Calcutta High Court: ‘এমন কাজ করুন যাতে পরে প্রশ্নের মুখে পড়তে না হয়’, কমিশনকে সতর্ক করল ‘উদ্বিগ্ন’ হাইকোর্ট | Calcutta High Court’s big observation on Election Commission in case regarding election symbol of ISF
হাইকোর্টে আইএসএফের মামলার শুনানিImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: একটি দল খাম প্রতীকে লড়ে জেনেও কেন আর একটি দলকে সেই প্রতীক দেওয়া হল? এই প্রশ্ন তুলে আগেই কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এবার ফের কমিশনের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। কেন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হবে, প্রশ্ন তুলল আদালত।
কী সেই মামলা?
খাম প্রতীকে আইএসএফ একাধিক নির্বাচন লড়ার পর, সেই প্রতীক দিয়ে দেওয়া হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস তথা ঋতব্রত-শিবিরকে। বাংলার আসন্ন দুই উপ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া খাম প্রতীকেই লড়ছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল। বদলে আলমারি প্রতীক পেয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকীরা। এই প্রতীক পরিবর্তন নিয়ে সরব হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে আইএসএফ। মামলার শুনানি শেষ হল এদিন। রায়দান স্থগিত রাখল বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ।
‘অন্য একটা দলকে কী করে দিলেন প্রতীক?’
সোমবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “কর্তৃপক্ষের কাজে হাইকোর্ট উদ্বিগ্ন।” তাই আদালত চায়, কর্তৃপক্ষ এমনভাবে কাজ করুক যাতে পরে তাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে না হয়। কোর্টকেও যাতে পরে হস্তক্ষেপ করতে না হয়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট।
অন্য একটা দলকে কীভাবে প্রতীক দেওয়া হল, তা নিয়ে এদিন ফের প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। তিনি বলেন, “আগের সিম্বল পাওয়া তাদের অধিকার হয়তো নয়, কিন্তু এটা তাদের চাওয়াটা স্বাভাবিক। সেটা না করে আপনারা অন্য একটা দলকে কী করে দিলেন সেই প্রতীক?’
প্রতীক কারও সম্পত্তি নয়: কমিশন
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু সাহা উল্লেখ করেন, সাধারণ নির্বাচন ও উপ নির্বাচন দুটো আলাদা। কমিশনের যুক্তি হল, একটা ভোটের ক্ষেত্রে ফল বেরিয়ে গেলেই ভোট শেষ। আর ফ্রি সিম্বল দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনই শেষ কথা বলবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। কমিশনের বক্তব্য, “সিম্বল বা প্রতীক কারও সম্পত্তি নয়। এ ব্যাপারে কারও কোনও অধিকার নেই।”
এই যুক্তি শুনে কমিশনকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, আইএসএফ আবেদন করেছে, আর সেটা যে বিবেচনা করা হয়েছে, সেই নথি কোথায়? কোন আইনি ধারা মেনে নির্বাচন কমিশন ডেমোক্রেটিক তৃণমূলকে দিল ওই প্রতীক? এই ব্যাপারে যথাযথ যুক্তি দেওয়ার কথা বলেছে আদালত।
নির্বাচন কমিশন প্রাইভেট পার্টির দ্বারা চালিত হয়, তাহলে যা হওয়ার তাই হয়েছে: বিচারপতি
কমিশনকে বিচারপতি রাও বলেন, “আসলে আপনার কর্তৃপক্ষ আগাম একটা অনিয়ম করেছে। আপনি এখন তাদের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদি নির্বাচন কমিশন প্রাইভেট পার্টির দ্বারা চালিত হয়, তাহলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। অথরিটি স্বচ্ছ না হলে এইটাই হবে।”
উত্তরে আইনজীবী জিষ্ণু সাহা বলেন, সিম্বল দেওয়ার অধিকার কমিশনের। কোনও পার্টির নয়। আইএসএফের পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “সেই অধিকার একপেশে হতে পারে না।”