রূপলেখা
শেষমেশ অনিকেতকে ফোন করব না করব না করেও করেই ফেললাম। অনিকেত আবার অফিসে ফোন করলে রেগে যায়। তাই ওকে সাধারণত আমি ফোন করি না, হোয়াটসঅ্যাপই করি। কী ভাগ্যিস হোয়াটসঅ্যাপের আমদানি হয়েছে! তা যাই হোক, শেষমেশ কপালে হাত ঠেকিয়ে ফোনটা করেই ফেললাম। যেহেতু সচরাচর ফোন করি না আমি, তাই অনিকেতও উদ্বেগের সঙ্গেই ফোনটা ধরল। ওকে রূপলেখার কথা বলতে অবশ্য চুপ মেরে গেল। ও কনফার্ম করল, হ্যাঁ এই মেয়েটির সঙ্গেই সাত্যকির সম্পর্ক ছিল।
অনিকেতের কাছে খুব শুনেছি রূপলেখার কথা। অনিকেত আর সাত্যকি দু’জনে খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। সেই হিন্দু স্কুলে পড়ার সময় থেকে, সেই ক্লাস ফাইভ থেকে। কলেজেও একই সঙ্গে পড়েছে, প্রেসিডেন্সিতে। তখন পরিচয় হয়েছিল রূপলেখার সঙ্গে, সাত্যকিদেরই এক বন্ধু মৃগাঙ্কর মাসতুতো বোন, শান্তিনিকেতনে পড়ত। মেয়েটা খুব ভালো গান করত, তার গানের স্টাইলটা একদম অন্য রকম ছিল। সাত্যকি প্রথমে ওর গানের প্রেমে পড়ে গেল, তার পর ওর। সাত্যকি সুপুরুষ ছিল, খুব ভালো কথা বলতে পারত, যে কোনও আড্ডা জমিয়ে দিতে পারত, মেয়েদের আকর্ষণ করতে পারত সহজেই। ঘন ঘন প্রেমে পড়া সাত্যকির অভ্যাস ছিল। প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সময়েই বিদিশার সঙ্গে এমন মাখামাখি, প্রেসিডেন্সি ছাড়িয়ে স্কটিশেও আলোচনার বিষয় হয়ে গিয়েছিল। বিদিশা ওদের চেয়ে এক বছর সিনিয়র ছিল। ক্যাম্পাসে বসে গাঁজা খাওয়া থেকে শুরু করে একসঙ্গে দু’জনে অনেক অপকর্ম করত। বছর দুয়েকের মাথায় তারা আলাদা হয়ে গিয়েছিল। মুখ দেখাদেখিও বন্ধ। এই সব ঘটনা নাকি সাত্যকিকে দিব্য মানিয়ে যেত।