Ather Konark হবে ভবিষ্যতের বড় ভরসা, দুই বছরে বিক্রির অর্ধেকের বেশি
বেঙ্গালুরুভিত্তিক ইলেকট্রিক স্কুটার নির্মাতা এথার এনার্জি তাদের সদ্য লঞ্চ করা কোনার্ককে আগামী দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে দেখছে। সংস্থার লক্ষ্য, আগামী দুই বছরের মধ্যে এথারের…
বেঙ্গালুরুভিত্তিক ইলেকট্রিক স্কুটার নির্মাতা এথার এনার্জি তাদের সদ্য লঞ্চ করা কোনার্ককে আগামী দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে দেখছে। সংস্থার লক্ষ্য, আগামী দুই বছরের মধ্যে এথারের মোট বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি অংশ কোনার্ক থেকে আসবে। তবে এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য অন্য ইলেকট্রিক স্কুটার সংস্থার গ্রাহক টেনে নেওয়া নয়। বরং পেট্রলচালিত ইন্টারনাল কম্বাসশন ইঞ্জিন বা আইসিই স্কুটার ব্যবহারকারীদের ইলেকট্রিক স্কুটারে নিয়ে আসাই কোনার্কের প্রধান লক্ষ্য।
এথারের চিফ বিজনেস অফিসার রাভনীত ফোকেলা জানিয়েছেন, কোনার্ককে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ইলেকট্রিক স্কুটার আরও বেশি সংখ্যক সাধারণ ক্রেতার কাছে পৌঁছতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাজারের মূল সুযোগ এখনও আইসিই স্কুটারের বিশাল গ্রাহকভিত্তির মধ্যেই রয়েছে।
ALSO READ – নয়া মাইলফলক মেক ইন ইন্ডিয়ায়! ২০৩০ র মধ্যেই ৩৫০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে দেশীয় প্রযুক্তির ট্রেন
কোনার্কের লক্ষ্য আইসিই স্কুটার ব্যবহারকারীদের ইভিতে আনা
এথারের মতে, ইলেকট্রিক স্কুটারকে মূলধারায় নিয়ে আসতে হলে প্রথমে সাধারণ ক্রেতাদের মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আরাম, নিরাপত্তা এবং ব্যাটারি লাইফ। এরপর ফিচার এবং প্রযুক্তি ক্রেতার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অর্থাৎ কোনার্কের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বেশি প্রযুক্তি বা ফিচার দেওয়ার বদলে দৈনন্দিন ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে জোর দিয়েছে এথার।
সংস্থার চিফ বিজনেস অফিসার রাভনীত ফোকেলার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনার্কের উদ্দেশ্য অন্য ইভি নির্মাতাদের কাছ থেকে বাজারের অংশ দখল করা নয়। বরং যেসব ক্রেতা এখনও ইন্টারনাল কম্বাসশন ইঞ্জিন বা আইসিই স্কুটার কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের ইলেকট্রিক স্কুটারের দিকে নিয়ে আসাই মূল লক্ষ্য।
পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টে কোনার্ক
এথার কোনার্ক বর্তমানে মোট পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি এস এবং দুটি জেড ভ্যারিয়েন্ট। কোনার্কের প্রাথমিক দাম ৯৯,৯৯৯ টাকা। পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে চারটির দাম এথার রিজটার কাছাকাছি রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক ব্যবহারের জন্য রিজটা বিবেচনা করা ক্রেতাদের কাছেও কোনার্ককে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে সংস্থা।
এথারের দাবি, দাম রিজটার তুলনায় কম হলেও কোনার্কে লাভের মার্জিন বেশি। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্ল্যাটফর্ম এবং সরলীকৃত আর্কিটেকচারের কারণে এই খরচ কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
ALSO READ – ২৫ সেপ্টেম্বর আসছে Tata Aeris, টিগর ফেসলিফটে নতুন ডিজাইন ও ফিচার
অ্যালুমিনিয়ামের বদলে টিউবুলার স্টিল চ্যাসিস
