কপিলমুনির দর্শনে সাগর সঙ্গমে শমীক সহ নীতিন - 24 Ghanta Bangla News
Home

কপিলমুনির দর্শনে সাগর সঙ্গমে শমীক সহ নীতিন

Spread the love

কলকাতা: পবিত্র গঙ্গাসাগরে আজ এক অনন্য আধ্যাত্মিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে (Nitin Nabin)কপিল মুনি আশ্রম। ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সেখানে পৌঁছে কাপিল মুনি…

কলকাতা: পবিত্র গঙ্গাসাগরে আজ এক অনন্য আধ্যাত্মিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে (Nitin Nabin)কপিল মুনি আশ্রম। ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সেখানে পৌঁছে কাপিল মুনি মন্দিরে প্রার্থনা করেন এবং গঙ্গা-সাগর সঙ্গমে পুণ্যস্নান সম্পন্ন করেন। সকালের নরম আলোয় সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ আর ভক্তদের মন্ত্রোচ্চারণের মাঝে এই দৃশ্য যেন গঙ্গাসাগরের প্রাচীন ঐতিহ্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে।

নীতিন নবীন মন্দিরের চত্বরে প্রবেশ করে প্রথমেই কপিল মুনির মূর্তির (Nitin Nabin)সামনে নতজানু হয়ে প্রণাম জানান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কয়েকজন কর্মী। প্রার্থনার পর তিনি গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে গিয়ে পবিত্র স্নান করেন। স্থানীয়রা বলছেন, নেতার এই আগমন গঙ্গাসাগরের আধ্যাত্মিক পরিবেশে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।স্নান শেষে নীতিন নবীন সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে গঙ্গাসাগরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আরও দেখুনঃ দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বায়ুসেনাকে ভয়ঙ্কর করতে ময়দানে নামল দেশীয় প্রযুক্তির LCA Mk-1A

তিনি বলেন, “গঙ্গা দশহরা এবং গঙ্গা জাতীয় রাষ্ট্রীয় মেলা এখানে সবসময়ই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়ে এসেছে। আমরা সবাই চাই গঙ্গার তীরে একটি জাতীয় রাষ্ট্রীয় মেলা আয়োজিত হোক এবং আমাদের সরকার সেই দিকে প্রয়াস চালাবে।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে তিনি শুধু ব্যক্তিগত ভক্তি নয়, বরং এই তীর্থক্ষেত্রকে জাতীয় স্তরে আরও বিকশিত করার ইচ্ছা পোষণ করছেন।

গঙ্গাসাগরের কপিল মুনি আশ্রম হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এখানেই ঋষি কপিল মুনি তপস্যা করতেন। রাজা সগরের ষাট হাজার পুত্রের মোক্ষলাভের জন্য ভাগীরথ গঙ্গাকে পৃথিবীতে নিয়ে আসেন এবং সেই গঙ্গার জলই এই সঙ্গমে মিশে সাগরের সঙ্গে একাকার হয়েছে। তাই বলা হয়, “সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার।” প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে লাখ লাখ ভক্ত এখানে পুণ্যস্নান করেন।

নীতিন নবীনের (Nitin Nabin)আজকের সফর সেই ধারাবাহিকতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।গঙ্গাসাগরের পরিবেশ আজও অনেকটাই শান্ত ও নির্মল। সমুদ্রের বাতাসে লবণের গন্ধ, দূরে জেলে নৌকার ছবি আর মন্দিরের ঘণ্টার ধ্বনি মিলিয়ে এক অপার্থিব অনুভূতি তৈরি করে। নিতিন নবীন মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করে পুজো-অর্চনা করেন। পুরোহিতরা তাঁকে প্রসাদ দেন এবং আশীর্বাদ করেন। স্থানীয় কিছু ভক্ত নেতাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে জয়ধ্বনি দেন।

কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে সেলফি তোলার চেষ্টা করেন। নীতিন নবীন সবাইকে হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন যে এই পবিত্র স্থানে এসে মন শান্ত হয়, আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। তাঁর কথায় স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি গঙ্গাসাগরকে শুধু একটি তীর্থ নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে দেখছেন। গঙ্গা দশহরার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে এই অনুষ্ঠানগুলোকে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা উচিত যাতে সারা দেশের মানুষ এখানে এসে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *