‘ব্যক্তিগত জীবন যেন উন্মুক্ত…’, বিয়ের গোপনীয়তা বজায় রাখার কারণ জানালেন তাপসী পান্নু
অভিনেত্রী তাপসী পান্নু নিজের বিয়ে কিংবা প্রেমকে কখনই আর দশটা তারকার মতো সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারের হাতিয়ার বানাননি। প্রথাগত জমকালো ওয়েডিং ফটোশুট, ইনস্টাগ্রামের ‘পিকচার পারফেক্ট’ বিয়ের ছবি, ঘটা করে অ্যানাউন্সমেন্ট ছাড়াই তিনি বাঁধা পড়েছিলেন প্রাক্তন ড্যানিশ ব্যাডমিন্টন তারকা ম্যাথিয়াস বো (Mathias Boe)-র সঙ্গে। সম্প্রতি একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে তাপসী নিজের দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রেম ও বৈবাহিক জীবনের সেই না-বলা রসায়ন প্রকাশ্যে এনেছেন।
বলিউডে অভিষেকের বছর থেকেই ম্যাথিয়াস বো-র সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তাপসী। দীর্ঘ ১৩ বছর এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার প্রধান মূলভিত্তি কী, তা খুব সহজ ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী। তাপসীর মতে, যে কোনও সফল, লং-টার্ম সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক নিরাপত্তাবোধ এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ। ভালোবাসা আসে তার অনেক পরে। তিনি সোজা ভাষায় জানান, পারস্পরিক মর্যাদা না থাকলে সেই সম্পর্কের স্থায়িত্ব বেশিদিন হয় না। প্রেম সম্পর্ক শুরু করতে পারে, কিন্তু দিনের শেষে একে অপরের পাশে থাকা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে সম্মানটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেজিস্ট্রি করার পর, ২০২৪ সালের মার্চে রাজস্থানের উদয়পুরে অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ে সারেন তাপসী ও ম্যাথিয়াস। বলিউডের অন্যান্য বিয়ের মতো তাপসী অতিথিদের ফোন জমা নেননি। বদলে অতিথিদের প্রতি ভরসা রেখে ছবি না পোস্ট করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বিয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অতিথিদের এডিটেড ফটো ও ভিডিয়ো দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল সেগুলি ব্যক্তিগত রাখার জন্য। এক আমন্ত্রিত অতিথির মাধ্যমে বিয়ের ভিডিয়ো অনলাইনে লিক হয়ে যাওয়ায় তাপসী কিছুটা বিব্রত ও হতাশ প্রকাশ করেন। তাপসী স্পষ্ট জানান, তিনি নিজে গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকা হলেও তাঁর স্বামী ম্যাথিয়াস বা তাঁর পরিবার লাইমলাইটে থাকতে পছন্দ করেন না। তাই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকে সম্মান জানিয়ে এই গোপনীয়তা বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
তাপসী পান্নু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও কথা বলেন। তিনি মনে করেন, আজকের যুগে যে কোনও পেশার মানুষই সত্যি ভালোবাসা, মানসিক সমর্থন ও পার্টনারশিপ চান, কিন্তু তা ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তাপসীর কথায়, ‘ম্যাথিয়াসকে বিয়ে করা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত। পরিবার বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমার হাতে ছিল না। কিন্তু সঙ্গীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ আমার হাতে ছিল। আমি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম আমার ব্যক্তিগত জীবনের পরিধি যেন কেবল ভালোবাসার মানুষের কাছেই উন্মুক্ত থাকে, ইন্টারনেটের কাছে নয়।’