ঘাসফুল প্রতীক বিতর্কে বড় রায় সুপ্রিমকোর্টের! কমিশনকে ৩ মাসের ডেডলাইন
নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক (TMC symbol)নিয়ে দুই শিবিরে চলছে বিবাদ। এবার সেই বিবাদ হয়ত দ্রুত নিষ্পত্তির পথে। সোমবার এই মামলার শুনানিতে…
নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক (TMC symbol)নিয়ে দুই শিবিরে চলছে বিবাদ। এবার সেই বিবাদ হয়ত দ্রুত নিষ্পত্তির পথে। সোমবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছে, দুই পক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য, নথি ও প্রয়োজনীয় জবাব পেশ করতে হবে। এরপর উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কমিশনকে নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আরও দেখুনঃ চিকেন নেককে আরও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ঢাকতে ২৯৭ কোটির ভূগর্ভবস্থ প্রতিরক্ষার পরিকল্পনা কেন্দ্রের
তৃণমূলের দলীয় পরিচয় নিয়ে এই আইনি ও সাংগঠনিক টানাপোড়েনের সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে ঘিরে। ১৮ সেপ্টেম্বর কমিশন জানিয়েছিল, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম এবং সংরক্ষিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক আপাতত কোনও পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না।
কমিশনের বক্তব্য ছিল, দলের ভিতরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি ১৯৬৮ সালের Election Symbols (Reservation and Allotment) Order-এর বিধান অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও প্রতীক ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (TMC symbol )তাঁর আবেদনের পর মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য গ্রহণ করে শীর্ষ আদালত। গত কয়েকদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিল, দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কত দ্রুত এই বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। আদালত স্পষ্ট করে দেয়, দুই পক্ষকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা উচিত নয়।
সোমবারের নির্দেশে সেই সময়সীমাই কার্যত নির্দিষ্ট করে দিল শীর্ষ আদালত। প্রথমে চার সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষকে কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে কমিশনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থাৎ, এখন মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপরই। কমিশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যতে কোন গোষ্ঠী ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঐতিহ্যবাহী নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার পাবে।
এর মধ্যে অবশ্য দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।(TMC symbol) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে অন্তর্বর্তীভাবে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড়ের প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খামের প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা মূলত আসন্ন উপনির্বাচনের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের নির্বাচনী কার্যক্রম চালানোর জন্য করা হয়েছে।
নাম ও প্রতীকের এই বিতর্কের গুরুত্ব শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয়, নির্বাচনী প্রতীক এবং ভোটারদের কাছে তার দীর্ঘদিনের পরিচিতি সবকিছুর সঙ্গেই বিষয়টি জড়িত। তাই কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে নথি ও প্রমাণ তুলে ধরার সুযোগ পাবে। আদালতের সোমবারের নির্দেশ সেই প্রক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার পথ তৈরি করেছে।