ভারতে স্মার্টফোনের দাম গড়ে ১৬% বাড়ল, ওয়ানপ্লাসের বৃদ্ধি ৮% - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারতে স্মার্টফোনের দাম গড়ে ১৬% বাড়ল, ওয়ানপ্লাসের বৃদ্ধি ৮%

Spread the love

ভারতের স্মার্টফোন বাজারে গত এক বছরে একাধিক সংস্থা বারবার দাম বাড়িয়েছে। স্যামসাং, ওয়ানপ্লাস, ভিভো, আইকিউওও, ওপো, রিয়েলমি এবং অ্যাপল, একাধিক ব্র্যান্ডের ফোনের দাম বেড়েছে। এর…

ভারতের স্মার্টফোন বাজারে গত এক বছরে একাধিক সংস্থা বারবার দাম বাড়িয়েছে। স্যামসাং, ওয়ানপ্লাস, ভিভো, আইকিউওও, ওপো, রিয়েলমি এবং অ্যাপল, একাধিক ব্র্যান্ডের ফোনের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের বাজারেও। মার্কেট রিসার্চ সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ভারতে স্মার্টফোনের দাম গড়ে ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

তবে এই সময় ওয়ানপ্লাসের দামবৃদ্ধি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সংস্থাটির ফোনের গড় দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ, যা সামগ্রিক বাজারের গড় বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক। একই সময়ে ২০,০০০ টাকার নিচের অনলাইন স্মার্টফোন বাজারে ওয়ানপ্লাস দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে ছিল।

ছয় মাসে গড়ে ১৬ শতাংশ দাম বেড়েছে

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ভারতে স্মার্টফোনের গড় দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ বছরের শুরুতে যে দামে পাওয়া যাচ্ছিল, ছয় মাসের মধ্যে একই ধরনের স্মার্টফোনের দাম অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে বিভিন্ন উপাদানের খরচ বাড়ার পাশাপাশি মেমোরি এবং স্টোরেজের বাজারে চাপও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ওয়ানপ্লাসের ক্ষেত্রে গড় মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশ। অর্থাৎ শিল্পের গড় বৃদ্ধির তুলনায় সংস্থাটির মূল্যবৃদ্ধি অর্ধেক ছিল।

১০ হাজার টাকার নিচের ফোনে সবচেয়ে বেশি চাপ

দামের বৃদ্ধির প্রভাব সব সেগমেন্টে সমান ছিল না। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০,০০০ টাকার নিচের স্মার্টফোন সেগমেন্টে গড় দাম ২৯ শতাংশ বেড়েছে। এই সেগমেন্টই ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। কম দামের ফোনে উপাদান এবং উৎপাদন খরচের সামান্য পরিবর্তনও চূড়ান্ত দামে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ৪৫,০০০ টাকার নিচের সেগমেন্টে গড় মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৯ শতাংশ। কাউন্টারপয়েন্টের হিসাবে এটিই ছিল উল্লিখিত সেগমেন্টগুলির মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম মূল্যবৃদ্ধির হার।

৩৮০টিরও বেশি ফোনের দাম বেড়েছে

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভারতে ৩৮০টিরও বেশি স্মার্টফোন মডেলে পড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাজারে সর্বোচ্চ নথিভুক্ত মূল্যবৃদ্ধি ছিল ১১৩ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন বৃদ্ধি ছিল ২ শতাংশ। অর্থাৎ একই সময়ে বাজারের বিভিন্ন মডেলের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির মাত্রায় বড় পার্থক্য দেখা গিয়েছে। মডেল, সেগমেন্ট এবং কনফিগারেশন অনুযায়ী দামের পরিবর্তন হয়েছে।

১০ হাজার টাকার নিচের ফোনের বিক্রি কমেছে ৬৫ শতাংশ

মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা গিয়েছে কম দামের স্মার্টফোনের বাজারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ১০,০০০ টাকার নিচের স্মার্টফোন সেগমেন্টে শিপমেন্ট বছরে ৬৫ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সেগমেন্টে ক্রেতাদের চাহিদায় বড় পরিবর্তন হয়েছে। বাজেট ফোনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা দাম বৃদ্ধিও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

১০ থেকে ২০ হাজার টাকার ফোনেও বড় ধাক্কা

১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা দামের স্মার্টফোন সেগমেন্টও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে বাদ যায়নি। কাউন্টারপয়েন্টের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এই সেগমেন্টে শিপমেন্ট বছরে ২০ শতাংশ কমেছে। রিপোর্টে এই পতনকে ঐতিহাসিকভাবে বাজারের অন্যতম বড় পতন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে বাজেট এবং মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টের মধ্যে চাপের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

২০ হাজার টাকার বেশি ফোনে তুলনামূলকভাবে ভালো পরিস্থিতি

২০,০০০ টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনগুলি তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হয়েছে। এই সেগমেন্টে বাজারের কিছু অংশে বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ট্রেড-ইন অফার এবং নো-কস্ট ইএমআই-এর মতো বিকল্পকে তুলে ধরেছে কাউন্টারপয়েন্ট। এই ধরনের অফারের ফলে বেশি দামের ফোনও ক্রেতাদের কাছে মাসিক কিস্তির মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হয়ে উঠছে। অর্থাৎ সরাসরি ফোনের দাম বেশি হলেও পুরনো ফোন বদলে দেওয়া বা নো-কস্ট ইএমআই ব্যবহার করে ক্রেতারা খরচ সামলাতে পারছেন।

মেমোরি ও স্টোরেজের খরচ নিয়ে চাপ

স্মার্টফোনের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মেমোরি এবং স্টোরেজের ঘাটতিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিআরএএম এবং ন্যান্ড স্টোরেজের দাম বাড়ার চাপ দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। সংস্থাটি মনে করছে, চলমান মেমোরি ও স্টোরেজের ঘাটতি ২০২৮ সালের আগে পুরোপুরি ঠান্ডা নাও হতে পারে। ফলে স্মার্টফোন নির্মাতাদের উৎপাদন খরচের উপর চাপ আরও কিছু সময় থাকতে পারে।

ওয়ানপ্লাসের ক্ষেত্রে আলাদা ছবি

এই পরিস্থিতিতে ওয়ানপ্লাসের গড় মূল্যবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হওয়া রিপোর্টের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। কাউন্টারপয়েন্টের হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ২০,০০০ টাকার নিচের অনলাইন স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে ওয়ানপ্লাস দ্রুততম বৃদ্ধির হার রেকর্ড করেছে। তবে এই তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের এই রিপোর্টটি সংস্থাটির ওয়ানপ্লাসের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা একটি হোয়াইট পেপারের তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে ওয়ানপ্লাস সংক্রান্ত পরিসংখ্যানকে সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা প্রয়োজন।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধের তথ্য ভারতের স্মার্টফোন বাজারে দামের চাপ এবং বিভিন্ন মূল্যসেগমেন্টে তার ভিন্ন প্রভাবকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে ১০,০০০ টাকার নিচের বাজারে ২৯ শতাংশ গড় মূল্যবৃদ্ধি এবং ৬৫ শতাংশ শিপমেন্ট পতন দেখাচ্ছে, কম দামের ফোনের বাজারে ক্রেতাদের উপর চাপ কতটা বেড়েছে।

Get your daily dose of tech news and insight.  Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *