হলদিয়া রিফাইনারি হবে আরও বড়! ৮৫ একর জমি অধিগ্রহণ করল ইন্ডিয়ান অয়েল
হলদিয়া: পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।(Haldia refinery) ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন বা আইওসি তাদের হলদিয়া রিফাইনারিকে আরও বড় পেট্রোকেমিক্যাল ও ডাউনস্ট্রিম কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে…
হলদিয়া: পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।(Haldia refinery) ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন বা আইওসি তাদের হলদিয়া রিফাইনারিকে আরও বড় পেট্রোকেমিক্যাল ও ডাউনস্ট্রিম কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে রূপান্তরের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এর জন্য প্রয়োজন ১৭৫ একর জমি। ইতিমধ্যে হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মাধ্যমে ৮৫ একর জমি ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাকি ৯০ একর জমির জন্য হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জমি মিললে প্রকল্পটি বোর্ডে উপস্থাপনের পথ খুলবে।হলদিয়া রিফাইনারি ১৯৭৫ সালে চালু হয়। তখন এর ক্ষমতা ছিল বছরে আড়াই মিলিয়ন টন। ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পর এখন তা প্রায় নয় মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। তবে চারপাশে হুগলি নদী, রেললাইন, খাল ও সড়ক থাকায় আর সম্প্রসারণের জায়গা নেই। তাই সংলগ্ন জমি প্রয়োজন।
আরও দেখুনঃ কলেজে ভর্তি হলেই মিলবে ৫০ হাজার টাকা! কোন বর্ষে কত অনুদান? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
আইওসি (Haldia refinery)বছরের পর বছর ধরে এই জমির দাবি জানিয়ে আসছে।সোমবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ৮৫ একর জমি ইতিমধ্যে দিয়েছে। বাকি অংশের জন্য পোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। পাবলিক সেক্টর কোম্পানি হিসেবে আইওসিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। জমি মিললে কোম্পানি প্রকল্পটি বোর্ডে নিয়ে যেতে পারবে।
এই সম্প্রসারণ শুধু রিফাইনারির আকার বাড়ানো নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হবে পেট্রোকেমিক্যাল ও ডাউনস্ট্রিম কেমিক্যাল ইউনিট। আধুনিক যুগে শুধু তেল শোধন করে লাভজনক ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন। পেট্রোকেমিক্যাল যোগ করলে মূল্য সংযোজন বাড়ে এবং লাভের সুযোগও তৈরি হয়। হলদিয়ার মতো বন্দর শহরে এমন কমপ্লেক্স গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। হলদিয়া ইতিমধ্যেই শিল্প নগরী হিসেবে পরিচিত। নতুন প্রকল্প এলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। নির্মাণ পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে চালু হলে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা তৈরি হবে। আনুষঙ্গিক শিল্পও গড়ে উঠতে পারে। বন্দরের কার্যক্রম আরও ব্যস্ত হবে।তবে জমি অধিগ্রহণ সবসময় সহজ হয় না। পরিবেশগত অনুমোদন, স্থানীয় মানুষের সম্মতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা থাকতে পারে।
আইওসি ও রাজ্য সরকার উভয়কেই সতর্কভাবে এগোতে হবে। জমির মালিকানা পরিষ্কার রাখা এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়টি স্বচ্ছভাবে সমাধান করতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ বাড়াতে এমন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সাফল্য ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে রাজ্যে এ ধরনের শিল্প সম্ভব। আইওসির নতুন উদ্যোগ সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ও (Haldia refinery)এ বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হলদিয়া শুধু তেল শোধনাগারের শহর থাকবে না। এটি পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল হাব হয়ে উঠতে পারে। কাঁচামাল আমদানি ও তৈরি পণ্য রপ্তানির সুবিধা বন্দরের কাছাকাছি থাকায় আরও বাড়বে। রাজ্যের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।