দেশ জুড়ে ই চালানে জমা পড়েনি ২০ হাজার কোটি টাকা! আদালত জানাল বড় সিদ্ধান্ত - 24 Ghanta Bangla News
Home

দেশ জুড়ে ই চালানে জমা পড়েনি ২০ হাজার কোটি টাকা! আদালত জানাল বড় সিদ্ধান্ত

Spread the love

নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। (Supreme Court)ই-চালান জারি করাই ন্যায়বিচার নয়, বরং তার আদায়ই আসল বিষয়। দেশজুড়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে…

নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। (Supreme Court)ই-চালান জারি করাই ন্যায়বিচার নয়, বরং তার আদায়ই আসল বিষয়। দেশজুড়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে ই-চালানের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার জরিমানা ধার্য হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়েছে। বাকি বিপুল অঙ্ক এখনও বকেয়া রয়ে গেছে। আদালত বলেছে, শুধু নোটিশ পাঠিয়ে কাজ হয় না।

জরিমানা আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা করতেই হবে।বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেন। আদালত জানায়, পুলিশ হাজার হাজার ই-চালান জারি করতে পারে। কিন্তু জরিমানা না দিলে তার কোনো মানে থাকে না। তাই কিছু কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বকেয়া জরিমানা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করা।

আরও দেখুনঃ

বিদ্যুৎ বিল না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। একইভাবে জরিমানা যোগ করলে মানুষ পরিশোধ করতে বাধ্য হতে পারে।আদালত আরও বলেছে, পরিবহন পোর্টালে বকেয়া চালানযুক্ত যানবাহনকে কালো তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে। মালিকানা হস্তান্তর বন্ধ রাখা, রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করা, ফিটনেস ও পিইউসি সার্টিফিকেট না দেওয়া এমন ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যায়। এলোমেলো চেকিং চালিয়ে যদি কোনো গাড়িতে বকেয়া চালান পাওয়া যায়, তাহলে সেটি বাজেয়াপ্ত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রস্তাব নিয়ে সমাজে দুই ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। (Supreme Court)একদিকে অনেকে বলছেন, এতে সাধারণ মানুষের হয়রানি বাড়বে। অনেক সময় ই-চালানের নোটিশ সঠিকভাবে না পৌঁছানোর অভিযোগ থাকে। বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে জুড়ে দিলে নির্দোষ মানুষও সমস্যায় পড়তে পারেন। যারা নিয়মিত জরিমানা পরিশোধ করেন, তাদেরও অসুবিধা হতে পারে।অন্যদিকে অনেকে মনে করেন, জরিমানার কোনো কার্যকারিতা না থাকলে ট্রাফিক আইনের কোনো মানে থাকে না।

বারবার নিয়ম ভাঙা চালকরা যদি শুধু কাগজে চালান পেয়েই পার পেয়ে যায়, তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। জরিমানা যদি গাড়ির সঙ্গে লেগে থাকে এবং বিদ্যুৎ বিল বা বিক্রির সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সচেতন হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির সাহায্যে এখন গাড়ির নম্বর প্লেট ও মালিকের তথ্য সহজে মেলানো যায়। কিন্তু বাস্তবায়নের সময় সতর্কতা জরুরি।

ভুল চালান, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি বা নোটিশ না পাওয়ার মতো সমস্যাগুলো আগে সমাধান করতে হবে। মানুষকে সহজে আপিল করার সুযোগ দিতে হবে। শুধু কঠোরতা নয়, স্বচ্ছতাও রাখতে হবে।সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা না হলে এই সংখ্যা কমবে না। ই-চালান ব্যবস্থা আধুনিক ও স্বচ্ছ হলেও আদায় না হলে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ তাই গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকারগুলো কীভাবে এটিকে বাস্তবে রূপ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *