শিক্ষকদের বিক্ষোভে ‘পালালেন’ হেডস্যর, রাতেও ঢুকতে গিয়ে বাধা, থানায় অভিযোগ
এই সময়, জলপাইগুড়ি: ছাত্র এবং প্রধান শিক্ষকের মধ্যে গন্ডগোলের পরে এ বার রিলিজ় অর্ডার নিয়ে ফের খবরের শিরোনামে জলপাইগুড়ির জেলা স্কুল। সরকারি ভাবে প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারইকে বদলির অর্ডার দেওয়া হলেও স্কুল থেকে রিলিজ় অর্ডার তিনি গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগ। এমনকী, সহকারী প্রধান শিক্ষক দিনবন্ধু ঘোষকে চার্জ বুঝিয়ে দেননি। যা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেনও তিনি এই ধরনের কাজ করছেন এবং সহকারী প্রধান শিক্ষককে চার্জ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে শনিবার স্কুলের শিক্ষকরা তাঁর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ধর্মুচাঁদ প্রথমে স্কুলের পিছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্ট করেন। কিন্তু ওই গেট বন্ধ থাকায় তিনি স্কুলের প্রধান গেট খুলে দিতে বলেন। কিন্তু তাঁর কথায় কেউ গুরুত্ব না দিলে গোটা স্কুল ঘুরতে থাকেন। শেষে এক শিক্ষকর্মীর উদ্যোগে গেট খুলে দেওয়া হলে তিনি বেরিয়ে যান। সেই সময়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।
সূত্রের খবর, আগামী সোমবার তিনি স্কুলে এসে রিলিজ় অর্ডার নিয়ে যাবেন। এ দিনই রাতে ফের স্কুলে ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন প্রধান শিক্ষক। চলতি মাসের ৮ তারিখ শিক্ষক দিবসের বিশেষ খাওয়াকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে কিছু ছাত্র এবং প্রধান শিক্ষকের মধ্যে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। ঘটনায় ছাত্রদের মারে মাথা ফাটে ধর্মচাঁদের। যদিও ছাত্রদের দাবি, বিনা কারণে প্রধান শিক্ষক মিড-ডে মিলের ঘরে ঢুকে দশম শ্রেণির তিন ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করেন। ছাত্ররা ঘটনার প্রতিবাদ করায় পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় প্রধান শিক্ষকের।
স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের নির্দেশে চার ছাত্রকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে গত ১৭তারিখ তাঁকে মেটেলির সরকারি মডেল স্কুলে বদলি করে বিকাশ ভবন। এ দিন জেলা স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ‘ওঁকে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি স্কুল ছেড়ে যেতে নারাজ। যে কারণে রিলিজ় অর্ডার গ্রহণ করেননি। সহকারী প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। কেন তিনি এটা করছেন, তা জানার জন্য সমস্ত শিক্ষক তাঁর কাছে যান। কিন্তু কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।’
সহকারী প্রধান শিক্ষক দিনবন্ধু ঘোষকে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ঘটনার খবর পেয়ে স্কুলে আসেন কয়েকজন প্রাক্তনী। তাঁদের মধ্যে শুভরায় বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, উনি নিজে রিলিজ নিতে না চাইলে তাঁকে যেন স্কুল থেকে যেতে বাধ্য করা হয়।’ রাতে দু’একজন সঙ্গীকে নিয়ে স্কুলের স্টাফ কোয়ার্টারে এক শিক্ষকের কাছে এসে চাবি চান ধর্মুচাঁদ। তিনি চাবি দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় তর্কাতর্কি।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কয়েকজন প্রাক্তনী এবং শিক্ষকরা তড়িঘড়ি স্কুল চত্বরে চলে আসেন। বিপদের আঁচ পেয়ে তার আগেই অবশ্য এলাকা ছাড়েন প্রধান শিক্ষক। পরে প্রাক্তনী ও শিক্ষকরা কোতোয়ালি থানায় এফআইআর দায়ের করেন।