সোলার শিল্পে বড় বদলের ইঙ্গিত, চার শেয়ারে অ্যাম্বিটের লক্ষ্য - 24 Ghanta Bangla News
Home

সোলার শিল্পে বড় বদলের ইঙ্গিত, চার শেয়ারে অ্যাম্বিটের লক্ষ্য

Spread the love

কলকাতা: ভারতের সোলার ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প (Solar Energy) একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছে অ্যাম্বিট ক্যাপিটাল। সংস্থাটির ২৪ সেপ্টেম্বরের গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের সোলার ম্যানুফ্যাকচারিং সাইকেল এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যেখানে লাভজনকতার কেন্দ্র ধীরে ধীরে মডিউল থেকে সেলে এবং পরবর্তীতে ইনগট-ওয়েফার উৎপাদনের দিকে সরে যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গোটা ফোটোভোল্টাইক ভ্যালু চেনকে দেশে তৈরি করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অ্যাম্বিটের মতে, এই শিল্পে প্রবেশের বাধা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রথম দিকে বাজারে প্রবেশকারী সংস্থাগুলি অতিরিক্ত রিটার্ন পেতে পারে। তবে নতুন প্রতিযোগিতা বাড়লে সেই রিটার্ন স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।

চারটি শেয়ারের ওপর নজর অ্যাম্বিটের

অ্যাম্বিট ক্যাপিটাল তাদের বিশ্লেষণে চারটি সংস্থাকে গুরুত্ব দিয়েছে। এগুলি হল সুজলন এনার্জি, প্রিমিয়ার এনার্জিস, এমভি ফোটোভোল্টাইক পাওয়ার এবং সাত্ত্বিক গ্রিন এনার্জি। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রিপোর্টে সুজলন এনার্জি এবং সাত্ত্বিক গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে ‘বাই’ মতামত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে প্রিমিয়ার এনার্জিস এবং এমভি ফোটোভোল্টাইক পাওয়ারের ক্ষেত্রে ‘সেল’ মতামত দেওয়া হয়েছে। এগুলি অ্যাম্বিট ক্যাপিটালের নিজস্ব গবেষণা ও মূল্যায়ন, নিশ্চিত রিটার্নের পূর্বাভাস নয়।

সুজলন এনার্জি

অ্যাম্বিটের মতামত: বাই
রিপোর্টে উল্লেখিত বর্তমান দাম: ৪২ টাকা
লক্ষ্যমাত্রা: ৫৯ টাকা

অ্যাম্বিট ক্যাপিটাল সুজলন এনার্জির জন্য ৫৯ টাকার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। সংস্থাটির ক্ষেত্রে মূল মূল্যায়ন সোলার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের বদলে উইন্ড পাওয়ার ব্যবসার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। তবে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির গতি কমে গেলে উইন্ড পাওয়ার প্রকল্পের সংযোজনও ধীর হতে পারে বলে রিপোর্টে ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রিমিয়ার এনার্জিস

অ্যাম্বিটের মতামত: সেল
রিপোর্টে উল্লেখিত বর্তমান দাম: ৯১৫ টাকা
লক্ষ্যমাত্রা: ৮২৫ টাকা

প্রিমিয়ার এনার্জিসের ক্ষেত্রে অ্যাম্বিটের মূল্যায়নে সেল মতামত রয়েছে। সংস্থাটি শক্তিশালী ব্যালান্স শিট, প্রোমোটার অভিজ্ঞতা এবং উচ্চ দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনা করলেও সোলার সেল উৎপাদন ক্ষেত্রে বাড়তে থাকা সরবরাহ এবং কমতে থাকা স্প্রেডকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখেছে।

এমভি ফোটোভোল্টাইক পাওয়ার

অ্যাম্বিটের মতামত: সেল
রিপোর্টে উল্লেখিত বর্তমান দাম: ৩৩৩ টাকা
লক্ষ্যমাত্রা: ৩১৫ টাকা

এমভির ক্ষেত্রেও অ্যাম্বিট ‘সেল’ মতামত দিয়েছে। ব্রোকারেজের মতে, নতুন দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডোমেস্টিক কনটেন্ট রিকোয়ারমেন্ট বা ডিসিআর মডিউলের অর্ডারে আগের মতো বেশি স্প্রেড পাওয়া কঠিন হতে পারে।

অ্যাম্বিট আশা করছে, এমভি ভবিষ্যতে ভারতের বড় ফোটোভোল্টাইক উৎপাদকদের মধ্যে থাকতে পারে। তবে বাড়তে থাকা উৎপাদন ক্ষমতা এবং অ্যালএমএম-২-এর মেয়াদ বৃদ্ধির প্রভাব সংস্থাটির মার্জিনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

সাত্ত্বিক গ্রিন এনার্জি

অ্যাম্বিটের মতামত: বাই
রিপোর্টে উল্লেখিত বর্তমান দাম: ৪৪৮ টাকা
লক্ষ্যমাত্রা: ৪৮০ টাকা

সাত্ত্বিক গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে অ্যাম্বিট ‘বাই’ মতামত রেখেছে। সংস্থাটির ২.৪ গিগাওয়াটের সেল ম্যানুফ্যাকচারিং লাইন কত দ্রুত উৎপাদনে পৌঁছয় এবং তার ব্যবহার কতটা বাড়ে, সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে।

সোলার সেলে বাড়ছে অতিরিক্ত সরবরাহ

অ্যাম্বিটের বিশ্লেষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সোলার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ইতিমধ্যেই প্রায় ২৩০ গিগাওয়াট মডিউল উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। অথচ ২০২৭ থেকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে বার্ষিক চাহিদা ৬৫ থেকে ৮৪ গিগাওয়াটের মধ্যে হতে পারে বলে অ্যাম্বিট অনুমান করেছে।

ব্রোকারেজের মতে, ব্যাকওয়ার্ড ইন্টিগ্রেশন, প্রযুক্তি আপগ্রেড এবং নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য সংস্থাগুলিকে ধারাবাহিকভাবে মূলধন ব্যয় করতে হবে। অতিরিক্ত সরবরাহ, নতুন বিনিয়োগ এবং কমতে থাকা স্প্রেডের ফলে রিটার্ন অন ইনভেস্টেড ক্যাপিটাল বা রোআইসি কমতে পারে। অ্যাম্বিটের হিসাব অনুযায়ী, রোআইসি ৪০ শতাংশের বেশি স্তর থেকে কমে ১৯ থেকে ২১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

ডিসিআর মডিউলের দামেও চাপ

ডোমেস্টিক কনটেন্ট রিকোয়ারমেন্ট বা ডিসিআর মডিউলের সাম্প্রতিক অর্ডারের দামও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিচ্ছে। অ্যাম্বিট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু ডিসিআর মডিউল অর্ডারের দাম বর্তমান দামের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম ছিল। একই সময়ে ২০২৬ সালের আগস্টে সোলার সেল উৎপাদন ৩৫ শতাংশ বেড়ে ২.৯ গিগাওয়াট হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়তে থাকা উৎপাদন এবং চাহিদার তুলনায় বেশি ক্ষমতা ভবিষ্যতে দামের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রযুক্তি বদলও বড় চ্যালেঞ্জ

সোলার শিল্পে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনও নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। অ্যাম্বিটের মতে, মোনো-পিইআরসি প্রযুক্তি গত কয়েক বছরে টিওপি-কন প্রযুক্তির কাছে জায়গা হারিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রযুক্তি বাজারে এলে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে বারবার যন্ত্রপাতি আপগ্রেড করতে হতে পারে। ফলে শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো নয়, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মূলধন ব্যয়ের প্রয়োজনও বাড়বে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা?

অ্যাম্বিট ক্যাপিটালের বিশ্লেষণে ভারতের সোলার ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের সামনে একই সঙ্গে সুযোগ এবং ঝুঁকি রয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগ বাজার সম্প্রসারণে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু একই সময়ে দ্রুত বাড়তে থাকা উৎপাদন ক্ষমতা, অতিরিক্ত সরবরাহ, কমতে থাকা স্প্রেড এবং প্রযুক্তি আপগ্রেডের খরচ সংস্থাগুলির লাভজনকতার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

চারটি শেয়ারের ক্ষেত্রে অ্যাম্বিট ক্যাপিটালের মূল্যায়নও এক নয়। সুজলন এনার্জি ও সাত্ত্বিক গ্রিন এনার্জির জন্য ‘বাই’ এবং প্রিমিয়ার এনার্জিস ও এমভি ফোটোভোল্টাইক পাওয়ারের জন্য ‘সেল’ মতামত দেওয়া হয়েছে। তবে এগুলি ব্রোকারেজের গবেষণা-ভিত্তিক মতামত এবং লক্ষ্যমাত্রা। শেয়ারবাজারে প্রকৃত দাম ভবিষ্যতে কোম্পানির ফলাফল, শিল্পের পরিস্থিতি, মূল্যায়ন এবং অন্যান্য বাজারগত কারণের ওপর নির্ভর করবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *