জেলেই থাকবেন শারজিল-খালিদ! ফের জামিন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে
নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্ট বুধবার ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার বড় ষড়যন্ত্র (Umar Khalid)মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এই মামলাটি অবৈধ…
নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্ট বুধবার ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার বড় ষড়যন্ত্র (Umar Khalid)মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এই মামলাটি অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ-এর আওতায় দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি প্রতিভা এম সিং ও বিচারপতি দীনেশ ভাটের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের তৃতীয়বারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
আদালত বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের ৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর আদেশ পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা হাইকোর্টের নেই। সুপ্রিম কোর্ট তখন নির্দেশ দিয়েছিল যে, সুরক্ষিত সাক্ষীদের জেরা সম্পন্ন হলে অথবা সেই আদেশের এক বছর পার হলে এ দুইয়ের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে তখনই তারা নতুন করে জামিন চাইতে পারবেন। সেই শর্ত এখনও পূরণ হয়নি বলে আদালত জানিয়েছে।উমর খালিদকে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এবং শারজিল ইমামকে ২৫ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা প্রায় ছয় বছর ধরে জেলবন্দি।
আরও দেখুনঃ
পুলিশের অভিযোগ, তারা উত্তর-পূর্ব দিল্লির ফেব্রুয়ারি ২০২০-এর দাঙ্গার মূল ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম। সেই দাঙ্গায় ৫৩ জন নিহত এবং সাতশোরও বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।(Umar Khalid) নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসি-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় এই হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল।দিল্লি পুলিশ স্পেশাল সেল এই মামলার তদন্ত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, খালিদ ও ইমাম আদর্শগতভাবে পুরো ষড়যন্ত্র পরিচালনা করেছিলেন।
অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে খালিদ সাইফি ও প্রাক্তন আপ কাউন্সিলর তাহির হুসেনও রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট আগে পাঁচজন সহ-অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিলেও খালিদ ও ইমামকে আলাদা করে দেখেছিল। তাদের ভূমিকা অন্যদের তুলনায় গুরুতর বলে মনে করা হয়। (Umar Khalid)জুলাই মাসে ট্রায়াল কোর্ট তাদের তৃতীয় জামিন আবেদন খারিজ করার পর তারা হাইকোর্টে যান। আদালতে তাদের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, পরিস্থিতির কিছু পরিবর্তন হয়েছে এবং মামলায় এখনও চার্জ ফ্রেম হয়নি।
কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, তারা বিচারিক শৃঙ্খলা মেনে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুসরণ করতে বাধ্য। (Umar Khalid)এই রায়ের পর উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম জেলেই থাকবেন। মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সুরক্ষিত সাক্ষীদের জেরা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা পার না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে জামিন চাওয়ার সুযোগ সীমিত। পুলিশের দাবি, তাদের জামিন দিলে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুতর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। সেই সময়ের হিংসা নিয়ে বহু মামলা চলছে। এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকায় ইউএপিএ-এর কঠোর বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে। আদালত বারবার বলেছে, এই পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা নির্ণয় করা হয় না, শুধু প্রসিকিউশনের উপকরণ দেখে জামিনের যোগ্যতা বিচার করা হয়।
খালিদ ও ইমামের সমর্থকরা দীর্ঘ কারাবাসের কথা তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, পুলিশ ও কিছু মহল মনে করে, দাঙ্গার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের ক্ষেত্রে কঠোরতা প্রয়োজন। হাইকোর্টের এই রায় সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী দিনে মামলার অগ্রগতি এবং সুপ্রিম কোর্টের শর্ত পূরণ হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।