কোনার্ক তৈরির ক্ষেত্রে এথার তাদের আগের ৪৫০ এবং রিজটা মডেলের তুলনায় আলাদা ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতি নিয়েছে। ৪৫০ এবং রিজটায় অ্যালুমিনিয়াম চ্যাসিস ব্যবহার করা হলেও কোনার্কে টিউবুলার স্টিল চ্যাসিস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগের দুই-ধাপের বেল্ট ট্রান্সমিশনের বদলে এখানে গিয়ারবক্স ব্যবহার করা হয়েছে। চার্জার এবং মোটর কন্ট্রোলারকেও একটি ইউনিটে একত্রিত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলির মূল লক্ষ্য হল গাড়ির আর্কিটেকচারকে তুলনামূলক সরল রাখা এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
নতুন ইএল প্ল্যাটফর্মে তৈরি কোনার্ক
কোনার্ক এথারের নতুন ইএল প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি। সংস্থার দাবি, এই প্ল্যাটফর্মে ৪৫০ প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা কাজে লাগানো হয়েছে। রাভনীত ফোকেলার মতে, ৪৫০ প্ল্যাটফর্ম পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক ৪৫০-এর জন্য উপযুক্ত হলেও পরিবারের জন্য তৈরি রিজটার ক্ষেত্রে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জটিল ছিল। তবে রিজটার নির্ধারিত ডেভেলপমেন্ট টাইমলাইন মেনে চলার জন্য বিদ্যমান আর্কিটেকচার ব্যবহার করতে হয়েছিল। অন্যদিকে কোনার্কের জন্য শুরু থেকেই ইএল প্ল্যাটফর্মকে অপেক্ষাকৃত সহজ আর্কিটেকচার এবং কম খরচের কাঠামো হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
এখনই গোটা ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না
কোনার্কের চাহিদা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে এর সরবরাহ সীমিত। এই মুহূর্তে উত্তর ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে কোনার্ক সরবরাহ করা হচ্ছে। মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন বাজারে এখনও বুকিং শুরু করেনি এথার। সংস্থার নতুন উৎপাদন কারখানা ডিসেম্বর মাসে চালু হওয়ার পর সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কারখানা চালু হওয়ার পরও উৎপাদন পুরো মাত্রায় পৌঁছতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন রাভনীত ফোকেলা। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে আরও বাজারে কোনার্ক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এথারের।
আপাতত শোরুম সম্প্রসারণেও বিরতি
সরবরাহের সীমাবদ্ধতার প্রভাব এথারের ডিলার নেটওয়ার্কেও পড়েছে। বর্তমানে সংস্থার প্রায় ৭৫০টি আউটলেট রয়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে আপাতত শোরুম সম্প্রসারণের গতি কমিয়ে দিয়েছে এথার। উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ার পর আবার শোরুম সম্প্রসারণের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে প্রায় ২,০০০টি স্টোরে পৌঁছনোর লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার।
তবে এথার জানিয়েছে, শুধুমাত্র সংখ্যার জন্য শোরুম বাড়ানো হবে না। প্রতিটি ডিলার যাতে ব্যবসায়িকভাবে কার্যকর এবং লাভজনক থাকতে পারেন, সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই সম্প্রসারণ করা হবে।
এথারের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির পরিকল্পনায় কোনার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। ৯৯,৯৯৯ টাকা থেকে শুরু হওয়া এই ইলেকট্রিক স্কুটারকে ব্যবহারিক বৈদ্যুতিক যান হিসেবে আইসিই স্কুটার ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে সংস্থা। আগামী দুই বছরে মোট বিক্রির অর্ধেকের বেশি কোনার্ক থেকে আসার যে লক্ষ্য এথার জানিয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে উৎপাদন ক্ষমতা, সরবরাহ এবং ডিলার নেটওয়ার্ক বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.