হাসিমারা-কালাইকুণ্ডা-মালদা-বালুরঘাটে বিমান পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা - 24 Ghanta Bangla News
Home

হাসিমারা-কালাইকুণ্ডা-মালদা-বালুরঘাটে বিমান পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা

Spread the love

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিমান যোগাযোগ (West Bengal Airports)  ব্যবস্থায় বড়সড় পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। রাজ্যের চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অসামরিক বিমান পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা এএআই। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে হাসিমারা, কালাইকুণ্ডা, মালদা এবং বালুরঘাট।

এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের জন্য এএআই এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র বা এমওইউ স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। কলকাতায় আগামী মাসে এই এমওইউ স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এর মাধ্যমে চারটি জায়গায় বিমান পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্র এবং রাজ্যের দায়িত্ব ও সমন্বয়ের কাঠামো নির্ধারিত হবে।

হাসিমারা ও কালাইকুণ্ডায় অসামরিক বিমান পরিষেবার পরিকাঠামো

প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল হাসিমারা এবং কালাইকুণ্ডা। এই দুই জায়গাতেই বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানঘাঁটি রয়েছে। সেখানে অসামরিক বিমান পরিষেবা চালুর জন্য সিভিল এনক্লেভ বা অসামরিক বিমান পরিষেবার নির্দিষ্ট পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর ফলে বিদ্যমান বায়ুসেনা ঘাঁটির পরিকাঠামো ব্যবহার করে অসামরিক বিমান চলাচলের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ নতুন জায়গায় সম্পূর্ণ বিমানবন্দর তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান বিমান পরিকাঠামোর সঙ্গে অসামরিক পরিষেবাকে যুক্ত করা সম্ভব হয়। তবে হাসিমারা এবং কালাইকুণ্ডায় যাত্রী পরিষেবা ঠিক কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।

বালুরঘাট বিমানবন্দর ফের এএআইয়ের হাতে

পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বালুরঘাট বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটি ফের এএআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এএআইয়ের কাছে বিমানবন্দরের দায়িত্ব ফিরলে সেখানে পরিকাঠামোর পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর ফলে বালুরঘাট বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন আরও পরিকল্পিতভাবে করা সম্ভব হতে পারে।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটকে কেন্দ্র করে বিমান পরিষেবা চালু বা উন্নত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন, ব্যবসা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিমান যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

মালদার ক্ষেত্রেও রয়েছে পরিকল্পনা

চারটি জায়গার তালিকায় মালদাও রয়েছে। তবে মালদায় ঠিক কী ধরনের বিমান পরিকাঠামো তৈরি বা উন্নয়ন করা হবে, সেই বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে সূত্রের দাবি। অর্থাৎ হাসিমারা, কালাইকুণ্ডা এবং বালুরঘাটের ক্ষেত্রে যে নির্দিষ্ট ধরনের উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে, মালদার ক্ষেত্রে এখনও সেই পর্যায়ের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। এমওইউ এবং পরবর্তী পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিষয়টি নির্ধারণ করা হতে পারে।

রাজ্য সরকারের দায়িত্ব কী হবে

প্রস্তাবিত এমওইউতে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব আলাদা করে নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিভিল এনক্লেভ এবং বিমানবন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় জমি কোনও আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়া उपलब्ध করানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন, বাহ্যিক পরিকাঠামো এবং একাধিক সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও রাজ্যকে সহায়তা করতে হবে। এর ফলে বিমান পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে জমি, অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গে বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য

চারটি জায়গায় উন্নয়ন হলে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর এবং পশ্চিমাঞ্চলের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের বিমান যোগাযোগের বড় অংশ কলকাতা এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। হাসিমারা, কালাইকুণ্ডা, মালদা এবং বালুরঘাটকে বৃহত্তর আঞ্চলিক বিমান নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন জেলার মানুষের বিমান পরিষেবার সুযোগ বাড়তে পারে।

এই পরিকাঠামো পর্যটন, বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং শিল্পের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। উন্নত বিমান যোগাযোগের ফলে ব্যবসায়িক যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা এবং শিক্ষা সংক্রান্ত ভ্রমণের সুযোগও বাড়তে পারে।

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে প্রভাবের সম্ভাবনা

বিমানবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিমানবন্দর পরিচালনা, নিরাপত্তা, পরিবহণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খাদ্য পরিষেবা, খুচরো ব্যবসা এবং অন্যান্য সহায়ক পরিষেবায় নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বাড়লে বিমানবন্দরের আশপাশে হোটেল, পরিবহণ, পর্যটন এবং স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও চাহিদা বাড়তে পারে। বিশেষ করে পর্যটন এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে দ্রুত যোগাযোগের সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কেন্দ্রের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ পরিকল্পনার অংশ

এই চারটি প্রকল্পকে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। লক্ষ্য হল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান পরিষেবার পরিকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি ইতিমধ্যে থাকা বিমান পরিকাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা। প্রস্তাবিত বিমানবন্দর ও সিভিল এনক্লেভগুলিকে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক বিমান নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক, দক্ষ এবং ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী বিমান পরিকাঠামো তৈরির লক্ষ্যও রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগকে বিকশিত ভারতের বৃহত্তর জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।

এখনও স্পষ্ট নয় খরচ ও সময়সীমা

তবে প্রকল্পের ঘোষণা হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। চারটি প্রকল্পে মোট কত টাকা খরচ হবে, কোন প্রকল্পের নির্মাণ কবে শুরু হবে এবং কবে যাত্রী পরিষেবা চালু হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সূত্রের দাবি, প্রকল্পভিত্তিক খরচ পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে। এএআই এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে প্রস্তাবিত এমওইউ-র কাঠামোর মধ্যেই পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের আর্থিক বিষয়গুলি চূড়ান্ত করা হবে।

ফলে আপাতত এই উদ্যোগকে পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের একটি প্রস্তাবিত পরিকাঠামো পরিকল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এমওইউ স্বাক্ষর এবং পরবর্তী বিস্তারিত প্রকল্প পরিকল্পনার পরই চারটি জায়গায় কাজের পরিধি, বিনিয়োগ, নির্মাণের সময়সীমা এবং যাত্রী পরিষেবা শুরুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *