Parrot Intelligence: টিয়া কি মানুষের শেখানো কথাই শুধু বলতে পারে? নতুন গবেষণা আপনার মাথা ঘুরিয়ে দেবে | parrots dont just mimic human speech talk each other new scientific study
যুগ যুগ ধরে মানুষের ধারণা ছিল, টিয়াপাখি বা তোতা পাখি শুধুই মানুষের শেখানো শব্দ বা আওয়াজের যান্ত্রিক অনুকরণ (Mimicry) করতে পারে। তবে আধুনিক বিজ্ঞান এবার সেই পুরনো ধারণাকে পুরোপুরি পাল্টে দিল। নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, টিয়াপাখিরা কেবল মানুষের মুখস্থ বুলি আওড়ায় না, বরং নিজেদের প্রজাতির মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য তারা সত্যিই কথা বলে এবং নিজেদের তৈরি বিশেষ শব্দ ও সংকেত ব্যবহার করে।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দলের হাত ধরে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে পাখির জগতের যোগাযোগের এক বিস্ময়কর অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বুনো পরিবেশে বসবাসকারী টিয়াপাখিরা নিজেদের দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা কম্পনযুক্ত আওয়াজ ব্যবহার করে। মানুষের যেমন নিজস্ব ভাষা বা উচ্চারণশৈলী থাকে, ঠিক তেমনই প্রতিটা টিয়াপাখিরও একটি নিজস্ব ‘ধ্বনিগত পরিচয়’ বা বিশেষ কল (Call) থাকে, যাকে বিজ্ঞানীরা মানুষের নামের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, একটি টিয়াপাখি যখন দূর থেকে তার সঙ্গীকে বা দলের অন্য কোনও সদস্যকে ডাকে, তখন সে নির্দিষ্ট নাম ধরে ডাকার মতো করেই সেই বিশেষ আওয়াজটি তৈরি করে। অন্য পাশের পাখিটিও সেই নির্দিষ্ট সংকেত চিনে নিয়ে সঠিক উত্তর দেয়।
কীভাবে কাজ করে এদের নিজস্ব ভাষা?
১. গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই টিয়াপাখিরা দলগত পরিবেশ থেকে নির্দিষ্ট ধরনের সুর ও স্বর শেখে। দলের প্রতিটি সদস্য একে অপরকে চিহ্নিত করতে আলাদা শব্দপ্রয়োগ বা ‘সিগনেচার কল’ ব্যবহার করে।
২. বিপদের সংকেত দেওয়া, খাদ্যের সন্ধান জানানো কিংবা কেবল অভিবাদন জানানোর জন্য তারা আলাদা আলাদা স্বরের শব্দ তৈরি করে। এটি কোনও যান্ত্রিক অনুকরণ নয়, বরং পরিস্থিতি বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে বার্তা আদান-প্রদান।
৩. বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, টিয়াপাখির মস্তিষ্ক সামাজিক জটিলতা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেই কারণেই এরা মানুষের ভাষা অনুকরণ করার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যেও অত্যন্ত উন্নত স্তরের সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ‘ভাষা’ বজায় রাখতে সক্ষম।