প্রোডাকশন সাইকেলে অ্যাপলের শিপমেন্ট সাধারণত ২০-৩০ মিলিয়ন ইউনিট হতে পারে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও একটি রিটেল সূত্রের দাবি, অ্যাপল আইফোন ডুও-র ৫ মিলিয়নের বেশি ইউনিট বিক্রির লক্ষ্য রেখেছে। তবে এগুলি সাপ্লাই চেন সূত্রের তথ্য, অ্যাপলের প্রকাশিত বিক্রির পূর্বাভাস নয়।
২০২৬ সালে মাত্র ৬ মিলিয়ন ইউনিটের আরেক পূর্বাভাস
আইফোন ডুও-র সীমিত সরবরাহ নিয়ে এর আগেও রিপোর্ট সামনে এসেছিল। বিশ্লেষক জেফ পু-র একটি গবেষণা নোট উদ্ধৃত করে ৯টু৫ম্যাক জানিয়েছিল, ২০২৬ সালে আইফোন ডুও-র শিপমেন্টের পূর্বাভাস ৬ মিলিয়ন ইউনিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে এই সংখ্যা ৭ মিলিয়ন ধরা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে উৎপাদন সীমাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে হিঞ্জ সংক্রান্ত সমস্যা উল্লেখ করা হয়েছিল।
২৩ অক্টোবর থেকেই ভারতে বিক্রি
অ্যাপল গত ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। অ্যাপলের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে প্রি-অর্ডার শুরু হবে এবং ২৩ অক্টোবর থেকে বিক্রি শুরু হবে। ভারতে আইফোন ডুও-র দাম শুরু হচ্ছে ২,৯৯,৯০০ টাকা থেকে। ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টিবি এবং ২ টিবি স্টোরেজ বিকল্প রয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ভাঁজযোগ্য ভিতরের ডিসপ্লে এবং ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে। ডিভাইসটি এ২০ প্রো চিপে চলে এবং টাইটানিয়াম ফ্রেম ও হিঞ্জ কভার ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে।
চাহিদা বনাম উৎপাদন, নজর এখন সরবরাহে
আইফোন ডুও অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন হওয়ায় এর উৎপাদন প্রক্রিয়া সংস্থার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। ফক্সকনের অ্যাসেম্বলি ইয়িল্ড, ফোল্ডেবল ওএলইডি প্যানেলের সরবরাহ এবং হিঞ্জের উৎপাদন, সবকিছু মিলিয়ে লঞ্চের আগে উৎপাদন বাড়ানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে অ্যাপল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে ২৩ অক্টোবর আইফোন ডুও-র সরবরাহ কতটা সীমিত হবে। তাই লঞ্চের দিন ঠিক কতগুলি ইউনিট পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আপাতত সাম্প্রতিক সাপ্লাই চেন রিপোর্টগুলি প্রাথমিক স্টক সীমিত হওয়ার সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.